Showing posts with label নির্বাচিত কবিতা. Show all posts
Showing posts with label নির্বাচিত কবিতা. Show all posts

Tuesday, April 2, 2019

হঠাৎ মেঘ ।। জিয়াউর রহমান

গোধূলি লগ্ন ঘনিয়ে এলো প্রকৃতির আকাশ ছুঁয়ে
গুমোট বাতাসে গুড়গুড় মেঘ দিচ্ছে প্রকৃতি ধুঁয়ে।
মাঝে মাঝে দমকা হাওয়ায় শিরশির করে দেহ
তপ্ত বায়ু মেঘ এনেছে জানতে পারেনি কেহ।

হঠাৎ করে ধুলোঝড় এলো সারা আকাশ জুড়ে
জানালা দরজা আছড়ে পড়ে ভাঙে গরীবের কুঁড়ে।
গোধূলির মেঘ সরে গিয়েই বৃষ্টির মেঘ এলো
বজ্রনিনাদে হুংকার এসে প্রকৃতি শাসিয়ে গেল।

একটানা মেঘ বারী দিয়েই শান্ত করলো ধরা
উদাসী সন্ধ্যের মোহনীয় মেম একে দিয়ে গেল খরা!
শান্ত ধরা'য় অশান্ত মন পিছন ফিরে চাই
প্রকৃতির বুকে ভিন্নতার মাঝে শান্তি খুঁজে যাই।

রুদ্ররূপে যে মেঘ আসে বারীও ঢেলে দেয় সেই
একই আকাশ ফুটো হলেও তারা'রা হারায়না খেই।
প্রকৃতির কাছে আদর আছে শাসনেও সে কম নয়
মানুষের কাছে কি আর আছে অহংকারে বুঁদ হয়?

ভাবতে বসে একা লাগে প্রকৃতি চেয়ে দেখি
জীবন ধারণে আমিত্ব নয় মহত্ত্বের কথা লেখি।
সর্বজ্ঞানী মহান যিনি বানিয়েছেন এই ধরা
ফেরার জন্য তৈরী হওয়া আমাদের সবার ত্বরা।
..........................
শেওড়াপাড়া, ঢাকা।
কবি জিয়াউর রহমান 

আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।। মাসুদ পারভেজ

আমার জ্ঞান উত্কর্ষতা এতোই বিস্তৃত আমি স্রষ্টাকে খুঁজে পাই না,
হে জ্ঞান আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
আমার প্রখর দৃষ্টি অভেদ্য অসুন্দরের পূজার পূজারি করেছে নিজেকে,
হে দৃষ্টি আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
আমার প্রযুক্তি সবুজ প্রকৃতি বিনষ্ট করে অট্টালিকার আকাশে ছাদ করেছে,
হে প্রকৃতি আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
আমার ক্ষমতা আমাকে আলাদা করে করেছে মানুষ নামের প্রাণী থেকে,
হে সময় আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
আমার শিক্ষা মানবতার উল্টো পিটে চড়া ব্যবসার মালিকানা দিয়েছে,
হে শিক্ষা আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
আমার আদর্শ ভুল চেতনার উত্তরাধিকারের মশাল দিয়েছে হাতে,
হে পথ আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
আমার বিশ্বাস আমাকে মানিয়ে নিয়েছে আমিত্বের সর্বোচ্চ শিখরে,
হে বিশ্বাস আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
হে বিবেক আমাকে তুচ্ছ হতে শেখাও প্রতিটি বিমুগ্ধ মুহূর্ত হতে,
হে তুচ্ছ বিবেককে জাগ্রত করে দাও।
কবি ও সংগঠক মাসুদ পারভেজ

নারী ।। খাদিজা বেগম কান্তা

নও তুমি শুধু কামনার ফুল
নও তুমি তৃষ্ণার্ত ভ্রমরের বোল
নও তুমি শিহরিত মানস প্রিয়া
তুমি আজ বিমূর্ত মানবের কূল।

বিজন নিশীথে কাঁদবেনা আর
প্রজ্বলিত হও দহনে দূর্বার
তুমি শক্তি, তুমি শৌর্য তুমি বিমুক্ত অপার
জাগ নারী কম্পিত বজ্র নিনাদ।

নিজ মহিমায় প্রজ্বলিত তুমি
ধর কাণ্ডারি অশ্রু বিদায়ী
নও তুমি সামগ্রী নিঠুর পণ্য
দানবের তরে হও বজ্র কণ্ঠি।

অভিন্ন চারণে হও আগুয়ান
নও তুমি নারী শুধু হও গো মহান
মানবের তরে হও মাতৃ জায়া
বিদুষী, হরষে রাখি সঞ্চিত মায়া।

অদৃশ্য কারাগার শৃঙ্খলিত বেড়ী
গুড়িয়ে দাও নির্ভয়ে জড়তা ছাড়ি
সাম্যের জয়গানে হও গো সামিল
ঘরে বাহিরে হও মহীয়সী নারী।।
কবি খাদিজা বেগম কান্তা

সুখ পাখি ।। সাজিয়া আফরিন

সুখ পাখি তুই এতই উড়িস!
ধার দিবি তোর ডানা দু’টো?
ইচ্ছে মত উড়বো আমি,
ফেরত দেবো দু’দিন পরে।

আকাশ জুড়ে উড়বো আর
বলবো আমি সাত সতেরো
গপ্পো তোদের
সুখ পাখি, দিবি নাকি
তোর ডানা দু’টো?
আয়েশ করে তোকে বসতে দেবো
উষ্ণ নরম আসন দেবো
যা খেতে চাস খেতে দেবো
মিষ্টি মধুর ভরে আমার দু’মুঠো
ধার দিবি তোর ডানা দু’টো?

হরেক মনের খবর এনে দেবো
দে না ভাই তোর ডানা দু’টো!
তোকে আমি স্বপ্ন দেবো,
স্বপ্ন রঙিন পরিসর দেবো
ভালোবাসার কবিতা দেবো
উপমা-অনুপ্রাস উৎপ্রেক্ষা দেবো
তাল, লয়, ছন্দ দেবো, গানও দেবো ।

যা গানের সাথে সুরও দেবো
এবার দে তোর ডানা দু’টো।
কবি সাজিয়া আফরিন
সম্পাদক, আকাশছোঁয়া।

Monday, April 1, 2019

আগুন শহর ।। রফিকুল নাজিম

আগুন শহর
রফিকুল নাজিম

আগুন নিয়ে খেলছি আমরা -আগুন আগুন খেলা
আগুন হাতে হাঁটছে আমরা-রাস্তা থেকে অলিগলি,
আগুন পাখি উড়ছে একাই শহর থেকে শহরতলি
মরছে মানুষ ধুকছে মানুষ- লাশের মিছিল গলাগলি!

আগুন হাতে খেলছি আমরা -আগুন আগুন খেলা
বুক পকেটে আগুন পাখি-বুকের ভিতর পুষে রাখি,
জ্বলছে আগুন জ্বলবে আগুন-পুড়বে শহর বাগান
আগুন রঙে তুলির ঢঙে আগুন লাশের ছবি আঁকি।

আগুন হাতে দিনেরাতে ঘুরছি পার্কে সেমিনারে
আগুন বিছানায় আরামসে শুয়ে ঘুমায় ভাত ঘুম
আগুনের কোলে পড়ছে ঢলে,মেনে নেয় হত্যারে
আগুনের বুকে কী মহাসুখে-শীতল মৃত্যুর চুম!

আগুন চোখে দেখছি আমরা-আগুন আগুন খেলা
আগুন পানি পিপাসায় জানি-মানুষের তেষ্টা মিটায়!
আগুন মিটিং আগুন মিছিল আগুন শ্লোগান গলায়
লালফিতার তদন্ত কমিটির ফাইলে আগুন ঘুমায়।

আগুন দেখো পুরান ঢাকা নিমতলী আর চুড়িহাট্টা
আগুন দেখো বনানী আজ-আহা আগুন খেলা!
আগুন সঙ্গমে আগুনই জন্মে-আগুন আগুন ঠাট্টা
আগুন শহরে পুড়েছে বোধ-পুড়ছে প্রাণের মেলা!
___________________________________________
তারিখঃ ২৯ মার্চ,২০১৯.
উত্তর বাজার
চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ।
কবি রফিকুল নাজিম।
                                     

Monday, July 30, 2018

সব তোমারি জন্য ।। কুমকুম খাতুন

যেদিন অচেনা গন্তব্যে নির্জন পথে একা নিশীথে,
পথ চলেছিলাম আমি,
বারবার সে অন্ধকারাচ্ছন্ন পথে বৃক্ষরাজির সাথে
মাথা ঠুকতে ঠুকতে পথ এগুচ্ছিলাম
ঠিক সে সময়-ই তুমি এসে হাত ধরে বললে
চলো কিছুটা পথ এগিয়ে দেই তোমায়।
আর তখনি ঘনানো অন্ধকার কেটে
আলোকময় হলো ধরা..
মন থেকে মুছে গেলো সব সংশয়,
শুধুই তোমাকে কাছে পেয়ে।

জোনাকপোকাদের কানে ফিসফিস করে বললাম-
তোমরা কি পারোনা আমার প্রিয় ও আমার
চলার পথ আলোকিত করতে?
জোনাকপোকারা বলতে লাগলো আরে বন্ধু কুমু!
কোথা থেকে এলে তুমি?
কতদিন তোমায় দেখিনা..
আর কিছু বলে ওঠার আগেই
 জ্বলজ্বল আলোয় জ্বালিয়ে দিলো ধরা।
সবকিছুই তো তোমারি জন্যে।

ক্ষণ পরে চাঁদ ও এসে বলতে লাগলো বন্ধু,
প্রিয়কে নিয়ে এসেছো?
রাতের আঁধারে আলোকিত উন্মুক্ত পৃথিবী
শুধুই তোমার প্রিয়'র জন্যে।
ভাবতে কি কখনও চাঁদও হয়ে যাবে এতোটা আপন?
তুমি এসে হাতে হাত ধরলে-
স্নিগ্ধ শীতল হাওয়া ছুঁয়ে গেলো দু'জনের শরীর।
সব তোমারি জন্য...
শুধুই তোমারি জন্য।
ভোরের পাখিরাও গুঞ্জন শুরু করলো,
আরো মধুর সুরে শুধু তুমি আমার প্রিয় বলে।
সূর্যটা আরো রক্তিম আভায় উদয় হলো।
ভালোবাসার রং তো সব সময় লাল হয় তাইনা?
তাই তো সূর্যটাও আমাদের এ ভালোবাসাকে
সাদরে গ্রহণ করে রাঙ্গালো তার শরীর।
সবটাই তোমারি জন্য,
শুধুই তোমারি জন্য।
খরতপ্ত দুপুর তার তপ্ততা কমিয়ে শীতল করলো পৃথিবীকে।
তুমি আমার প্রিয় বলেই স্রোতস্বিনী নদী
ঝিলমিল বেগে বয়ে চলে।
সন্ধ্যাতারা জ্বলে জ্বলে শুধু তোমার কথাই বলে-
যেন কখনও কোনো কষ্ট না দেই তোমায়।
সব তো তোমারি জন্য, শুধুই তোমারি জন্য।
কবি কুমকুম খাতুন

Sunday, July 29, 2018

বিষাক্ত খঞ্জর ।। ইউনুছ আকমাল

আজন্ম হেঁটেছি যে পথ ধরে নির্ভয়ে,
যে পথের প্রতিটি বালিকণা গায়ে মাখতাম,
কিংবা লকলকে সবুজাভ দূর্বাঘাসের
চিকচিক করা শিশির পায়ে যেতো ল্যাপ্টে,
সবই তো ছিল অতি আপন;
সে পথ আজ অজানা অচেনা,
সেখানে আজ হিংস্র হায়নাদের অভয়ারন্য,
বিষধর সাপগুলো ফনা তুলে বসে আছে
ছোবল দেবার অপেক্ষায়।

চেনা পথই আজ অচেনা,
পরিচিত মানুষগুলোও মানুষের কাতারে নেই!
সবকিছুই হয়ে গিয়েছে বিপদসংকুল ;
এখন এ পথে পা বাড়াতেও ভয় লাগে,
মানুষের সাথে কথা বলতেও বুক কাঁপে!
সংকিত থাকি সর্বদা---
অযাচিত কোন জঞ্জাল কিংবা বিপদের আশঙ্কায়।

অনেক হয়েছে ছলনা আর প্রতারনার খেলা,
অনেক হয়েছে মিথ্যা অভিনয় রঙ মঞ্চে।
এখানে চলে শুভ্র বুকে বিষাক্ত খঞ্জর
আর্তচিৎকার শুনে কেউ আসে না,
রক্তে রঞ্জিত ক্ষত বিক্ষত নিথর দেহ পড়ে থাকে;
কেউ করে না প্রতিবাদ,
প্রতিবাদী কণ্ঠ আজ কারারুদ্ধ,
পর্দার আড়াল রচিত হচ্ছে বিনাশী চিত্রনাট্য।

বিহগলে বাজছে করুন সুর,
ধুঁকে ধুঁকে কাঁদছে বঙ্গ জননী আমার!
খঞ্জরের আঘাতে রাজপথ রক্তে রঞ্জিত,
হোক কোন দুঃখ নেই,আসবো ফিরে বারবার
বঙ্গ জননীর নারিছেড়া সন্তান হারানোর কান্নার প্রতিটি ফুটায়
জন্ম নিতেই থাকবো আমি শত সহস্রবার,
এবং তা' চলতেই থাকবে বিরামহীন,অনন্তকাল।।
কবি ও সংগঠক ইউনুছ আকমাল

আমার এক জীবনের গল্প ।। মাসুদ পারভেজ

তোমার শুনতে না চাওয়া একটি রাতের গল্প,
চাঁদ তারা আকাশ;
বেসুরে জ্বলতে থাকা জোনাকির কষ্ট ।
হাজার বছরে খুঁজে নেওয়া পথ হারিয়ে যাওয়ার ঠিকানা,
আবেগের সীমানার দেয়াল পেরিয়ে অর্থহীন জীবনের সূচনা।
আমার এক জীবনের গল্প ।।

তোমার সহজে ভুলে যাওয়া একটি রাতের গল্প,
পরিচয় প্রণয় প্রেম;
বেঘোরে ডুবতে থাকা হৃদয়ের কষ্ট।
অনিচ্ছার মিছিলে তেড়ে আসা ভুলগুলোর ভুল আরাধনা,
ব্যবধানের সুতো মেপে মেপে দিনক্ষণ গুনে রাখার যাতনা ।
আমার এক জীবনের গল্প ।।

তোমার সহজে মুছে দেওয়া একটি রাতের গল্প,
ডায়েরি চিঠি চিরকুট,
ধুলো পরা ছেঁড়া পুরানো কথার কষ্ট।
পাতায় পাতায় স্মৃতির বুনন বেশ রিষ্টপুষ্ট হৃদয়ের চারিপাশ,
সোনালি গোধূলি শুরু করে দেয় আঁধারের মাঝে রাতের বাস।
আমার এক জীবনের গল্প।।

তোমার একটু ফিরে না চাওয়া একটি রাতের গল্প।
দিন রাত সারাবেলা;
অনেকদিনের না লিখা এক কবিতার কষ্ট।
অভিমানী শব্দগুচ্ছ আর কখনোই সুর হয়ে ওঠেনি কারো ঠোঁটে ,
বেলা অবেলার স্বপ্নগুলো পথ পেরিয়ে কখন যেন অন্য বাগানে ফোটে।
আমার এক জীবনের গল্প।।
কবি ও সংগঠক মাসুদ পারভেজ

Tuesday, July 24, 2018

শুনতে কি পাচ্ছো? ।। কুমকুম খাতুন

এই তুমি কি এখনও ঘুমিয়ে আছো?
ওঠো না..আসো দু'জন হাত ধরে
শিশিরভেজা দূর্বা ঘাসের উপর দিয়ে একটু হাঁটি।
যে শিশির উষ্ণ পায়ে স্পর্শ করা মাত্র
পা শিহরিত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে  পরতেই
বাহুডোরে জড়িয়ে নেবে আমায়।
আমিও শিহরিত হয়ে আরো শক্ত করে
এই বুকে জড়াবো তোমায়।
এই শুনতে কি পাচ্ছো?
নাকি এখনও ঘুমিয়ে..?
ওঠোনা..উঠে চলে আসো,
কাছাকাছি থেকে অতিক্রম করি
সুখময়, প্রীতিময় কিছু সময়।

উৎসর্গ : রোকন পাশা..
কবি কুমকুম খাতুন

Wednesday, June 13, 2018

ঈদ মানে ।। ফাতিমা জহুরা ময়না

ঈদ মানে নয় শুধু আনন্দের সাতকাহন
ঈদ মানে নয় শুধু খাবারের আয়োজন!

ঈদ মানে কলহ বিবাদের সমঝোতার দিন
ঈদ মানে এই দিন তাই অনিন্দ্য রঙ্গিন!

ঈদ মানে পবিএ দিনের মর্যাদাশালী হওয়া
ঈদ মানে আত্মীয়ের খোঁজ খবর নেওয়া!

ঈদ মানে দুঃখীর মনে দেবো প্রজাপতি বাড়ি
ঈদ মানে তইতো পূর্ণীর পাল্লাটা ও ভারী

ঈদ মানে বিষাদের সাথে, নিরন্তর আড়ি
ঈদ মানে তাই আজ, প্রজাপতি হয়ে উড়ি!
কবি ফাতেমা জহুরা ময়না

Wednesday, June 6, 2018

বিষাদিত নির্ঘুম রাত ।। ইউনুছ আকমাল

চারিধার সুন সান,আঁধারে ঢাকা,
নেই কোন উচ্ছ্বাস,নেই খুশির ফোয়ারা,
পৃথিবীর সব কিছুই যেন বিষাদিত:
তোমার চলে যাওয়াতেই হয়তো।

কি অপরাধ ছিল-চন্দনা!
নিঃস্ব করে চলে গিয়েছো বহু দূরে,
দুঃখের সাথে আজ পরম আত্মীয়তা;
ঘুমহীন রাতের পাখির মতো-
এপাশ ওপাশ গড়া গড়ি দিয়ে
পাড়ি দিচ্ছি রাতের কষ্টের নদী।

কেন এমন করলে- চন্দনা!
কেন করলে এমন প্রতারণা?
ভাসিয়ে আমায় অকূল পাথারে,
আছো তুমি দৃষ্টির আড়ালে।

তোমার শূন্যতা পীড়া দিচ্ছে বারবার,
কোন কিছুই লাগে না ভালো,
বিষন্নতায় বসে না মন কোন কাজে;
আছো তুমি ভাবনায় সারাক্ষণ।

বিষাদিত আঁধার আমাকে ছেয়ে আছে,
মুক্তির পথ খুঁজি,পালাবার পথ নেই,
কারণে-অকারণে আঁধারের পানে-
ধূসর দৃষ্টি,ঝাপসা অতীত,
এ কোন মরণ খেলায় অন্তঃক্ষরা!!
কবি ও সংগঠক ইউনুছ আকমাল

শুধু একটি কবিতার প্রতিক্ষায় ।। রোকসানা সুখী

নিত্যই!!
শুধু একটি কবিতার প্রতিক্ষায়-
কতযুগ কাটিয়েছি  নির্ঘুম?
চাঁদ-তারারাও অপেক্ষার প্রহর কেটে কেটে লুকিয়েছে অমাবস্যার আঁধারে।
মুক্ত বাতাসও নৃত্যের ঝংকার তুলে তুলে আজ বড্ড ক্লান্ত।
দিবালোকের সূর্যরাজা সময়ের কাঁটায় হেঁটে হেঁটে চলেছে নির্বাসনে
নীল আকাশের ছটফটে পাখিরাও হতাশার গ্লানি মেখে মেখে মুখ গুজেছে আপন পালকে।
জানো নিত্যই!!
শুধু একটি কবিতার প্রতিক্ষায়!!
বিন্দু বিন্দু অশ্রুকণারা শুষ্ক মৃত্তিকাকে পরিয়েছে কর্দমার কাপড়।
ভোরের সদ্য ফোঁটা জুঁই চামেলিরাও একাকিত্বের বাসরে কেঁদে কেঁদে হয়েছে নিষ্প্রাণ
একটি কবিতার প্রতিক্ষায়!!
স্রোতস্বিনী সুরমা কলকলধ্বনিতে শত শতাব্দীকাল তুলেনা তুমুল সুর।
 পাখিরাও কুঞ্জুবনে কলতানের কাঁকন বাজিয়ে বাজিয়ে হতাশার হাতিয়ারে নিষ্ফলক নিশ্চুপ।
রাখালিয়া বাঁশরীও যুগ-যুগান্তরের চক্রগতিতে নেচে নেচে হয়েছে বিলীন ।
শুধু একটি কবিতা প্রতিক্ষায়!!
 হাহাকারের তাণ্ডবে পাথরের প্রতিচ্ছবি ধারণ করেছে আমার ব্যাকুল বুক।
শুষ্ক ঝর্নার নিঁখুদ ছবিও এঁকেছে আমার কাঁচা কাজল দিগন্ত দু'চোখ।
শরীরের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে বিষাদের উইপোকারা খুঁজে নিয়েছে আপন সুখ।

শুধু একটি কবিতা লিখবো বলে-
জানো নিত্যই!!
নির্ঘুম অভিমানী অক্ষরগুলো কিলবিল করে খুঁজে তোমার সুঠাম বুক।
খুঁজে ফিরে নিঁখুদ ভাস্কর্যের কারুকাজে আঁকা সেই চির চেনা সুশ্রী মুখ।
খুঁজে ফিরে আজো সেই রংধনুর সাত রঙে রঞ্জিত সোনালি স্বপ্নিল পুল।
বিশ্বাস করো নিত্যই!!
আজো শুধু একটি কবিতার প্রতিক্ষায়!!

১৯-৪-২০১৭
বিকাল ৪টায়।
কবি, সংগঠক ও প্রকাশক রোকসানা সুখী

Sunday, June 3, 2018

দেশে আজ নব্য বর্গী ।। মীম মিজান

আমি চাই না একদিনের ভালোবাসা,
চাই না একদিনের গায়ে মাখানো দেশপ্রেম,
স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত একটি সন্ধ্যার ত্যাগ,
গালে, বুকে, পেটে আঁকানো সাময়িক পেঁজা তুলোর উৎসর্গ।
আত্নায় করি লালন ধারকরা সংস্কৃতি,
পারি না বলতে শুদ্ধভাবে একটি বাক্য নিজ মাতৃভাষায়,
বাংলা বর্ণকে করেছি অন্যবর্ণে বিলীন,
পরনে নেই কোন বাঙালিয়ানার পরিচ্ছদ,
চুল, দাড়ির ঢং বিলেতি,
খাদ্য-পানীয়তে তো ছোঁয়াও নেই দেশজের।
একদিনে সারাবিশ্বকে জানিয়ে দিব আমার কতটা দেশপ্রেম,
এ রকম কি জানিয়েছিল রফিক, বরকতেরা?
এ রকম কি করেছিল মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর, মোস্তফা কামালেরা,
কিংবা ভাষার স্বীকৃতির সেই সংগঠক রফিক ও আব্দুস সালামেরা।
রক্তের অনু কনিকায়,
ধমনীতে, শ্বাস-প্রশ্বাসে, প্রক্ষোভে, লিখনিতে, চিন্তাতে,
এভাবে করে ধারন ও লালন তারা এঁটে দিয়েছিল কুলুপ ওই বেনিয়া ও জোচ্চোরদের মুখে।
দিতে প্রাণ জাতীর তরে,
করতে বলিদান নিজের সখ-আহ্লাদকে,
করেনি তো একটুও চিন্তা।
নজরুল, ক্ষুদিরামেরা লড়েছে স্বাধীকারের জন্য,
আর আমরা লড়ি কার বিরুদ্ধে?
স্লোগান দেই কার বিরুদ্ধে?
দেশমাতা তুমি কি আজ সার্বভৌমত্ব পেয়েছ?
নাকি এখনো তোমার বক্ষে বিচরণ নব্য বর্গীদের?
তবে কেন আজ গায়ে মাখি লাল-সবুজের রং,
মুখপুস্তিকায় কেন ধরি দেশপ্রেমিকের ঢং?
ছুড়ে মারো তোমার ঐ ভণ্ডামী,
মুছে ফেল তোমার ঐ নোংরামী,
আসো আবার ধরি নজরুলের কলম,
ক্ষুদিরামের বোমা,
তাড়াই ঐ নব্য বর্গী
হই খাঁটি দেশপ্রেমিক।
মীম মিজান  (কবি, প্রাবন্ধিক ও সংগঠক)

Saturday, June 2, 2018

চিঠি লেখে শ্যাম ।। কামাল আহমেদ

খোয়াই গাঙ্গের ভাঙা পাড়ে
সাধের বসত গড়িলাম,
তাহার পাড়ে উজান দেশে
সুজন শ্যামসখা ধাম।

পাল উড়ায়ে নৌকা ছাড়ে,
হংস পাঠায় সারে সারে,
অচিনপুরের ওপাশ হতে
নিতি চিঠি লেখে শ্যাম।

নায়ের পালে, হংস দলে,
ভেসে আসা ঢেউয়ের জলে
লেখা পড়ে প্রেমে মজে 
আমার মন পোড়িলাম।

উজান পথে কেউ নাগো যায়,
চিঠি আমার শ্যাম নাহি পায়,
পোড়া মনের কেমন বেদন-
তারে কেমনে দেখাইতাম।

আকাশ পথের বলাকা দল,
উড়ে চলা মেঘমালা বল-
কেমনে পাই শ্যাম দরশন,
না দেখে যে ভালবাসিলাম।
                                       
আম্রকুঞ্জ, রাজার বাজার, হবিগঞ্জ।
কামাল আহমেদ  (কবি, প্রবন্ধকার ও সংগঠক)

এপাড় ওপাড় ।। ইউনুছ আকমাল

ওপাড়ে তোমায় পাইনি আমি!
তা'তে আমার কোন দুঃখ নেই।
হাজারো কষ্টে বুকটা ঝাঁঝরা করে
চলে আসলাম এপাড়ে একটু আগেই,
তা'তেও আমার দুঃখ নেই;
এপাড়ে যখন দেখা হবে-
তখন না হয় প্রেম করবো আবারো দু'জন।

এপাড়ে নেই কোন ধনী গরীবের অজুহাত,
কিংবা বর্ণ বৈষম্যের পর্বতসম প্রাচীর;
সবাই একই জাত,একই পথের যাত্রী।
ওপাড়ে যত কষ্ট পেয়েছি জাত পাতের দোহাই দিয়ে,
এপাড়ে নেই কোন দাম্ভিকতা,
নেই তীর্যক আস্ফালন।
আমার আত্মা তখনই একটু শান্ত হবে
যখন তোমার মায়াবী স্পর্শ পাবে।
তুমি আসবে যখন এপাড়ে-
আমার অতৃপ্ত আত্মা তোমার গায়ের গন্ধ শুঁকে শুঁকে
ঠিক বের করে নেবে তোমায়;
দেখে নিও একটুও ভুল হবে না।
আর কেউ বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে না নির্মমতায়,
ভেঙ্গে যাবে ধনী গরীবের সকল প্রাচীর,
ভেঙ্গে যাবে মিথ্যা আভিজাত্যের অট্রালিকা,
থাকবে না কোন বংশ-পদবী।

অপেক্ষায় আছি,থাকবো বছরের পর বছর!
তোমার আগমন ঘটবে যেদিন এপাড়ে,
সেদিনই হবো দু'জন অনন্তকালের সঙ্গী;
স্বর্গসুখের ভেলায় চড়ে দু'জন
মুক্ত বিহঙ্গের মতো করবো বিচরন।।

গাদিশাল,চুনারুঘাট,হবিগঞ্জ।
তারিখঃ ২২-০২-২০১৮ খ্রিঃ
কবি ও সংগঠক ইউনুছ আকমাল

Wednesday, May 30, 2018

অপরাজিতা ।। জোছনা হক


রাস্তার ল্যাম্প পোস্টটা তখনও জ্বলছে প্রতিদিনের মতো, 
আমি তখন আমার ঝুল বারান্দায় হাতে কলম,
কাগজ নিয়ে পায়চারী করে যাচ্ছি অবিরত, 
মাথায় আসছেনা,আটকে আছে সব কথাগুলো গলার কাছে। 
আবার উঁকি দিয়ে দেখি পোস্ট লাইটের দিকে,
যখন দেখি মনে হয় এই শুনশান শহরের পোস্ট লাইটি আমার শেষ প্রেরণা। 
আমার যখন পাশে কোন সঙ্গী, একটি হাত প্রয়োজন, 
তখন সময়ের বন্ধুদের ছায়া পর্যন্ত খোঁজে পাইনা। 
নীল চাঁদরে, ধোঁয়াটে কুয়াশা ল্যাম্প পোস্টটাকে কতো আদরে ঘিরে রাখছে। 
আমার কষ্টের জীবনে, 
যন্ত্রনা হয়ে শরীরে অসংখ্য দাগ কাটুক এ মূহুর্তে যতো খুশি, যতো ইচ্ছে। 
ওদের টেনে নামাবোনা আজ, কাল সাঁপ হয়ে ধ্বংস করে যাক আমার লাল রক্ত। 
পায়ের গোড়াইল থেকে মুখবিবর হয়ে পৌষ্টিক নালীর প্রতিটা পর্যায়ে জ্বালিয়ে, 
ছিড়ে-ফুঁড়ে খাক্ করে নীল হয়ে যাক আমার সমস্ত অস্তিত্ব। 
যতো শক্তি,জোর আছে হৃদয়ের দুয়ার আঁচড়িয়ে, 
ভেঙ্গে ফেলুক, শান্ত হোক তারা, দরকার নেই থামানোর। 
অতি প্রাচীন আমি,
নতুন কোন আবেগী ভাবনা আমাকে জাগিয়ে বেশীক্ষণ রাখতে পারেনা,
ততক্ষণে আমার অনুভূতিরা তাদের নিঃশেষ করে ফেলেছে, 
আবার অভিনয় ভরা এক সকালে অনেকগুলো মিথ্যার লাশ জমেছে শিশিরের কদমে, 
 আবার শুনশান রাত ফিরে আসে, সেই পোস্ট লাইট অপরাজিতা, 
অপরাজিতা বলে চিৎকার দিতে থাকে আমার ঝুল বারন্দায়। 
আমিও ফিরে আসি কাগজ,কলম নিয়ে।

সুরের মূর্ছনা ।। তমা ইয়াসমিন

নিরাবতা ভেঙ্গে শেষ রাতে কলের মুখ নিংড়ে,
ঝড়ে পড়া জলের ফোটা,
টুবটাব একটানা জেদি শব্দ,
ভীষন ভাবে কানে লাগে।

ঘুম যেন হাহাকার সাদা কাগজের,
গায়ে লাল তেলাপোকা,
ক্ষিধে ভরা মন টেনে নেয়,
জাকপাকা সফেদার অ-পরিপক্ক গায়।

কি এক একাকি বিভৎস অচেনা রাত,
চারিদিকে দমফাটা গুমোট নিরবতা শুনশান,
একটু বে-খেয়ালে মাশুল টানবে অনন্ত কাল,
যেনো চোখ দু'টো চেনা সাবক হরিনীর মন।

শজনেডাটা ঢলে পড়ে রাতের অাঁধারে,
 ঢেউয়ে ঢেউয়ে হেলেঞ্চা স্হীর বাতাসে,
হেলেদুলে বয়ে চলে নিপূণ হাতের কারূকাজে,
 মর্মর অথচ মলায়েম ভেজা সুরে।

জল প্রপাতে বাস্তবজীবনের খেলা,
অঁঠাই জলে ভাসিয়ে কলার ভেলা,
প্রচন্ড চাঁপে বুকের নরম পাঁজরে,
পার ভেঙে আঁচড়ে পড়ে ভীষণ জোড়ে।
কবি ও সংগঠক তমা ইয়াসমিন।

মুয়াজ্জিন ।। আহসান ইমরোজ খান


এই অবেলায় কে ডেকে যায়
আমার ঘরে
আপন করে চেনা সুরে?
.
কে এঁকে যায় মায়ার বাঁধন
পাগল করে
চুপটি করে পালায় দূরে?
.
কে হেসে যায় ঠোঁটের কোনায়
মুচকি হেসে,
করুণ সুরে বাজায় বাঁশি?
.
কে দিয়ে যায় সুখের পরশ
এই সিয়ামে,
মুক্তি সনদ রাশি রাশি?
.
কে মুছে দেয় বিহান দুপুর
বিকাল বেলা
রবের নামে ক্লান্তি যত?
.
কে বুণে যায় সন্ধ্যা রাতে
আল্লা নামে
রহম ধরায় অবিরত?
.
৩০.০৫.১৮ইং
ভুঞাপুর, টাংগাইল
কবি আহসান ইমরোজ খান

গীতিনাট্যঃ দু'টি পিস্তল ।। আখতার উজ্জামান সুমন


আবহাওয়াটা উচ্ছ্বাস আর উল্লাসে ভরা। গ্যালারিতে দর্শকশ্রোতা মুহুর্মুহু করতালি আর চিৎকার দিয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছে প্রিয় দলকে। প্রিয় খেলোয়াড় একের পর এক গোল দিয়ে যাচ্ছে প্রতিপক্ষের জালে। আজ ফাইনাল। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসিত ঢেউ! হঠাৎ দৃশ্যপট পালটে গেলো।

চারপাশে অভিমানের ঢেউ। অভিমানী প্রশ্ন তুমি থেকে আপনিতে উঠে এসে জিজ্ঞেস করলো-
- ঘুমাননি এখনো?
বিগলিত উত্তর- না। অনুযোগ করে বলল- তুমিও তো ঘুমাওনি। বলতে বলতেই তার মনে হল, অভিমান কি প্রশ্নের একান্ত? তার প্রশ্নেও অভিমান থাকতে পারে! হ্যাঁ, থাকতেই হবে। তাই তার প্রশ্নও তুমি থেকে আপনিতে উঠে জিজ্ঞেস করলো-
- আপনি ঘুমাননি কেন?

ব্যাকগ্রাউন্ডে অলক্ষ্যে তখন আ............... ধ্বনিত হয়ে রোমাঞ্চ বেজে উঠলো। অলক্ষ্যে পর্দার আড়ালে গাইতে লাগলো-
"অনেক ভালোবাসি তোমাকে প্রিয়তম।
কসম চাও তো, নিতে পারো; খোদা কসম!
অনেক ভালোবাসি তোমাকে প্রিয়তম।
সাগরের বাহুডোরে উদারতা আছে যতো
আমারো প্রেম আছে তোমার তরে ততো।
এই যে অস্থিরতা, তা আর কখনো কমবে না।
আমার এই গান তোমারই ধ্যানজ্ঞান;
তোমাকে ছাড়া আর কোনো বাঁচা নেই আমার।
এভাবেই চাইতে থাকবো তোমায় যতক্ষণ আছে প্রাণ।
অনেক ভালোবাসি তোমাকে প্রিয়তম।
কসম চাও তো, নিতে পারো; খোদা কসম!"

গাওয়া শেষ। আ............... ধ্বনি এখনো চলছে অলক্ষ্যে। ভণিত অভিমান কমেনি এখনো। তবুও বলছে-
- হ্যাঁ, অনেক ভালোবাসি তোমাকে প্রিয়তম। কী করছেন?
দৃশ্যপটে চারদিক থেকে চোখ ধাঁধানো রক্তাক্ত হৃদয়গুলো উড়তে লাগলো। মুহূর্তের মধ্যে পেছনে হাজারো নক্ষত্র জ্বলে উঠেছে; কানে ঝনঝনানি দিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ডে গাইতে শুরু হল-
"বকুলের মালা শুকাবে
রেখে দেব তার সুরভী
দিন গিয়ে রাতে লুকাবে
মুছো নাকো আমারই ছবি
আমি মিনতি করে গেলাম।
ভালোবেসে আমি বার বার
তোমারি ওমনে হারাবো
এই জীবনে আমি যে তোমার
মরণেও তোমারই হব।
তুমি ভুলো না আমারও নাম।
এই মন তোমাকে দিলাম
এই প্রেম তোমাকে দিলাম।
তুমি চোখের আড়াল হও
কাছে কিবা দূরে রও
মনে রেখো আমিও ছিলাম।"

এবার শাণিত ও ভণিত দু'টো অভিমানেরই অন্তর্ধান ঘটলো। বলল-
- ভালোবাসি।
- আলিঙ্গন করো।
- সেই কখন থেকেই করে আছি। টের পাওনি বোধ হয়।
আলতো করে ভিড়ানো দরজার আড়াল দিয়ে বাহির থেকে রক্তাক্ত হৃদয়গুলো ভিতরে প্রবেশ করতে লাগলো।
- সারাক্ষণ তোমার আলোকচিত্র দেখছিলাম।
- ভালোবাসি তোমায়।
- ভালোবাসি আমিও।
উভয়ে প্রেমালিঙ্গনে। চারপাশ থেকে রক্তাক্ত হৃদয়গুলো ফানুশের মতো বাতাসে উড়ে যাচ্ছে উপরের দিকে।
- ঘুমাবে না? এবার ঘুমাও।
- ঘুম আসে না।
ব্যাকগ্রাউন্ডে পিয়ানোর টুংটাং শব্দের সাথে গাওয়া শুরু হল-
"প্রাণের চেয়েও প্রিয় আমার হৃদয়
তাকে ছাড়া এক মুহূর্তও বাঁচা মুশকিল।
ওহ! ওহ! এ যে কী ব্যথা! ব্যথাটাও অনেক ব্যথানাশক। কখনো আমাকে হাসায়, কখনো কাঁদায়।
কেউ যাও, খুঁজে দাও;
কোথায় যেন আমার হৃদয় হারিয়ে গেল।
আমার ঘুম আসে না, আমার স্বস্তি আসে না;
কোথায় যেন আমার হৃদয় হারিয়ে গেল।"

এবার শাণিতের কিছুটা ভণিত অভিমান। বলল-
- তুমি ঘুমাতে পারো।
টুংটাং পিয়ানোর সাথে আবারো গাইতে শুরু হল-
"আমার ঘুম আসে না একেলা। তবে স্বপ্নে আসাযাওয়া করতে থাকো।
চলতে পারবো না তোমাকে ছাড়া আমি
তুমি আমার ভরসা হয়ে যাও
তোমাকে চাওয়া ব্যতীত আর কিছুই হবে না আমার দ্বারা
বলে দাওনা কী আছে তোমার হৃদয়ে
আমি কাউকেই বলবো না।"

টুংটাং করে পিয়ানোটা আরো কিছুক্ষণ বেজে চলল। বলল-
- হৃদয় কোথাও হারিয়ে যায়নি। খুঁজে দেখো, হৃদয়ের ভিতরেই হৃদয় আছে। কিছুই তো অবিদিত নেই, যা বলার সবই তো বলে দিয়েছি।

চারপাশে আবারো রক্তাক্ত হৃদয়, ফানুশের মতো উড়ে যাচ্ছে। ভায়োলিন বেজে উঠলো। এ এক করুণ সুর! এই সুর দৃশ্যপটে মহামারী ডেকে নিয়ে আসলো। চারপাশে হৃদয়-ফানুশগুলো আরো বেড়ে গেল। হঠাৎ একটা আবেগ এসে চারপাশটা নীলচে করে দিল।
- আজ তোমার কী হয়েছে প্রাণনাথ? এতো দুর্বলতা প্রকাশ করছো! প্রতিটা রাত আমি আবেগপ্রবণ হয়ে কতো কী কল্পনা করে, প্রত্যাশা করে দুর্বল হয়ে পড়ি। কতো কী জপতে জপতে রাতগুলো পার করি! আজ তুমিও.............
কথাটা শেষ হলো না, কথাটা মুখে থাকতেই ব্যাকগ্রান্ডে অলক্ষ্যে গীটারের মোটা তার বাজতে লাগলো, আর গাইতে শুরু হলো-
"কী করে যে বলি
তোমাকে ছাড়া এ জীবন যে কেমন হবে!
মনে হয় যেন কোনো শাস্তি, কোনো অভিশাপ হবে।
করেছি এই প্রতিজ্ঞা,
এ বাঁচা নয় তোমাকে ছাড়া।
বাঁচবো, হ্যাঁ বাঁচবো; তো তোমাকে ছাড়া কীভাবে?"

- আমাকে ছাড়া বাঁচার দরকার নেই। আমাকে নিয়েই বাঁচো। আমিও............
- বাঁচবো না, মরবো।
চারপাশ বেদনাহত। গাঢ় নীলাভ ধুয়া হয়ে ছেয়ে গেল। ভায়োলিন বাজছিল করুণ কান্নার সুরে। আচমকা চারপাশে হাজারো প্রদীপ জ্বলে গেলো। দু'জন দু'জনার খুঁট থেকে মরণাস্ত্র বের করলো। তাক করলো একে অপরের নাভিদেশের নিচে বামপাশে। তারা প্রস্তুত, গভীর আলিঙ্গনে তারা। একের পর এক দু'টি শব্দ হল আকাশ ফাটিয়ে। তারপর ভূতল ভেদ করে, মুহুর্মুহু শব্দ করে, আকাশে বাতাসে উঠতে থাকলো ধূমকেতু। একেকটি বিস্ফোটের শব্দাংশ বাকি থাকতেই আরেকটি বিস্ফোট, তারপর আরেকটি, তারপর আরেকটি। এভাবে চলতে থাকলো। ধূমকেতুগুলো মিলিয়ে যেতে থাকলো নিঃসীম আকাশে।
রক্তাক্ত ভূমিতল,
রক্তের উপর ভাসছে দু'টি অসাড় দেহ,
ভাসছে দু'টি মরণাস্ত্র,
দু'টি পিস্তল।

গ্যালারির দর্শকশ্রোতা মুখ হাত চেপে বসে আছে। প্রিয় দলকে একটার পর একটা গোল হজম করতে দেখছে। আর, বাঁধভাঙা অশ্রুর নীরব বিসর্জন করছে। খেলা শেষ। গ্যালারিভর্তি দর্শকশ্রোতা এভাবে আমৃত্যু দেখে দু'টি পিস্তলের আজব খেলা।
কবি ও সংগঠক আখতার উজ্জামান সুমন

প্রকৃতি ও মানুষ ।। আবুল বাশার রাসেল

মানুষগুলো কেমন পাল্টে গেছে
মনুষ্যত্ব হারিয়ে, বিবেকে বিকিয়ে, লাজ-লজ্জা জলাঞ্জলি দিয়ে
হয়েছে ফেরারি!
ভাই ভাইকে করছে হত্যা, বোন বোনকে করছে বঞ্চিত।
যে পিতা প্রথম ঝলকে সন্তানের মুখ দেখে হয়েছিলো ভীষণ  অশ্রুসিক্ত
সে কিভাবে হচ্ছে খুনী? কিভাবেই বা হয়ে উঠছে ধর্ষক?
যে জননী সন্তানের জন্য হাহাকার করে পেল সাত রাজার ধন
সেই সন্তান কিভাবে করে জননীকে অপমান, হত্যা ?
আবার জননীও কখনও কখনও কিভাবে হচ্ছে সন্তানের হন্তারক।
এ কেমন অভিশপ্ত সময়ে আমাদের বেঁচে থাকা, কথা বলা?
জানি, এই অভিশপ্ত সময়কে প্রকৃতি ধারণ করতে করতে আজ বড়ই ক্লান্ত
তাইতো ক্ষুব্ধ প্রকৃতি প্রতিশোধ নিতে বিদ্যুতের আঘাতে,
ঘুর্ণির ছোবলে ধরণীকে করছে জর্জরিত
কিছু মানুষের ভুলের কারণে হাজার হাজার নিরীহ মানুষ ভুগছে যন্ত্রণায়
হে প্রভূ, তুমিই পারো রুষ্ট প্রকৃতি ও বিপথগামী মানুষকে ফিরাতে আপন ঠিকানায়
তুমিই পারো এ ধরাকে করতে তোমার।।

২৮-০৫-২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
দেওরগাছ, চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ।
প্রবাসী কবি ও সংগঠক আবুল বাশার রাসেল।