Sunday, March 1, 2020

Thursday, January 16, 2020

Saturday, May 25, 2019

চট্টগ্রামে জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ১২০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

২৫মে, শনিবার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মূলধারার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন "আমাদের গল্পকথা"র চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি এবং "বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিবার (বাসাসপ)"র চট্টগ্রাম মহানগরী শাখার যৌথ উদ্যোগে "জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম বিষয়ক আলোচনা, ইফতার এবং সাহিত্য আড্ডা" সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর কলেজ অডিটোরিয়ামে বিকেল চারটায় বাসাসপ চট্টগ্রাম মহানগরী শাখার পরিচালক কবি প্রভাষক শ্রাবন্তী বড়ুয়ার সঞ্চালনায় এবং "আমাদের গল্পকথা" চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সমন্বয়ক সাহিত্য ও সমাজকর্মী আবু নোমান মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নজরুল সাহিত্যের উপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রাখেন বাসাসপ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কবি ও কথাশিল্পী মুহাম্মদ ইয়াকুব, আমাদের গল্পকথা'র সিনিয়র কেন্দ্রীয় পরিচালক কবি মাসুদ পারভেজ এবং বাসাসপ কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক (সংগঠন) আবৃত্তিকার কামাল উদ্দিন জিকু।

অনুষ্ঠানে বক্তারা নজরুলকে সাম্যবাদ ও অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখপূর্বক সর্বত্র নজরুল চর্চার দাবি জানান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনা ও আবৃত্তি করেন আমাদের গল্পকথা চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির পরিচালক কবি তানভীর শিকদার, কবি নেজাত শেখ, কবি মিজান ফারাবী, কবি আবদুল্লাহ ফারুক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত দুই সংগঠনের কবি ও লেখকদের একাংশ

Tuesday, April 2, 2019

হঠাৎ মেঘ ।। জিয়াউর রহমান

গোধূলি লগ্ন ঘনিয়ে এলো প্রকৃতির আকাশ ছুঁয়ে
গুমোট বাতাসে গুড়গুড় মেঘ দিচ্ছে প্রকৃতি ধুঁয়ে।
মাঝে মাঝে দমকা হাওয়ায় শিরশির করে দেহ
তপ্ত বায়ু মেঘ এনেছে জানতে পারেনি কেহ।

হঠাৎ করে ধুলোঝড় এলো সারা আকাশ জুড়ে
জানালা দরজা আছড়ে পড়ে ভাঙে গরীবের কুঁড়ে।
গোধূলির মেঘ সরে গিয়েই বৃষ্টির মেঘ এলো
বজ্রনিনাদে হুংকার এসে প্রকৃতি শাসিয়ে গেল।

একটানা মেঘ বারী দিয়েই শান্ত করলো ধরা
উদাসী সন্ধ্যের মোহনীয় মেম একে দিয়ে গেল খরা!
শান্ত ধরা'য় অশান্ত মন পিছন ফিরে চাই
প্রকৃতির বুকে ভিন্নতার মাঝে শান্তি খুঁজে যাই।

রুদ্ররূপে যে মেঘ আসে বারীও ঢেলে দেয় সেই
একই আকাশ ফুটো হলেও তারা'রা হারায়না খেই।
প্রকৃতির কাছে আদর আছে শাসনেও সে কম নয়
মানুষের কাছে কি আর আছে অহংকারে বুঁদ হয়?

ভাবতে বসে একা লাগে প্রকৃতি চেয়ে দেখি
জীবন ধারণে আমিত্ব নয় মহত্ত্বের কথা লেখি।
সর্বজ্ঞানী মহান যিনি বানিয়েছেন এই ধরা
ফেরার জন্য তৈরী হওয়া আমাদের সবার ত্বরা।
..........................
শেওড়াপাড়া, ঢাকা।
কবি জিয়াউর রহমান 

আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।। মাসুদ পারভেজ

আমার জ্ঞান উত্কর্ষতা এতোই বিস্তৃত আমি স্রষ্টাকে খুঁজে পাই না,
হে জ্ঞান আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
আমার প্রখর দৃষ্টি অভেদ্য অসুন্দরের পূজার পূজারি করেছে নিজেকে,
হে দৃষ্টি আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
আমার প্রযুক্তি সবুজ প্রকৃতি বিনষ্ট করে অট্টালিকার আকাশে ছাদ করেছে,
হে প্রকৃতি আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
আমার ক্ষমতা আমাকে আলাদা করে করেছে মানুষ নামের প্রাণী থেকে,
হে সময় আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
আমার শিক্ষা মানবতার উল্টো পিটে চড়া ব্যবসার মালিকানা দিয়েছে,
হে শিক্ষা আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
আমার আদর্শ ভুল চেতনার উত্তরাধিকারের মশাল দিয়েছে হাতে,
হে পথ আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
আমার বিশ্বাস আমাকে মানিয়ে নিয়েছে আমিত্বের সর্বোচ্চ শিখরে,
হে বিশ্বাস আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
হে বিবেক আমাকে তুচ্ছ হতে শেখাও প্রতিটি বিমুগ্ধ মুহূর্ত হতে,
হে তুচ্ছ বিবেককে জাগ্রত করে দাও।
কবি ও সংগঠক মাসুদ পারভেজ

নারী ।। খাদিজা বেগম কান্তা

নও তুমি শুধু কামনার ফুল
নও তুমি তৃষ্ণার্ত ভ্রমরের বোল
নও তুমি শিহরিত মানস প্রিয়া
তুমি আজ বিমূর্ত মানবের কূল।

বিজন নিশীথে কাঁদবেনা আর
প্রজ্বলিত হও দহনে দূর্বার
তুমি শক্তি, তুমি শৌর্য তুমি বিমুক্ত অপার
জাগ নারী কম্পিত বজ্র নিনাদ।

নিজ মহিমায় প্রজ্বলিত তুমি
ধর কাণ্ডারি অশ্রু বিদায়ী
নও তুমি সামগ্রী নিঠুর পণ্য
দানবের তরে হও বজ্র কণ্ঠি।

অভিন্ন চারণে হও আগুয়ান
নও তুমি নারী শুধু হও গো মহান
মানবের তরে হও মাতৃ জায়া
বিদুষী, হরষে রাখি সঞ্চিত মায়া।

অদৃশ্য কারাগার শৃঙ্খলিত বেড়ী
গুড়িয়ে দাও নির্ভয়ে জড়তা ছাড়ি
সাম্যের জয়গানে হও গো সামিল
ঘরে বাহিরে হও মহীয়সী নারী।।
কবি খাদিজা বেগম কান্তা

সুখ পাখি ।। সাজিয়া আফরিন

সুখ পাখি তুই এতই উড়িস!
ধার দিবি তোর ডানা দু’টো?
ইচ্ছে মত উড়বো আমি,
ফেরত দেবো দু’দিন পরে।

আকাশ জুড়ে উড়বো আর
বলবো আমি সাত সতেরো
গপ্পো তোদের
সুখ পাখি, দিবি নাকি
তোর ডানা দু’টো?
আয়েশ করে তোকে বসতে দেবো
উষ্ণ নরম আসন দেবো
যা খেতে চাস খেতে দেবো
মিষ্টি মধুর ভরে আমার দু’মুঠো
ধার দিবি তোর ডানা দু’টো?

হরেক মনের খবর এনে দেবো
দে না ভাই তোর ডানা দু’টো!
তোকে আমি স্বপ্ন দেবো,
স্বপ্ন রঙিন পরিসর দেবো
ভালোবাসার কবিতা দেবো
উপমা-অনুপ্রাস উৎপ্রেক্ষা দেবো
তাল, লয়, ছন্দ দেবো, গানও দেবো ।

যা গানের সাথে সুরও দেবো
এবার দে তোর ডানা দু’টো।
কবি সাজিয়া আফরিন
সম্পাদক, আকাশছোঁয়া।

Monday, April 1, 2019

আগুন শহর ।। রফিকুল নাজিম

আগুন শহর
রফিকুল নাজিম

আগুন নিয়ে খেলছি আমরা -আগুন আগুন খেলা
আগুন হাতে হাঁটছে আমরা-রাস্তা থেকে অলিগলি,
আগুন পাখি উড়ছে একাই শহর থেকে শহরতলি
মরছে মানুষ ধুকছে মানুষ- লাশের মিছিল গলাগলি!

আগুন হাতে খেলছি আমরা -আগুন আগুন খেলা
বুক পকেটে আগুন পাখি-বুকের ভিতর পুষে রাখি,
জ্বলছে আগুন জ্বলবে আগুন-পুড়বে শহর বাগান
আগুন রঙে তুলির ঢঙে আগুন লাশের ছবি আঁকি।

আগুন হাতে দিনেরাতে ঘুরছি পার্কে সেমিনারে
আগুন বিছানায় আরামসে শুয়ে ঘুমায় ভাত ঘুম
আগুনের কোলে পড়ছে ঢলে,মেনে নেয় হত্যারে
আগুনের বুকে কী মহাসুখে-শীতল মৃত্যুর চুম!

আগুন চোখে দেখছি আমরা-আগুন আগুন খেলা
আগুন পানি পিপাসায় জানি-মানুষের তেষ্টা মিটায়!
আগুন মিটিং আগুন মিছিল আগুন শ্লোগান গলায়
লালফিতার তদন্ত কমিটির ফাইলে আগুন ঘুমায়।

আগুন দেখো পুরান ঢাকা নিমতলী আর চুড়িহাট্টা
আগুন দেখো বনানী আজ-আহা আগুন খেলা!
আগুন সঙ্গমে আগুনই জন্মে-আগুন আগুন ঠাট্টা
আগুন শহরে পুড়েছে বোধ-পুড়ছে প্রাণের মেলা!
___________________________________________
তারিখঃ ২৯ মার্চ,২০১৯.
উত্তর বাজার
চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ।
কবি রফিকুল নাজিম।
                                     

Monday, July 30, 2018

সব তোমারি জন্য ।। কুমকুম খাতুন

যেদিন অচেনা গন্তব্যে নির্জন পথে একা নিশীথে,
পথ চলেছিলাম আমি,
বারবার সে অন্ধকারাচ্ছন্ন পথে বৃক্ষরাজির সাথে
মাথা ঠুকতে ঠুকতে পথ এগুচ্ছিলাম
ঠিক সে সময়-ই তুমি এসে হাত ধরে বললে
চলো কিছুটা পথ এগিয়ে দেই তোমায়।
আর তখনি ঘনানো অন্ধকার কেটে
আলোকময় হলো ধরা..
মন থেকে মুছে গেলো সব সংশয়,
শুধুই তোমাকে কাছে পেয়ে।

জোনাকপোকাদের কানে ফিসফিস করে বললাম-
তোমরা কি পারোনা আমার প্রিয় ও আমার
চলার পথ আলোকিত করতে?
জোনাকপোকারা বলতে লাগলো আরে বন্ধু কুমু!
কোথা থেকে এলে তুমি?
কতদিন তোমায় দেখিনা..
আর কিছু বলে ওঠার আগেই
 জ্বলজ্বল আলোয় জ্বালিয়ে দিলো ধরা।
সবকিছুই তো তোমারি জন্যে।

ক্ষণ পরে চাঁদ ও এসে বলতে লাগলো বন্ধু,
প্রিয়কে নিয়ে এসেছো?
রাতের আঁধারে আলোকিত উন্মুক্ত পৃথিবী
শুধুই তোমার প্রিয়'র জন্যে।
ভাবতে কি কখনও চাঁদও হয়ে যাবে এতোটা আপন?
তুমি এসে হাতে হাত ধরলে-
স্নিগ্ধ শীতল হাওয়া ছুঁয়ে গেলো দু'জনের শরীর।
সব তোমারি জন্য...
শুধুই তোমারি জন্য।
ভোরের পাখিরাও গুঞ্জন শুরু করলো,
আরো মধুর সুরে শুধু তুমি আমার প্রিয় বলে।
সূর্যটা আরো রক্তিম আভায় উদয় হলো।
ভালোবাসার রং তো সব সময় লাল হয় তাইনা?
তাই তো সূর্যটাও আমাদের এ ভালোবাসাকে
সাদরে গ্রহণ করে রাঙ্গালো তার শরীর।
সবটাই তোমারি জন্য,
শুধুই তোমারি জন্য।
খরতপ্ত দুপুর তার তপ্ততা কমিয়ে শীতল করলো পৃথিবীকে।
তুমি আমার প্রিয় বলেই স্রোতস্বিনী নদী
ঝিলমিল বেগে বয়ে চলে।
সন্ধ্যাতারা জ্বলে জ্বলে শুধু তোমার কথাই বলে-
যেন কখনও কোনো কষ্ট না দেই তোমায়।
সব তো তোমারি জন্য, শুধুই তোমারি জন্য।
কবি কুমকুম খাতুন

Sunday, July 29, 2018

বিষাক্ত খঞ্জর ।। ইউনুছ আকমাল

আজন্ম হেঁটেছি যে পথ ধরে নির্ভয়ে,
যে পথের প্রতিটি বালিকণা গায়ে মাখতাম,
কিংবা লকলকে সবুজাভ দূর্বাঘাসের
চিকচিক করা শিশির পায়ে যেতো ল্যাপ্টে,
সবই তো ছিল অতি আপন;
সে পথ আজ অজানা অচেনা,
সেখানে আজ হিংস্র হায়নাদের অভয়ারন্য,
বিষধর সাপগুলো ফনা তুলে বসে আছে
ছোবল দেবার অপেক্ষায়।

চেনা পথই আজ অচেনা,
পরিচিত মানুষগুলোও মানুষের কাতারে নেই!
সবকিছুই হয়ে গিয়েছে বিপদসংকুল ;
এখন এ পথে পা বাড়াতেও ভয় লাগে,
মানুষের সাথে কথা বলতেও বুক কাঁপে!
সংকিত থাকি সর্বদা---
অযাচিত কোন জঞ্জাল কিংবা বিপদের আশঙ্কায়।

অনেক হয়েছে ছলনা আর প্রতারনার খেলা,
অনেক হয়েছে মিথ্যা অভিনয় রঙ মঞ্চে।
এখানে চলে শুভ্র বুকে বিষাক্ত খঞ্জর
আর্তচিৎকার শুনে কেউ আসে না,
রক্তে রঞ্জিত ক্ষত বিক্ষত নিথর দেহ পড়ে থাকে;
কেউ করে না প্রতিবাদ,
প্রতিবাদী কণ্ঠ আজ কারারুদ্ধ,
পর্দার আড়াল রচিত হচ্ছে বিনাশী চিত্রনাট্য।

বিহগলে বাজছে করুন সুর,
ধুঁকে ধুঁকে কাঁদছে বঙ্গ জননী আমার!
খঞ্জরের আঘাতে রাজপথ রক্তে রঞ্জিত,
হোক কোন দুঃখ নেই,আসবো ফিরে বারবার
বঙ্গ জননীর নারিছেড়া সন্তান হারানোর কান্নার প্রতিটি ফুটায়
জন্ম নিতেই থাকবো আমি শত সহস্রবার,
এবং তা' চলতেই থাকবে বিরামহীন,অনন্তকাল।।
কবি ও সংগঠক ইউনুছ আকমাল

আমার এক জীবনের গল্প ।। মাসুদ পারভেজ

তোমার শুনতে না চাওয়া একটি রাতের গল্প,
চাঁদ তারা আকাশ;
বেসুরে জ্বলতে থাকা জোনাকির কষ্ট ।
হাজার বছরে খুঁজে নেওয়া পথ হারিয়ে যাওয়ার ঠিকানা,
আবেগের সীমানার দেয়াল পেরিয়ে অর্থহীন জীবনের সূচনা।
আমার এক জীবনের গল্প ।।

তোমার সহজে ভুলে যাওয়া একটি রাতের গল্প,
পরিচয় প্রণয় প্রেম;
বেঘোরে ডুবতে থাকা হৃদয়ের কষ্ট।
অনিচ্ছার মিছিলে তেড়ে আসা ভুলগুলোর ভুল আরাধনা,
ব্যবধানের সুতো মেপে মেপে দিনক্ষণ গুনে রাখার যাতনা ।
আমার এক জীবনের গল্প ।।

তোমার সহজে মুছে দেওয়া একটি রাতের গল্প,
ডায়েরি চিঠি চিরকুট,
ধুলো পরা ছেঁড়া পুরানো কথার কষ্ট।
পাতায় পাতায় স্মৃতির বুনন বেশ রিষ্টপুষ্ট হৃদয়ের চারিপাশ,
সোনালি গোধূলি শুরু করে দেয় আঁধারের মাঝে রাতের বাস।
আমার এক জীবনের গল্প।।

তোমার একটু ফিরে না চাওয়া একটি রাতের গল্প।
দিন রাত সারাবেলা;
অনেকদিনের না লিখা এক কবিতার কষ্ট।
অভিমানী শব্দগুচ্ছ আর কখনোই সুর হয়ে ওঠেনি কারো ঠোঁটে ,
বেলা অবেলার স্বপ্নগুলো পথ পেরিয়ে কখন যেন অন্য বাগানে ফোটে।
আমার এক জীবনের গল্প।।
কবি ও সংগঠক মাসুদ পারভেজ

Tuesday, July 24, 2018

শুনতে কি পাচ্ছো? ।। কুমকুম খাতুন

এই তুমি কি এখনও ঘুমিয়ে আছো?
ওঠো না..আসো দু'জন হাত ধরে
শিশিরভেজা দূর্বা ঘাসের উপর দিয়ে একটু হাঁটি।
যে শিশির উষ্ণ পায়ে স্পর্শ করা মাত্র
পা শিহরিত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে  পরতেই
বাহুডোরে জড়িয়ে নেবে আমায়।
আমিও শিহরিত হয়ে আরো শক্ত করে
এই বুকে জড়াবো তোমায়।
এই শুনতে কি পাচ্ছো?
নাকি এখনও ঘুমিয়ে..?
ওঠোনা..উঠে চলে আসো,
কাছাকাছি থেকে অতিক্রম করি
সুখময়, প্রীতিময় কিছু সময়।

উৎসর্গ : রোকন পাশা..
কবি কুমকুম খাতুন

Sunday, July 15, 2018

খোটা প্রথা সংস্কার চাই ।। মাসুদ পারভেজ

শিরোনাম দেখে চমকে উঠলেন? সবাই যখন কোটা সংস্কারের পক্ষে বিপক্ষে ব্যস্ত আমি তখন এই খোঁটা প্রথা নিয়ে একটু কথা বলি।

আমাদের বাড়ির পাশে একটি খাল আছে যার নাম টংকাবতী। শুকনো মৌসুমে ফসলি জমির নীচে বড় বালুচর জেগে ওঠে, যেখানে আমাদের গ্রাম পাশের গ্রাম ও দূরবর্তী গ্রাম থেকে দলবেঁধে ছেলেরা ফুটবল খেলতে আসতো। মাঠ দখল নিয়ে আমাদের সাথে প্রায়ই মারামারি লেগে থাকতো। সেখানে অবশ্য আমাদের আধিপত্য বিস্তার ছিল সবচেয়ে বেশি। তাই কথায় কথায় আমরা তাদের খোটা দিতাম যেন খালটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। এই খোটা-খুটির ব্যাপারটি আমার ও আমাদের কাছে প্রথাগত শিক্ষা। যা আমাদের পরিবার ও সমাজ থেকে শেখা। পরিবার থেকে শিখেছি বেশি কামাই করা ছেলেটা ও তার বউ বাকিদের খোঁটা দিয়ে বলবে সবাই তার কামাই থেকে বসে বসে খাচ্ছে, কথায় কথায় আরো কত কি। সমাজ থেকে শিখেছি সমাজের কর্তারা বলবে তাদের পুকুর সবাই ব্যবহার করছে, তাদের বাপ-দাদার জমির উপর করে দেওয়া রাস্তায় সবাই হাঁটছে, তাদের বানানো মসজিদে সবাই নামাজ পড়ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই আমরাও তাদের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে সেগুলো নিয়মিত চর্চা করতাম। কারো সাথে একটু মনোমালিন্য হলেই বলতাম "আমাদের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে দেখিস, ট্যাং ভেঙে দিব"।

এই খোটা প্রথা বহুল প্রচলিত একটি প্রথা যা ব্যাক্তি, পরিবার, সমাজ থেকে রাষ্ট্রতে উন্নীত হয়ে ১৫টাকার সিট ও ৩৮টাকার পর্যন্ত চলে গেছে।

তবে খোটা দুই ধরনের হয়ে থাকে_
এক//
নিজের ব্যাক্তিগত সম্পূর্ণ মালিকানা বা আংশিক মালিকানার সম্পদ ব্যবহার করায় খোটা দেওয়া ।
দুই//
সমষ্টিগত মালিকানার দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে বা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে খোটা দেওয়া।

তবে প্রথম খোটার কিছু যৌক্তিকা থাকলেও দ্বিতীয়টা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বা বেয়াক্কেলর মত বলা যেতে পারে। এই অযৌক্তিক খোটা যে ক্রমবর্ধমান হারে বেড়ে চলছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

তাই এই খোটা-খুটির বিষয়ে আমার মনে হয় সংস্কার জরুরি। আমি বলছি না একদম বাদ দিতে,যেহেতু এটি একটি ঐতিহ্যগত প্রথা তাই এটি থাকুক এবং মানুষ মানুষকে যৌক্তিক খোটা দিক।
কবি ও সংগঠক মাসুদ পারভেজ

Sunday, July 8, 2018

হবিগঞ্জস্থ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের নৌকা ভ্রমণ ও জন্মোৎসব উদযাপন


জাতীয় পর্যায়ের সাহিত্য ও সংস্কৃতিক সংগঠন "ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা- হবিগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যেগে গতকাল ৭ জুলাই এশিয়ার বৃহত্তম গ্রাম বাণিয়াচং এর হাওড় অঞ্চলে আয়োজন করা হয় "হবিগঞ্জস্থ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিয়ে নৌকা ভ্রমণ ও জন্মোৎসব উদযাপন"।

গত ৫ জুলাই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়ক সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহানের জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে হবিগঞ্জ জেলা শাখা এই উদ্যোগটি গ্রহণ করে। এই উদ্যোগে সাড়া দিয়ে হবিগঞ্জের আরও কিছু সাহিত্য ও সংস্কৃতিক সংগঠন অংশগ্রহণ করে।

উক্ত আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রিয় সমন্বয়ক ও নির্বাহী পরিচালক মনসুর আহমেদ, সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক কবি আখতারুজ্জামান সুমন,  বিভাগীয় পরিচালক কবি অপু চৌধুরী, হবিগঞ্জ সাহিত্য পরিষদ এর সাধারণ সম্পাদক কবি এম এ ওয়াহিদ, দর্পন হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক সি এম রায়হান উজ্জল ও দর্পন পরিবার, সংগঠনের জেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আশীষ কুমার দাস, সমন্বয়ক ফয়েজ আহমেদ, হবিগঞ্জস্থ চুনারুঘাট যুব এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ফুল মিয়া খন্দকার মায়া,সংগঠনের কেন্দ্রিয় সদস্য মীর হাবিবুর রহমান সুমন প্রমুখ।

উক্ত আয়োজনের উদ্যাক্তা ছিলেন সংগঠনের জেলা কমিটির সদস্য,হবিগঞ্জস্থ চুনারুঘাট যুব এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক  আখতারুজ্জামান তপরদার জামান।

Sunday, June 24, 2018

সেন্টার ফর ন্যাশনাল কালচার (CNC) হতে সাহিত্যে বেগম সুফিয়া কামাল পদক পাচ্ছেন কবি জেসমিন রুমি


সেন্টার ফর ন্যাশনাল কালচার প্রতি মাসে চার ব্যাক্তিত্বকে সম্মাননা পদক প্রদান করে। এই ধারাবাহিকতায় চলতি মাসের ২৭ জুন নজরুল একাডেমিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে  চার জন ব্যক্তিত্বকে বেগম সুফিয়া কামাল পদক প্রদান করা হবে। কবি জেসমিন রুমিকে সাহিত্যে সম্মাননা পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। উনার শুভার্থীদের উক্ত অনুষ্ঠানে সবান্ধব আমন্ত্রণ।

Saturday, June 23, 2018

হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো সাহিত্য পত্রিকা 'আমাদের গল্পকথা'র মোড়ক উন্মোচন ও ঈদ পুনর্মিলনী


সাহিত্য ও সংস্কৃতিক সংগঠন ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা'র হবিগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে গত ২২ জুন রোজ শুক্রবার, বিকাল ৪ ঘটিকায় হবিগঞ্জের সুরবিতান ললিতকলা একাডেমিতে আবৃত্তি প্রতিযোগীতা, সাহিত্য পত্রিকা আমাদের গল্পকথা'র মোড়ক উন্মোচন ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে সংগঠনের কর্মীদের ফটোসেশন।

আমাদের গল্পকথার সম্পাদক আশীষ কুমার দাসের সঞ্চলনায় জেলা শাখার আহ্বায়ক মীর হাবিবুর ররহমান সুমনের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি ও সংগঠক তাহমিনা বেগম গিনি, বিশিষ্ট সাংবাদিক মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল, বিশিষ্ট গবেষক সাইদুর রহমান, সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়ক কবি সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান।

অনুুুষ্ঠানে উপস্থিত আমন্ত্রিত কবি, সাহিত্যিক ও সংগঠকদের একাংশ। 

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি ও সংগঠক ইউনুছ আকমাল, কবি অপু চৌধুরী, নাট্যকার সিদ্দিকী হারুন, কবি ও সংগঠক এম এ ওয়াহিদ, কবি আব্দুল্লাহ আবীর, সংগঠক সি এম রায়হান উজ্জল, কবি ফয়েজ আহমেদ, কবি বীথি কবির, কবি রাজিয়া সুলতানা, সংগঠক আমিনুল ইসলাম, কবি ইয়াছির আহমেদ, সংগঠক আখতারউজ্জামান তরপদার জামান, সংগঠক ফুল মিয়া খন্দকার মায়া, কবি সাজ্জাদ চিহ্ন, আবৃত্তিশিল্পী নাহিদা খান সুর্মি, কবি লাভলী চক্রবর্তী, কবি সুর্য কুমার প্রমুখ।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়কের পাশে নবনির্বাচিত হবিগঞ্জ জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক আশিস কুমার দাশ ও সমন্বয়ক ফয়েজ আহমেদ।

অনুষ্ঠান শেষে ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা'র হবিগঞ্জ জেলা কমিটি ঘোষনা করা হয়। প্রধান সমন্বয়ক আশীষ কুমার দাস,সমন্বয়ক ফয়েজ আহমেদ, নির্বাহী তত্বাবধায়ক আখতার উজ্জামান চৌধুরী  সুমন।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়কের পাশে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মনসুর আহমেদ।

অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও নির্বাহী পরিচালক মনসুর আহমেদ।

ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা" এবং "বাসাসপ" এর ফররুখ শীর্ষক আলোচনা এবং ঈদ পুণর্মিলনী সম্পন্ন


গতকাল ২২ জুন, শুক্রবার, লোহাগাড়া মেরিট স্কুল এন্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে "ভালোবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা" এবং "বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিবার (বাসাসপ)" চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে "মুসলিম রেঁনেসার কবি ফররুখ আহমদের জীবনী শীর্ষক আলোচনা এবং ঈদ পুর্ণমিলনী" সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে।


"ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা" চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির পরিচালক কবি আজাদ শেখের সঞ্চালনায় এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক কবি ও সংগঠক আবেদা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন "বাসাসপ" কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কবি ও কথাসাহিত্যিক মুহাম্মদ ইয়াকুব, "ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা" কেন্দ্রীয় পর্ষদের সিনিয়র পরিচালক কবি ও সংগঠক মামুন আব্দুল্লাহ, কেন্দ্রীয় পর্ষদের সিনিয়র পরিচালক কবি ও সংগঠক মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সংগঠক মোহাম্মদ ফিরোজ, যুগ্ম সমন্বয়ক ও "সবুজ বাংলা" ম্যাগাজিন সম্পাদক আবু নোমান হাফিজুল্লাহ।


অনুষ্ঠানে আবৃত্তি এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন কেন্দ্রীয় পরিচালক কবি ও সংগঠক মোঃ শাহ আলম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির পরিচালক কবি মোঃ হাসান তারেক, "বাসাসপ" চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির পরিচালক কবি মমতাজ উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির পরিচালক মোহাম্মদ রায়হান, কবি হিজবুল্লাহ রায়হান, কবি তাফসির উদ্দিন, সবুজ বাংলা সম্পাদনা পরিষদ সদস্য সাহেদ ফেরদৌস হিরু, শাখাওয়াত হোসেন হৃদয়, মোঃ শহিদ উদ্দিন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা রেঁনেসার কবি ফররুখ আহমদের জীবনের বিভিন্ন দিক ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন এবং পারস্পরিক ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।