Showing posts with label কলাম. Show all posts
Showing posts with label কলাম. Show all posts

Sunday, July 15, 2018

খোটা প্রথা সংস্কার চাই ।। মাসুদ পারভেজ

শিরোনাম দেখে চমকে উঠলেন? সবাই যখন কোটা সংস্কারের পক্ষে বিপক্ষে ব্যস্ত আমি তখন এই খোঁটা প্রথা নিয়ে একটু কথা বলি।

আমাদের বাড়ির পাশে একটি খাল আছে যার নাম টংকাবতী। শুকনো মৌসুমে ফসলি জমির নীচে বড় বালুচর জেগে ওঠে, যেখানে আমাদের গ্রাম পাশের গ্রাম ও দূরবর্তী গ্রাম থেকে দলবেঁধে ছেলেরা ফুটবল খেলতে আসতো। মাঠ দখল নিয়ে আমাদের সাথে প্রায়ই মারামারি লেগে থাকতো। সেখানে অবশ্য আমাদের আধিপত্য বিস্তার ছিল সবচেয়ে বেশি। তাই কথায় কথায় আমরা তাদের খোটা দিতাম যেন খালটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। এই খোটা-খুটির ব্যাপারটি আমার ও আমাদের কাছে প্রথাগত শিক্ষা। যা আমাদের পরিবার ও সমাজ থেকে শেখা। পরিবার থেকে শিখেছি বেশি কামাই করা ছেলেটা ও তার বউ বাকিদের খোঁটা দিয়ে বলবে সবাই তার কামাই থেকে বসে বসে খাচ্ছে, কথায় কথায় আরো কত কি। সমাজ থেকে শিখেছি সমাজের কর্তারা বলবে তাদের পুকুর সবাই ব্যবহার করছে, তাদের বাপ-দাদার জমির উপর করে দেওয়া রাস্তায় সবাই হাঁটছে, তাদের বানানো মসজিদে সবাই নামাজ পড়ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই আমরাও তাদের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে সেগুলো নিয়মিত চর্চা করতাম। কারো সাথে একটু মনোমালিন্য হলেই বলতাম "আমাদের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে দেখিস, ট্যাং ভেঙে দিব"।

এই খোটা প্রথা বহুল প্রচলিত একটি প্রথা যা ব্যাক্তি, পরিবার, সমাজ থেকে রাষ্ট্রতে উন্নীত হয়ে ১৫টাকার সিট ও ৩৮টাকার পর্যন্ত চলে গেছে।

তবে খোটা দুই ধরনের হয়ে থাকে_
এক//
নিজের ব্যাক্তিগত সম্পূর্ণ মালিকানা বা আংশিক মালিকানার সম্পদ ব্যবহার করায় খোটা দেওয়া ।
দুই//
সমষ্টিগত মালিকানার দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে বা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে খোটা দেওয়া।

তবে প্রথম খোটার কিছু যৌক্তিকা থাকলেও দ্বিতীয়টা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বা বেয়াক্কেলর মত বলা যেতে পারে। এই অযৌক্তিক খোটা যে ক্রমবর্ধমান হারে বেড়ে চলছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

তাই এই খোটা-খুটির বিষয়ে আমার মনে হয় সংস্কার জরুরি। আমি বলছি না একদম বাদ দিতে,যেহেতু এটি একটি ঐতিহ্যগত প্রথা তাই এটি থাকুক এবং মানুষ মানুষকে যৌক্তিক খোটা দিক।
কবি ও সংগঠক মাসুদ পারভেজ

Thursday, June 14, 2018

ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান


১৯০৪ সালে ফিফা (ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনাল ডি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ফিফার প্রচেষ্টায় ১৯০৮ সালে অলিম্পিকে ফুটবল প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাবে খেলার মর্যাদা লাভ করে। তারপর ১৯২৮ সালে ফিফার প্রথম সভাপতি জুলেরিমে অলিম্পিকের বাহিরে একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করেন। পরবর্তীতে সে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে সর্বপ্রথম ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে ফিফার প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ আসর অনুষ্ঠিত হয়। সেই বছর স্বাগতিক দল উরুগুয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ী হয়। ফিফার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি চার বছর অন্তর অন্তর ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করা হবে এবং সেটি এখনও চলমান আছে। কেবলমাত্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজন বন্ধ ছিল।

ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম আয়োজক ও ফিফার প্রথম সভাপতির নামানুসারে এই কাপের নাম ছিল "জুলেরিমে ট্রফি"। তখনকার নিয়ম অনুযায়ী, যে দল সর্বাধিক ৩ বার জুলেরিমে ট্রফি বিজয়ী হবে, জুলেরিমে  ট্রফি চিরতরে তার হয়ে যাবে। ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালে ব্রাজিল সর্বাধিক তিন বার বিশ্বকাপ ফুটবলে শিরোপা জেতার কারণে জুলেরিমে ট্রফি তাদের চিরদিনের জন্য দিয়ে দেওয়া হয়। যদিও ব্রাজিল সেই জুলেরিমে ট্রফি চিরতরে নিজেদের করে রাখতে পারে নাই। ১৯৮৩ সালে এই জুলেরিমে ট্রফিটি ব্রাজিল থেকে চুরি হয়ে যায়। ১৯৭৪ সালে থেকে জুলেরিমে ট্রফি নাম বদল করে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি নামে প্রচলিত আছে।

১৯৩০-২০১৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বকাপ ফুটবলের মোট ২০টি আসর বসেছে। এই ২০টি আসরে সর্বাধিক ৫ বার শিরোপা জিতেছে ব্রাজিল, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪ বার শিরোপা জিতেছে জার্মানি ও ইতালি, তৃতীয় সর্বোচ্চ শিরোপা জিতেছে উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা। এছাড়াও ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও স্পেন একবার করে শিরোপা জিতেছে।

বিশ্বকাপ ফুটবলে সর্বাধিক দশের উপরে গোলদাতা হচ্ছে, মিরোস্লাভ ক্লোসা (জার্মানি)- ১৬ গোল, রোনালদো (ব্রাজিল)- ১৫ গোল, গার্ড মুলার (জার্মানি)- ১৪ গোল, জাঁ ফতেইন (ফ্রান্স)- ১৩ গোল, পেলে (ব্রাজিল)- ১২ গোল, ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান (জার্মানি) ও স্যান্ডোর ক্রুসিস (স্পেন)- ১১ গোল।

২০০২ সালে জাপান-কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তুরস্কের তারকা স্ট্রাইকার হাকান শুকুর খেলা শুরু হওয়ার মাত্র ১১ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে হতভম্ব করে দিয়েছিলেন প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়দের। এখন পর্যন্ত এটাই বিশ্বকাপ ফুটবলে সবচেয়ে দ্রুততম গোল।

বিশ্বকাপ ফুটবলে সবচেয়ে হতভাগা দল হচ্ছে নেদারল্যান্ড, যারা তিনবার বিশ্বকাপ ফাইনালে অংশগ্রহণ করেও এখন পর্যন্ত শিরোপা বিজয়ী হতে পারে নাই।

তথ্যসূত্রঃ ইউকিপিডিয়া।
সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান (কবি, সংগঠক ও সম্পাদক)

Wednesday, June 13, 2018

প্রবাসে ঈদ মানে বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখা ছাপা ব্যথা ।। জোসনা হক

এক মাস সিয়ামের পর খুশির আমেজ নিয়ে আসে ঈদ।
এই ঈদ উদযাপন করার অধিকার সবার আছে। বছরের পর বছর এই সুদূর প্রবাসে পরিবারের সুখের জন্য দিনযাপন করে যাচ্ছে অনেক প্রবাসী। এমন অনেক প্রবাসী আছেন, পরিবারের সাথে ঈদ করছেনা অনেক বছর। ইচ্ছে করছেনা এমন না, জীবনের প্রয়োজনের তাগিদে বাধ্য করেছে ঈদের খুশির দিন গুলোতে প্রিয়জন থেকে দূরে থাকতে। ঈদ বা  বিশেষ দিন গুলোতে প্রবাসীরা কত যে কষ্টে দিন গুলো পার করে একমাত্র উপর ওয়ালা জানে। চাঁদরাত পর্যন্ত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের পর, ঈদের নামাজ শেষে দু-একজন বন্ধু-বান্ধবের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর ভারাক্রান্ত মন নিয়ে যখন বাসায় এসে ক্লান্ত দেহখানি বিছানায় এলিয়ে দেয়, ঠিক তখনি মনে পড়ে প্রিয়জনদের কথা। ইচ্ছে হয় উঁড়াল দিয়ে চলে যাই কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, চাইলে তো আর যাওয়া যায়না। এই যেতে না পারার পেছনে সফলতার চেয়ে হাজারো ব্যর্থতার গল্প আছে। ভাগ্যে আর জীবনের সাথে সমঝোতা করে, চোখের কোণে লোনাজল গুলো মুছে মোবাইলটা হাতে নিয়ে ফোন করে প্রিয়জনদের। সব ব্যথা লুকিয়ে উৎফুল্ল কণ্ঠে বলে মা, ঈদ মোবারক, ঈদের নামাজ পড়ে আসলাম। মা, তোমরা সবাই সব কিছু নিয়েছো তো? এইবার ঈদে বাড়ীতে কি রান্না হবে, ভাই-বোন-ছেলে-মেয়ে সবাই খুশি হয়েছে কি?
অপরপ্রান্ত থেকে কি জবাব আসে আমাদের সকলের জানা আছে। কষ্টটা আর থাকেনা, আনন্দ বেড়ে যায় সবার খুশির কথা শুনে। বিছনায় এপাশ ওপাশ করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম থেকে উঠে যাদের বন্ধু-বান্ধব আছে তাদের নিয়ে সন্ধ্যার দিকে লোহিত সাগর প্রান্তে আড্ডায় মেতে উঠে। আবার অনেকে আছে ঈদের দিনেও কর্মস্থলে ফিরে যেতে হয়।
 জীবন বাস্তবতায় অনেক প্রবাসীর স্বপ্ন, আশা, চাওয়া-পাওয়া ঘুমিয়ে পড়ে বুকের ভেতর নিরবে, নিভৃতে। স্বপ্ন গুলো কেবল দুচোখে সীমাবদ্ধ, আশা গুলো নিরাশার কাফনে মুড়ানো, চাওয়া গুলো ঠিকানাবিহীন,পাওয়া গুলো সংকীর্ণ।
মরুকবি ও সংগঠক জোসনা হক