Monday, July 30, 2018

সব তোমারি জন্য ।। কুমকুম খাতুন

যেদিন অচেনা গন্তব্যে নির্জন পথে একা নিশীথে,
পথ চলেছিলাম আমি,
বারবার সে অন্ধকারাচ্ছন্ন পথে বৃক্ষরাজির সাথে
মাথা ঠুকতে ঠুকতে পথ এগুচ্ছিলাম
ঠিক সে সময়-ই তুমি এসে হাত ধরে বললে
চলো কিছুটা পথ এগিয়ে দেই তোমায়।
আর তখনি ঘনানো অন্ধকার কেটে
আলোকময় হলো ধরা..
মন থেকে মুছে গেলো সব সংশয়,
শুধুই তোমাকে কাছে পেয়ে।

জোনাকপোকাদের কানে ফিসফিস করে বললাম-
তোমরা কি পারোনা আমার প্রিয় ও আমার
চলার পথ আলোকিত করতে?
জোনাকপোকারা বলতে লাগলো আরে বন্ধু কুমু!
কোথা থেকে এলে তুমি?
কতদিন তোমায় দেখিনা..
আর কিছু বলে ওঠার আগেই
 জ্বলজ্বল আলোয় জ্বালিয়ে দিলো ধরা।
সবকিছুই তো তোমারি জন্যে।

ক্ষণ পরে চাঁদ ও এসে বলতে লাগলো বন্ধু,
প্রিয়কে নিয়ে এসেছো?
রাতের আঁধারে আলোকিত উন্মুক্ত পৃথিবী
শুধুই তোমার প্রিয়'র জন্যে।
ভাবতে কি কখনও চাঁদও হয়ে যাবে এতোটা আপন?
তুমি এসে হাতে হাত ধরলে-
স্নিগ্ধ শীতল হাওয়া ছুঁয়ে গেলো দু'জনের শরীর।
সব তোমারি জন্য...
শুধুই তোমারি জন্য।
ভোরের পাখিরাও গুঞ্জন শুরু করলো,
আরো মধুর সুরে শুধু তুমি আমার প্রিয় বলে।
সূর্যটা আরো রক্তিম আভায় উদয় হলো।
ভালোবাসার রং তো সব সময় লাল হয় তাইনা?
তাই তো সূর্যটাও আমাদের এ ভালোবাসাকে
সাদরে গ্রহণ করে রাঙ্গালো তার শরীর।
সবটাই তোমারি জন্য,
শুধুই তোমারি জন্য।
খরতপ্ত দুপুর তার তপ্ততা কমিয়ে শীতল করলো পৃথিবীকে।
তুমি আমার প্রিয় বলেই স্রোতস্বিনী নদী
ঝিলমিল বেগে বয়ে চলে।
সন্ধ্যাতারা জ্বলে জ্বলে শুধু তোমার কথাই বলে-
যেন কখনও কোনো কষ্ট না দেই তোমায়।
সব তো তোমারি জন্য, শুধুই তোমারি জন্য।
কবি কুমকুম খাতুন

Sunday, July 29, 2018

বিষাক্ত খঞ্জর ।। ইউনুছ আকমাল

আজন্ম হেঁটেছি যে পথ ধরে নির্ভয়ে,
যে পথের প্রতিটি বালিকণা গায়ে মাখতাম,
কিংবা লকলকে সবুজাভ দূর্বাঘাসের
চিকচিক করা শিশির পায়ে যেতো ল্যাপ্টে,
সবই তো ছিল অতি আপন;
সে পথ আজ অজানা অচেনা,
সেখানে আজ হিংস্র হায়নাদের অভয়ারন্য,
বিষধর সাপগুলো ফনা তুলে বসে আছে
ছোবল দেবার অপেক্ষায়।

চেনা পথই আজ অচেনা,
পরিচিত মানুষগুলোও মানুষের কাতারে নেই!
সবকিছুই হয়ে গিয়েছে বিপদসংকুল ;
এখন এ পথে পা বাড়াতেও ভয় লাগে,
মানুষের সাথে কথা বলতেও বুক কাঁপে!
সংকিত থাকি সর্বদা---
অযাচিত কোন জঞ্জাল কিংবা বিপদের আশঙ্কায়।

অনেক হয়েছে ছলনা আর প্রতারনার খেলা,
অনেক হয়েছে মিথ্যা অভিনয় রঙ মঞ্চে।
এখানে চলে শুভ্র বুকে বিষাক্ত খঞ্জর
আর্তচিৎকার শুনে কেউ আসে না,
রক্তে রঞ্জিত ক্ষত বিক্ষত নিথর দেহ পড়ে থাকে;
কেউ করে না প্রতিবাদ,
প্রতিবাদী কণ্ঠ আজ কারারুদ্ধ,
পর্দার আড়াল রচিত হচ্ছে বিনাশী চিত্রনাট্য।

বিহগলে বাজছে করুন সুর,
ধুঁকে ধুঁকে কাঁদছে বঙ্গ জননী আমার!
খঞ্জরের আঘাতে রাজপথ রক্তে রঞ্জিত,
হোক কোন দুঃখ নেই,আসবো ফিরে বারবার
বঙ্গ জননীর নারিছেড়া সন্তান হারানোর কান্নার প্রতিটি ফুটায়
জন্ম নিতেই থাকবো আমি শত সহস্রবার,
এবং তা' চলতেই থাকবে বিরামহীন,অনন্তকাল।।
কবি ও সংগঠক ইউনুছ আকমাল

আমার এক জীবনের গল্প ।। মাসুদ পারভেজ

তোমার শুনতে না চাওয়া একটি রাতের গল্প,
চাঁদ তারা আকাশ;
বেসুরে জ্বলতে থাকা জোনাকির কষ্ট ।
হাজার বছরে খুঁজে নেওয়া পথ হারিয়ে যাওয়ার ঠিকানা,
আবেগের সীমানার দেয়াল পেরিয়ে অর্থহীন জীবনের সূচনা।
আমার এক জীবনের গল্প ।।

তোমার সহজে ভুলে যাওয়া একটি রাতের গল্প,
পরিচয় প্রণয় প্রেম;
বেঘোরে ডুবতে থাকা হৃদয়ের কষ্ট।
অনিচ্ছার মিছিলে তেড়ে আসা ভুলগুলোর ভুল আরাধনা,
ব্যবধানের সুতো মেপে মেপে দিনক্ষণ গুনে রাখার যাতনা ।
আমার এক জীবনের গল্প ।।

তোমার সহজে মুছে দেওয়া একটি রাতের গল্প,
ডায়েরি চিঠি চিরকুট,
ধুলো পরা ছেঁড়া পুরানো কথার কষ্ট।
পাতায় পাতায় স্মৃতির বুনন বেশ রিষ্টপুষ্ট হৃদয়ের চারিপাশ,
সোনালি গোধূলি শুরু করে দেয় আঁধারের মাঝে রাতের বাস।
আমার এক জীবনের গল্প।।

তোমার একটু ফিরে না চাওয়া একটি রাতের গল্প।
দিন রাত সারাবেলা;
অনেকদিনের না লিখা এক কবিতার কষ্ট।
অভিমানী শব্দগুচ্ছ আর কখনোই সুর হয়ে ওঠেনি কারো ঠোঁটে ,
বেলা অবেলার স্বপ্নগুলো পথ পেরিয়ে কখন যেন অন্য বাগানে ফোটে।
আমার এক জীবনের গল্প।।
কবি ও সংগঠক মাসুদ পারভেজ

Tuesday, July 24, 2018

শুনতে কি পাচ্ছো? ।। কুমকুম খাতুন

এই তুমি কি এখনও ঘুমিয়ে আছো?
ওঠো না..আসো দু'জন হাত ধরে
শিশিরভেজা দূর্বা ঘাসের উপর দিয়ে একটু হাঁটি।
যে শিশির উষ্ণ পায়ে স্পর্শ করা মাত্র
পা শিহরিত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে  পরতেই
বাহুডোরে জড়িয়ে নেবে আমায়।
আমিও শিহরিত হয়ে আরো শক্ত করে
এই বুকে জড়াবো তোমায়।
এই শুনতে কি পাচ্ছো?
নাকি এখনও ঘুমিয়ে..?
ওঠোনা..উঠে চলে আসো,
কাছাকাছি থেকে অতিক্রম করি
সুখময়, প্রীতিময় কিছু সময়।

উৎসর্গ : রোকন পাশা..
কবি কুমকুম খাতুন

Sunday, July 15, 2018

খোটা প্রথা সংস্কার চাই ।। মাসুদ পারভেজ

শিরোনাম দেখে চমকে উঠলেন? সবাই যখন কোটা সংস্কারের পক্ষে বিপক্ষে ব্যস্ত আমি তখন এই খোঁটা প্রথা নিয়ে একটু কথা বলি।

আমাদের বাড়ির পাশে একটি খাল আছে যার নাম টংকাবতী। শুকনো মৌসুমে ফসলি জমির নীচে বড় বালুচর জেগে ওঠে, যেখানে আমাদের গ্রাম পাশের গ্রাম ও দূরবর্তী গ্রাম থেকে দলবেঁধে ছেলেরা ফুটবল খেলতে আসতো। মাঠ দখল নিয়ে আমাদের সাথে প্রায়ই মারামারি লেগে থাকতো। সেখানে অবশ্য আমাদের আধিপত্য বিস্তার ছিল সবচেয়ে বেশি। তাই কথায় কথায় আমরা তাদের খোটা দিতাম যেন খালটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। এই খোটা-খুটির ব্যাপারটি আমার ও আমাদের কাছে প্রথাগত শিক্ষা। যা আমাদের পরিবার ও সমাজ থেকে শেখা। পরিবার থেকে শিখেছি বেশি কামাই করা ছেলেটা ও তার বউ বাকিদের খোঁটা দিয়ে বলবে সবাই তার কামাই থেকে বসে বসে খাচ্ছে, কথায় কথায় আরো কত কি। সমাজ থেকে শিখেছি সমাজের কর্তারা বলবে তাদের পুকুর সবাই ব্যবহার করছে, তাদের বাপ-দাদার জমির উপর করে দেওয়া রাস্তায় সবাই হাঁটছে, তাদের বানানো মসজিদে সবাই নামাজ পড়ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই আমরাও তাদের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে সেগুলো নিয়মিত চর্চা করতাম। কারো সাথে একটু মনোমালিন্য হলেই বলতাম "আমাদের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে দেখিস, ট্যাং ভেঙে দিব"।

এই খোটা প্রথা বহুল প্রচলিত একটি প্রথা যা ব্যাক্তি, পরিবার, সমাজ থেকে রাষ্ট্রতে উন্নীত হয়ে ১৫টাকার সিট ও ৩৮টাকার পর্যন্ত চলে গেছে।

তবে খোটা দুই ধরনের হয়ে থাকে_
এক//
নিজের ব্যাক্তিগত সম্পূর্ণ মালিকানা বা আংশিক মালিকানার সম্পদ ব্যবহার করায় খোটা দেওয়া ।
দুই//
সমষ্টিগত মালিকানার দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে বা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে খোটা দেওয়া।

তবে প্রথম খোটার কিছু যৌক্তিকা থাকলেও দ্বিতীয়টা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বা বেয়াক্কেলর মত বলা যেতে পারে। এই অযৌক্তিক খোটা যে ক্রমবর্ধমান হারে বেড়ে চলছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

তাই এই খোটা-খুটির বিষয়ে আমার মনে হয় সংস্কার জরুরি। আমি বলছি না একদম বাদ দিতে,যেহেতু এটি একটি ঐতিহ্যগত প্রথা তাই এটি থাকুক এবং মানুষ মানুষকে যৌক্তিক খোটা দিক।
কবি ও সংগঠক মাসুদ পারভেজ

Sunday, July 8, 2018

হবিগঞ্জস্থ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের নৌকা ভ্রমণ ও জন্মোৎসব উদযাপন


জাতীয় পর্যায়ের সাহিত্য ও সংস্কৃতিক সংগঠন "ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা- হবিগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যেগে গতকাল ৭ জুলাই এশিয়ার বৃহত্তম গ্রাম বাণিয়াচং এর হাওড় অঞ্চলে আয়োজন করা হয় "হবিগঞ্জস্থ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিয়ে নৌকা ভ্রমণ ও জন্মোৎসব উদযাপন"।

গত ৫ জুলাই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়ক সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহানের জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে হবিগঞ্জ জেলা শাখা এই উদ্যোগটি গ্রহণ করে। এই উদ্যোগে সাড়া দিয়ে হবিগঞ্জের আরও কিছু সাহিত্য ও সংস্কৃতিক সংগঠন অংশগ্রহণ করে।

উক্ত আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রিয় সমন্বয়ক ও নির্বাহী পরিচালক মনসুর আহমেদ, সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক কবি আখতারুজ্জামান সুমন,  বিভাগীয় পরিচালক কবি অপু চৌধুরী, হবিগঞ্জ সাহিত্য পরিষদ এর সাধারণ সম্পাদক কবি এম এ ওয়াহিদ, দর্পন হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক সি এম রায়হান উজ্জল ও দর্পন পরিবার, সংগঠনের জেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আশীষ কুমার দাস, সমন্বয়ক ফয়েজ আহমেদ, হবিগঞ্জস্থ চুনারুঘাট যুব এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ফুল মিয়া খন্দকার মায়া,সংগঠনের কেন্দ্রিয় সদস্য মীর হাবিবুর রহমান সুমন প্রমুখ।

উক্ত আয়োজনের উদ্যাক্তা ছিলেন সংগঠনের জেলা কমিটির সদস্য,হবিগঞ্জস্থ চুনারুঘাট যুব এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক  আখতারুজ্জামান তপরদার জামান।

Sunday, June 24, 2018

সেন্টার ফর ন্যাশনাল কালচার (CNC) হতে সাহিত্যে বেগম সুফিয়া কামাল পদক পাচ্ছেন কবি জেসমিন রুমি


সেন্টার ফর ন্যাশনাল কালচার প্রতি মাসে চার ব্যাক্তিত্বকে সম্মাননা পদক প্রদান করে। এই ধারাবাহিকতায় চলতি মাসের ২৭ জুন নজরুল একাডেমিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে  চার জন ব্যক্তিত্বকে বেগম সুফিয়া কামাল পদক প্রদান করা হবে। কবি জেসমিন রুমিকে সাহিত্যে সম্মাননা পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। উনার শুভার্থীদের উক্ত অনুষ্ঠানে সবান্ধব আমন্ত্রণ।

Saturday, June 23, 2018

হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো সাহিত্য পত্রিকা 'আমাদের গল্পকথা'র মোড়ক উন্মোচন ও ঈদ পুনর্মিলনী


সাহিত্য ও সংস্কৃতিক সংগঠন ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা'র হবিগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে গত ২২ জুন রোজ শুক্রবার, বিকাল ৪ ঘটিকায় হবিগঞ্জের সুরবিতান ললিতকলা একাডেমিতে আবৃত্তি প্রতিযোগীতা, সাহিত্য পত্রিকা আমাদের গল্পকথা'র মোড়ক উন্মোচন ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে সংগঠনের কর্মীদের ফটোসেশন।

আমাদের গল্পকথার সম্পাদক আশীষ কুমার দাসের সঞ্চলনায় জেলা শাখার আহ্বায়ক মীর হাবিবুর ররহমান সুমনের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি ও সংগঠক তাহমিনা বেগম গিনি, বিশিষ্ট সাংবাদিক মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল, বিশিষ্ট গবেষক সাইদুর রহমান, সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়ক কবি সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান।

অনুুুষ্ঠানে উপস্থিত আমন্ত্রিত কবি, সাহিত্যিক ও সংগঠকদের একাংশ। 

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি ও সংগঠক ইউনুছ আকমাল, কবি অপু চৌধুরী, নাট্যকার সিদ্দিকী হারুন, কবি ও সংগঠক এম এ ওয়াহিদ, কবি আব্দুল্লাহ আবীর, সংগঠক সি এম রায়হান উজ্জল, কবি ফয়েজ আহমেদ, কবি বীথি কবির, কবি রাজিয়া সুলতানা, সংগঠক আমিনুল ইসলাম, কবি ইয়াছির আহমেদ, সংগঠক আখতারউজ্জামান তরপদার জামান, সংগঠক ফুল মিয়া খন্দকার মায়া, কবি সাজ্জাদ চিহ্ন, আবৃত্তিশিল্পী নাহিদা খান সুর্মি, কবি লাভলী চক্রবর্তী, কবি সুর্য কুমার প্রমুখ।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়কের পাশে নবনির্বাচিত হবিগঞ্জ জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক আশিস কুমার দাশ ও সমন্বয়ক ফয়েজ আহমেদ।

অনুষ্ঠান শেষে ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা'র হবিগঞ্জ জেলা কমিটি ঘোষনা করা হয়। প্রধান সমন্বয়ক আশীষ কুমার দাস,সমন্বয়ক ফয়েজ আহমেদ, নির্বাহী তত্বাবধায়ক আখতার উজ্জামান চৌধুরী  সুমন।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়কের পাশে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মনসুর আহমেদ।

অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও নির্বাহী পরিচালক মনসুর আহমেদ।

ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা" এবং "বাসাসপ" এর ফররুখ শীর্ষক আলোচনা এবং ঈদ পুণর্মিলনী সম্পন্ন


গতকাল ২২ জুন, শুক্রবার, লোহাগাড়া মেরিট স্কুল এন্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে "ভালোবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা" এবং "বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিবার (বাসাসপ)" চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে "মুসলিম রেঁনেসার কবি ফররুখ আহমদের জীবনী শীর্ষক আলোচনা এবং ঈদ পুর্ণমিলনী" সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে।


"ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা" চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির পরিচালক কবি আজাদ শেখের সঞ্চালনায় এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক কবি ও সংগঠক আবেদা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন "বাসাসপ" কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কবি ও কথাসাহিত্যিক মুহাম্মদ ইয়াকুব, "ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা" কেন্দ্রীয় পর্ষদের সিনিয়র পরিচালক কবি ও সংগঠক মামুন আব্দুল্লাহ, কেন্দ্রীয় পর্ষদের সিনিয়র পরিচালক কবি ও সংগঠক মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সংগঠক মোহাম্মদ ফিরোজ, যুগ্ম সমন্বয়ক ও "সবুজ বাংলা" ম্যাগাজিন সম্পাদক আবু নোমান হাফিজুল্লাহ।


অনুষ্ঠানে আবৃত্তি এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন কেন্দ্রীয় পরিচালক কবি ও সংগঠক মোঃ শাহ আলম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির পরিচালক কবি মোঃ হাসান তারেক, "বাসাসপ" চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির পরিচালক কবি মমতাজ উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির পরিচালক মোহাম্মদ রায়হান, কবি হিজবুল্লাহ রায়হান, কবি তাফসির উদ্দিন, সবুজ বাংলা সম্পাদনা পরিষদ সদস্য সাহেদ ফেরদৌস হিরু, শাখাওয়াত হোসেন হৃদয়, মোঃ শহিদ উদ্দিন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা রেঁনেসার কবি ফররুখ আহমদের জীবনের বিভিন্ন দিক ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন এবং পারস্পরিক ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

Friday, June 15, 2018

বাসাসস চট্টগ্রাম মহানগরী শাখার ঈদবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন


"বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিবার (বাসাসপ)" চট্টগ্রাম মহানগরী শাখার ঈদবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবৃত্তিকার কামাল উদ্দিন জিকু এবং কবি মামুন আব্দুল্লাহর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ঈদবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে হিসেবে উপস্থিত থেকে ছিন্নমূল শিশুদের মাঝে ঈদবস্ত্র বিতরণ করেন বাসাসপ উপদেষ্টা পরিষদের সম্মানিত সদস্য কবি শাহ্ মোহাম্মদ নিয়ামত উল্লাহ। কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক কবি পরিষদ (আকপ)'র সাধারণ সম্পাদক কবি ও সংগঠক সাজীব চৌধুরী।
চাঁদসন্ধ্যায় চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে রেললাইন বস্তির বিস্তীর্ণ অঞ্চল ঘুরে ঘুরে এখনও পর্যন্ত নতুন কাপড় পায়নি এমন শিশুদের খুঁজে বের করে তাদের হাতে ন্যায্য প্রাপ্ত তুলে দেয় বাসাসপ টিম। এসময় ছিন্নমূল শিশু, যাদের ঈদ আনন্দ নতুন পোষাকের অভাবে ভাটা পড়েছিলো তাদের মুখে অনাবিল হাসি ছড়িয়ে পড়ে।

ঈদবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচী কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করেছেন বাসাসপ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কবি ও কথাসাহিত্যিক মুহাম্মদ ইয়াকুব।

Thursday, June 14, 2018

ঘড়ি ও সময়ের গল্প ।। কবি নির্মলেন্দু গুণ

ঘড়িকে দেখে সময় হাসে।
সে ঘড়িকে ডেকে বলে--
তুমি এখানে কী করছো?
তুমি কে হে? --তুমি কে?

ঘড়ি প্রশ্ন শুনে ইতি-উতি চায়।
কিন্তু কাউকে দেখতে না পায়।

ঘড়ি প্রশ্ন করে, --আপনি কে?
আপনি কে? আপনি কোথায়?

সময় ঘড়ির কাঁটা ছুঁয়ে বলে,
এই যে আমি। আমি সময়।
দ্যাখো তো, চিনতে পারো কি না?
আমি ঈশ্বরের হাতের বীণা।

ঘড়ি দ্যাখে, কে যেন চকিতহাস্যে
মহাকাশে মুহূর্তে মিলায়।
তার অযুত আঁখি অন্ধ হয়ে যায়।
ঘড়ির সকল কাঁটা বন্ধ হয়ে যায়।

নয়াগাঁও
১৪ জুন ২০১৮
দেশবরেণ্য কবি নির্মলেন্দু গুণ

ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান


১৯০৪ সালে ফিফা (ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনাল ডি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ফিফার প্রচেষ্টায় ১৯০৮ সালে অলিম্পিকে ফুটবল প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাবে খেলার মর্যাদা লাভ করে। তারপর ১৯২৮ সালে ফিফার প্রথম সভাপতি জুলেরিমে অলিম্পিকের বাহিরে একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করেন। পরবর্তীতে সে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে সর্বপ্রথম ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে ফিফার প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ আসর অনুষ্ঠিত হয়। সেই বছর স্বাগতিক দল উরুগুয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ী হয়। ফিফার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি চার বছর অন্তর অন্তর ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করা হবে এবং সেটি এখনও চলমান আছে। কেবলমাত্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজন বন্ধ ছিল।

ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম আয়োজক ও ফিফার প্রথম সভাপতির নামানুসারে এই কাপের নাম ছিল "জুলেরিমে ট্রফি"। তখনকার নিয়ম অনুযায়ী, যে দল সর্বাধিক ৩ বার জুলেরিমে ট্রফি বিজয়ী হবে, জুলেরিমে  ট্রফি চিরতরে তার হয়ে যাবে। ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালে ব্রাজিল সর্বাধিক তিন বার বিশ্বকাপ ফুটবলে শিরোপা জেতার কারণে জুলেরিমে ট্রফি তাদের চিরদিনের জন্য দিয়ে দেওয়া হয়। যদিও ব্রাজিল সেই জুলেরিমে ট্রফি চিরতরে নিজেদের করে রাখতে পারে নাই। ১৯৮৩ সালে এই জুলেরিমে ট্রফিটি ব্রাজিল থেকে চুরি হয়ে যায়। ১৯৭৪ সালে থেকে জুলেরিমে ট্রফি নাম বদল করে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি নামে প্রচলিত আছে।

১৯৩০-২০১৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বকাপ ফুটবলের মোট ২০টি আসর বসেছে। এই ২০টি আসরে সর্বাধিক ৫ বার শিরোপা জিতেছে ব্রাজিল, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪ বার শিরোপা জিতেছে জার্মানি ও ইতালি, তৃতীয় সর্বোচ্চ শিরোপা জিতেছে উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা। এছাড়াও ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও স্পেন একবার করে শিরোপা জিতেছে।

বিশ্বকাপ ফুটবলে সর্বাধিক দশের উপরে গোলদাতা হচ্ছে, মিরোস্লাভ ক্লোসা (জার্মানি)- ১৬ গোল, রোনালদো (ব্রাজিল)- ১৫ গোল, গার্ড মুলার (জার্মানি)- ১৪ গোল, জাঁ ফতেইন (ফ্রান্স)- ১৩ গোল, পেলে (ব্রাজিল)- ১২ গোল, ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান (জার্মানি) ও স্যান্ডোর ক্রুসিস (স্পেন)- ১১ গোল।

২০০২ সালে জাপান-কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তুরস্কের তারকা স্ট্রাইকার হাকান শুকুর খেলা শুরু হওয়ার মাত্র ১১ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে হতভম্ব করে দিয়েছিলেন প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়দের। এখন পর্যন্ত এটাই বিশ্বকাপ ফুটবলে সবচেয়ে দ্রুততম গোল।

বিশ্বকাপ ফুটবলে সবচেয়ে হতভাগা দল হচ্ছে নেদারল্যান্ড, যারা তিনবার বিশ্বকাপ ফাইনালে অংশগ্রহণ করেও এখন পর্যন্ত শিরোপা বিজয়ী হতে পারে নাই।

তথ্যসূত্রঃ ইউকিপিডিয়া।
সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান (কবি, সংগঠক ও সম্পাদক)

Wednesday, June 13, 2018

ঈদ মানে ।। ফাতিমা জহুরা ময়না

ঈদ মানে নয় শুধু আনন্দের সাতকাহন
ঈদ মানে নয় শুধু খাবারের আয়োজন!

ঈদ মানে কলহ বিবাদের সমঝোতার দিন
ঈদ মানে এই দিন তাই অনিন্দ্য রঙ্গিন!

ঈদ মানে পবিএ দিনের মর্যাদাশালী হওয়া
ঈদ মানে আত্মীয়ের খোঁজ খবর নেওয়া!

ঈদ মানে দুঃখীর মনে দেবো প্রজাপতি বাড়ি
ঈদ মানে তইতো পূর্ণীর পাল্লাটা ও ভারী

ঈদ মানে বিষাদের সাথে, নিরন্তর আড়ি
ঈদ মানে তাই আজ, প্রজাপতি হয়ে উড়ি!
কবি ফাতেমা জহুরা ময়না

প্রবাসে ঈদ মানে বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখা ছাপা ব্যথা ।। জোসনা হক

এক মাস সিয়ামের পর খুশির আমেজ নিয়ে আসে ঈদ।
এই ঈদ উদযাপন করার অধিকার সবার আছে। বছরের পর বছর এই সুদূর প্রবাসে পরিবারের সুখের জন্য দিনযাপন করে যাচ্ছে অনেক প্রবাসী। এমন অনেক প্রবাসী আছেন, পরিবারের সাথে ঈদ করছেনা অনেক বছর। ইচ্ছে করছেনা এমন না, জীবনের প্রয়োজনের তাগিদে বাধ্য করেছে ঈদের খুশির দিন গুলোতে প্রিয়জন থেকে দূরে থাকতে। ঈদ বা  বিশেষ দিন গুলোতে প্রবাসীরা কত যে কষ্টে দিন গুলো পার করে একমাত্র উপর ওয়ালা জানে। চাঁদরাত পর্যন্ত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের পর, ঈদের নামাজ শেষে দু-একজন বন্ধু-বান্ধবের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর ভারাক্রান্ত মন নিয়ে যখন বাসায় এসে ক্লান্ত দেহখানি বিছানায় এলিয়ে দেয়, ঠিক তখনি মনে পড়ে প্রিয়জনদের কথা। ইচ্ছে হয় উঁড়াল দিয়ে চলে যাই কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, চাইলে তো আর যাওয়া যায়না। এই যেতে না পারার পেছনে সফলতার চেয়ে হাজারো ব্যর্থতার গল্প আছে। ভাগ্যে আর জীবনের সাথে সমঝোতা করে, চোখের কোণে লোনাজল গুলো মুছে মোবাইলটা হাতে নিয়ে ফোন করে প্রিয়জনদের। সব ব্যথা লুকিয়ে উৎফুল্ল কণ্ঠে বলে মা, ঈদ মোবারক, ঈদের নামাজ পড়ে আসলাম। মা, তোমরা সবাই সব কিছু নিয়েছো তো? এইবার ঈদে বাড়ীতে কি রান্না হবে, ভাই-বোন-ছেলে-মেয়ে সবাই খুশি হয়েছে কি?
অপরপ্রান্ত থেকে কি জবাব আসে আমাদের সকলের জানা আছে। কষ্টটা আর থাকেনা, আনন্দ বেড়ে যায় সবার খুশির কথা শুনে। বিছনায় এপাশ ওপাশ করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম থেকে উঠে যাদের বন্ধু-বান্ধব আছে তাদের নিয়ে সন্ধ্যার দিকে লোহিত সাগর প্রান্তে আড্ডায় মেতে উঠে। আবার অনেকে আছে ঈদের দিনেও কর্মস্থলে ফিরে যেতে হয়।
 জীবন বাস্তবতায় অনেক প্রবাসীর স্বপ্ন, আশা, চাওয়া-পাওয়া ঘুমিয়ে পড়ে বুকের ভেতর নিরবে, নিভৃতে। স্বপ্ন গুলো কেবল দুচোখে সীমাবদ্ধ, আশা গুলো নিরাশার কাফনে মুড়ানো, চাওয়া গুলো ঠিকানাবিহীন,পাওয়া গুলো সংকীর্ণ।
মরুকবি ও সংগঠক জোসনা হক

আশার ক্ষুদ্র ঋণ বিশেষজ্ঞ কবি সাইফুর রহমান কায়েসের বিদেশ গমণ


হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার নরপতি গ্রামের কৃতিসন্তান কবি, প্রাবন্ধিক, ক্ষুদ্রঋণ বিশেষজ্ঞ ও জয়বার্তার আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাইফুর রহমান কায়েস আগামী ১৪  জুন রোজ মঙ্গলবার ভারত, নেপাল ও ভুটান ভ্রমণে যাচ্ছেন। তিনি সেখানে এক সপ্তাহব্যাপী অবস্থানকালে বিভিন্ন  ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানসমূহ ঘুরে দেখবেন। দেশ ত্যাগের প্রাক্কালে তিনি সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছেন।
আগামী  ২২ শে জুন তিনি দেশে ফিরবেন। উল্লেখ্য যে ইতিপূর্বে তিনি ফিলিপাইন, নাইজেরিয়া ও ঘানাতে ক্ষুদ্রঋণ বিশেষজ্ঞ হিসেবে ৫ বছর কাজ করেছেন। গত বছর ফিলিপিনো  কবি ও রাষ্ট্রদূত মান্যবর ভিন্সেন্ট ভিভেন্সিও বান্ডিলিওর আমন্ত্রণে ফিলিপাইন ভ্রমণ করেন।

Sunday, June 10, 2018

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথার মাসিক সাহিত্য আড্ডা ও ইফতার মাহফিল


গতকাল শনিবার, ৯ জুন ২০১৮ ইং, গোসাইডাঙা রামকৃষ্ণ বহুমুখী (জি আর কে) উচ্চ বিদ্যালয়, আগ্রাবাদে সাহিত্য ও সংস্কৃতিক সংগঠন "ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা" চট্টগ্রাম বিভাগের উদ্যোগে যুগ্ম সমন্বয়ক আবেদা সুলতানার সভাপতিত্বে আজাদ শেখের সঞ্চালনায় মাসিক সাহিত্য আড্ডা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সাহিত্য আড্ডার আলোচ্য বিষয় ছিল "জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিল"।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাসাসপ'র প্রধান উপদেষ্টা বিশিষ্ট কবি ও সংগঠক নিয়ামত উল্লাহ, ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথার কেন্দ্রীয় পর্ষদের পরিচালক মাসুদ পারভেজ, আকপ'র সাধারণ সম্পাদক সাজীব চৌধুরী, বিশিষ্ট সাংবাদিক রাজিব চৌধুরী, সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়ক আবু নোমান হাফিজুল্লাহ, পরিচালক তুষার আহমেদ চৌধুরী, তানভীর সিকদার,  আলমগীর সিরাজ, দেলোয়ার হোসেন। এছাড়াও অনেক নজরুল প্রেমী কবি সাহিত্যিক ও আবৃত্তি শিল্পী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্মের নানান দিক আলোচনা করে বলেন। বাংলা সাহিত্যে নজরুলের দেখানো পথ ধরে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে সমস্ত অন্যায় অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মধ্যে দিয়ে।

সুন্দর প্রাণবন্ত একটি সাহিত্য আড্ডা উপহার দেওয়ার জন্য উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান বিভাগীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক সাংবাদিক মোঃ ফিরোজ।

পাঞ্জেরী ।। কবি ফররুখ আহমদ

রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা, হেলার এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি মাস্তলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
দীঘল রাতের শ্রান্তসফর শেষে
কোন দরিয়ার কালো দিগন্তে আমরা পড়েছি এসে?
এ কী ঘন-সিয়া জিন্দেগানীর বা’ব
তোলে মর্সিয়া ব্যথিত দিলের তুফান-শ্রান্ত খা’ব
অস্ফুট হয়ে ক্রমে ডুবে যায় জীবনের জয়ভেরী।
তুমি মাস্তুলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
সম্মুখে শুধু অসীম কুয়াশা হেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
বন্দরে বসে যাত্রীরা দিন গোনে,
বুঝি মৌসুমী হাওয়ায় মোদের জাহাজের ধ্বনি শোনে,
বুঝি কুয়াশায়, জোছনা- মায়ায় জাহাজের পাল দেখে।
আহা, পেরেশান মুসাফির দল।
দরিয়া কিনারে জাগে তক্দিরে
নিরাশায় ছবি এঁকে!
পথহারা এই দরিয়া- সোঁতারা ঘুরে
চলেছি কোথায়? কোন সীমাহীন দূরে?
তুমি মাস্তুলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
একাকী রাতের গান জুলমাত হেরি!
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
শুধু গাফলতে শুধু খেয়ালের ভুলে,
দরিয়া- অথই ভ্রান্তি- নিয়াছি ভুলে,
আমাদেরি ভুলে পানির কিনারে মুসাফির দল বসি
দেখেছে সভয়ে অস্ত গিয়াছে তাদের সেতারা, শশী।
মোদের খেলায় ধুলায় লুটায়ে পড়ি।
কেটেছে তাদের দুর্ভাগ্যের বিস্বাদ শর্বরী।
সওদাগরের দল মাঝে মোরা ওঠায়েছি আহাজারি,
ঘরে ঘরে ওঠে ক্রন্দনধ্বনি আওয়াজ শুনছি তারি।
ওকি বাতাসের হাহাকার,- ও কি
রোনাজারি ক্ষুধিতের!
ও কি দরিয়ার গর্জন,- ও কি বেদনা মজলুমের!
ও কি ধাতুর পাঁজরায় বাজে মৃত্যুর জয়ভেরী।
পাঞ্জেরি!
জাগো বন্দরে কৈফিয়তের তীব্র ভ্রুকুটি হেরি,
জাগো অগণন ক্ষুধিত মুখের নীরব ভ্রুকুটি হেরি!
দেখ চেয়ে দেখ সূর্য ওঠার কত দেরি, কত দেরি!!
কবি ফররুখ আহমদ


Wednesday, June 6, 2018

বিষাদিত নির্ঘুম রাত ।। ইউনুছ আকমাল

চারিধার সুন সান,আঁধারে ঢাকা,
নেই কোন উচ্ছ্বাস,নেই খুশির ফোয়ারা,
পৃথিবীর সব কিছুই যেন বিষাদিত:
তোমার চলে যাওয়াতেই হয়তো।

কি অপরাধ ছিল-চন্দনা!
নিঃস্ব করে চলে গিয়েছো বহু দূরে,
দুঃখের সাথে আজ পরম আত্মীয়তা;
ঘুমহীন রাতের পাখির মতো-
এপাশ ওপাশ গড়া গড়ি দিয়ে
পাড়ি দিচ্ছি রাতের কষ্টের নদী।

কেন এমন করলে- চন্দনা!
কেন করলে এমন প্রতারণা?
ভাসিয়ে আমায় অকূল পাথারে,
আছো তুমি দৃষ্টির আড়ালে।

তোমার শূন্যতা পীড়া দিচ্ছে বারবার,
কোন কিছুই লাগে না ভালো,
বিষন্নতায় বসে না মন কোন কাজে;
আছো তুমি ভাবনায় সারাক্ষণ।

বিষাদিত আঁধার আমাকে ছেয়ে আছে,
মুক্তির পথ খুঁজি,পালাবার পথ নেই,
কারণে-অকারণে আঁধারের পানে-
ধূসর দৃষ্টি,ঝাপসা অতীত,
এ কোন মরণ খেলায় অন্তঃক্ষরা!!
কবি ও সংগঠক ইউনুছ আকমাল

শুধু একটি কবিতার প্রতিক্ষায় ।। রোকসানা সুখী

নিত্যই!!
শুধু একটি কবিতার প্রতিক্ষায়-
কতযুগ কাটিয়েছি  নির্ঘুম?
চাঁদ-তারারাও অপেক্ষার প্রহর কেটে কেটে লুকিয়েছে অমাবস্যার আঁধারে।
মুক্ত বাতাসও নৃত্যের ঝংকার তুলে তুলে আজ বড্ড ক্লান্ত।
দিবালোকের সূর্যরাজা সময়ের কাঁটায় হেঁটে হেঁটে চলেছে নির্বাসনে
নীল আকাশের ছটফটে পাখিরাও হতাশার গ্লানি মেখে মেখে মুখ গুজেছে আপন পালকে।
জানো নিত্যই!!
শুধু একটি কবিতার প্রতিক্ষায়!!
বিন্দু বিন্দু অশ্রুকণারা শুষ্ক মৃত্তিকাকে পরিয়েছে কর্দমার কাপড়।
ভোরের সদ্য ফোঁটা জুঁই চামেলিরাও একাকিত্বের বাসরে কেঁদে কেঁদে হয়েছে নিষ্প্রাণ
একটি কবিতার প্রতিক্ষায়!!
স্রোতস্বিনী সুরমা কলকলধ্বনিতে শত শতাব্দীকাল তুলেনা তুমুল সুর।
 পাখিরাও কুঞ্জুবনে কলতানের কাঁকন বাজিয়ে বাজিয়ে হতাশার হাতিয়ারে নিষ্ফলক নিশ্চুপ।
রাখালিয়া বাঁশরীও যুগ-যুগান্তরের চক্রগতিতে নেচে নেচে হয়েছে বিলীন ।
শুধু একটি কবিতা প্রতিক্ষায়!!
 হাহাকারের তাণ্ডবে পাথরের প্রতিচ্ছবি ধারণ করেছে আমার ব্যাকুল বুক।
শুষ্ক ঝর্নার নিঁখুদ ছবিও এঁকেছে আমার কাঁচা কাজল দিগন্ত দু'চোখ।
শরীরের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে বিষাদের উইপোকারা খুঁজে নিয়েছে আপন সুখ।

শুধু একটি কবিতা লিখবো বলে-
জানো নিত্যই!!
নির্ঘুম অভিমানী অক্ষরগুলো কিলবিল করে খুঁজে তোমার সুঠাম বুক।
খুঁজে ফিরে নিঁখুদ ভাস্কর্যের কারুকাজে আঁকা সেই চির চেনা সুশ্রী মুখ।
খুঁজে ফিরে আজো সেই রংধনুর সাত রঙে রঞ্জিত সোনালি স্বপ্নিল পুল।
বিশ্বাস করো নিত্যই!!
আজো শুধু একটি কবিতার প্রতিক্ষায়!!

১৯-৪-২০১৭
বিকাল ৪টায়।
কবি, সংগঠক ও প্রকাশক রোকসানা সুখী

Tuesday, June 5, 2018

আবু সাহেদ সরকার'র রঙরস

দেহ দোলায় নর্তকীরা
কবি দোলায় কলম,
দোলায় দোলায় রসিক দোলে
লাগায় রসের মলম।