Thursday, May 31, 2018

ঈদে বাবা আসবে ।। জেসমিন রুমি

রাত আড়াই'টা বাজে, কারওয়ান বাজার৷ রাস্তার ধারে বশির দাড়িয়ে আছে৷ বশির একা নয়, বশিরের মতো আরো অনেকেই আছে৷ সবার হাতে ব্যাগ, বস্তা,  কাপড়ের পোটলা৷ উত্তরবঙ্গ থেকে প্রতিদিন কাঁচা তরকারির ট্রাক আসে, রাতে আবার ফিরে যায়। সেই ট্রাক এ বাড়ি ফিরে সল্প আয়ের মানুষ৷চল্লিশ টাকা, পঞ্চাশ টাকায় রংপুর দিনাজপুর পার্বতিপুর যাওয়া যায়। উত্তর বঙ্গের যে কোন জায়গায় যাওয়া যায়৷ স্বল্প আয়ের মানুষের পক্ষে ছয়'শ, সাত'শ টাকা ভাড়া দিয়ে বাসে ট্রেনে বাড়ি যাওয়া সম্ভব হয় না৷ এই সুবিধাটা অনেক বড় পাওয়া বশিরের মতো মানুষদের জন্য।
বশির মাসে দু'বার বাড়ি যায়, কুড়িগ্রাম৷
বউ আছে, তিন ছেলে আছে৷ সুলতান, রাজা, বাদশা৷ বশিরের ভাঙ্গা ফুটা চালের, বেড়ার ঘরে রাজা বাদশা। বশির বউ কে বলেছিল হুন বউ, আল্লাহ্ চাইলে কিনা পারে৷ দেহিস আমার পোলারা একদিন রাজা বাদশা হবারও পারে।
অভাবের সংসার৷ সুলতান স্কুলে যায়৷ ক্লাস ফাইভে পড়ে৷ ছোট দুইটা এখনো স্কুলে যায়না৷ বাড়িতে খরের চালের দুইটা ঘর, বাড়ি ভিটায় চারদিক দিয়ে সারাবছর বিভিন্ন রকম শাক সবজি আবাদ করে বশির, সংসারের খাওয়াটা চলে তাতে৷ফাঁকে ফাঁকে ঢাকায় চলে আসে, পাইকারদের তরিতরকারীর ডালা টানে রাতভর৷ একটা মেস বাড়িতে কয়েকজন মিলে থাকে, খালাদের রান্না খায়৷ দশ বারো দিনে কিছু টাকা জমলেই বাড়ি যায়৷ এভাবেই কাটছে বশিরের সংসার৷
রোজার মাস, শেষবার যখন বশির ঢাকা আসলো আমেনা বলে দিছে ঈদের সময় শার্ট প্যান্ট নিয়ে নিতে, পোলাগো ঈদের জামা প্যান্ট৷ আমেনা বশিরের বউ, নিজের কথা কোনদিন একবারও বলেনা ৷তারপর ও বশির তো বোঝে, আমেনার দুইটা মোটা শাড়ি কত দরকার৷ সুলতান কখন এক ফাঁকে  সবাইকে লুকিয়ে ছোট্ট একটা চিঠি লিখে বশিরের কাপড়ের ব্যাগে চুপ করে রেখে দিসে৷
সেই চিঠি বশির এখনো খুলে দেখেনি৷ না জানি সুলতান কি লেখছে।
ধীরে ধীরে মানুষের ভীর বাড়ছে, কাল ঈদ, সব জায়গায় ঘরমূখো মানুষের ভীর৷ একটুপরই ট্রাক ছাড়বে, উত্তরবঙ্গ মূখী৷
ঝির ঝির বৃষ্টি পরছে, তিরিশ চল্লিশ জন মানুষ৷ শংকিত হয়ে পরে৷ ভিজতে হবে সারা পথ, বৃষ্টি যদি না থামে৷
সংবাদ পত্রের গাড়িগুলাতেও এই ব্যাবস্থা আছে৷বাড়ি ফেরার৷ সংবাদপত্রের গাড়িতে  আরো বেশী ভাল হয়,আরামে যাওয়া যায়, কাভার্ড ভ্যান৷ মনে হয় ঘরের মধ্যেই শুয়ে আছি৷ রোদ বৃষ্টির  টেনশন থাকেনা৷ কিন্তু ভাড়া'টা বেশী৷ সত্তর আশি টাকা চায় ৷ অনেকেই যেতে চায়, ভাড়া শুনে ঘুরে আসতে মুখ খারাপ করে গাল দেয় শালা'র এসি কোচ পাইছে? সুযোগ বুঝে ভাড়া বেশী চাইতেছে।
গাড়ি ছেড়ে দেয়৷ ট্রাকের পিছনে চল্লিশজন মানুষ গাদাগাদি গায়ে গায়ে হেলান দিয়ে বসে আছে৷ বেশীর ভাগ ওরা কুড়িগ্রাম রংপুর, গাইবান্ধার ....ঢাকায় অনেকেই বশিরের মতো এই পেশায় জড়িত,আর কয়েকজন রিক্সা চালায়৷ মাটি কাটে, রাজ মিস্ত্রির কাম করে ৷
সবার জন্যই নতুন কাপড় কিনছে বশির ,কারওয়ান বাজারে ঈদের সময় মনে হয় নতুন কাপড়ের হাট বসে ৷সবই পাওয়া যায় ৷পোলা গো, মাইয়া গো৷ আমেনার শাড়ী কিনছে, তিন বেটার শার্ট প্যান্ট ,বশিরের মাপ লাগেনা৷ চোখের আন্দাজে ঠিক মতোই কিনে৷ আহারে ! সুখে বুকটা ভরে যায় বশিরের৷
 ট্রাক ছাড়তেই ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসে বশিরের৷ সুলতানের চিঠির কথা মনে পরে৷ ব্যাগের মধ্যে হাত দিয়ে হাতড়িয়ে এক কোনায়  চিঠিটা পাওয়া যায় ৷
অল্প আলো আঁধারিতে চিঠিটা পড়ে বশির৷
সুলতানের হাতের লেখা তো বেশ সুন্দর হইছে !!
আব্বা,
এবার আসার সময় আমার জন্য শার্ট প্যান্ট আইনো ৷কেলাসের সব্বাই ঈদে নতুন শার্ট প্যান্ট কিনবে ৷ আমার সরম লাগবে আব্বা!
ভুলে যাইওনা৷ সুতা দিয়ে মাপ দিলাম৷
     ইতি
তোমার বড় ছেলে
সুলতান৷
 বশির চিঠিটা ভাজ করে পকেটে রাখে ,সুতাটা হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখে ,মনে মনে বলে....কিনছি রে বাজান৷
       বশিরের চোখ লেগে আসে ,ঘুমিয়ে যায়৷ অন্য সবাই ঝিমাচ্ছে, ঘুমাচ্ছে৷ ট্রাক তখন যমুনা সেতু পার হয়ে ,সিরাজগঞ্জ মোড় পার হয়ে  হাটিকুমরুল থেকে বগুড়ার দিকে ছুটে চলছে৷ বৃষ্টির জোর বেড়েছে৷ মানুষ গুলা নীল পলিথিনের নীচে জোড়োসড়ো হয়ে ঘুমের মধ্যে ৷
বশির স্বপ্ন দেখে ঈদের জামা পরে বন্ধুদের লগে ঘুরছে, সুলতান যেন সত্যিকারের সুলতান ,চোখে মুখে একটুকুও সরম নাই ৷
সুলতান মেট্রিক পাশ দিলে ঢাকার গার্মেন্টেস এ একটা চাকরী হবে ,তখন বশির আর এতো কষ্টের কাম করবেনা ,ভেবে রাখছে৷ সেদিন আর কত দুর? কত দিন বাঁকী ......
        প্রচন্ড একটা ধাক্কায় বশিরের ঘুম ভাঙ্গে যায় ৷ সবাই জেগে গেছে ৷ ট্রাক চান্দাইকোনার কাছাকাছি প্রায় ৷ হৈচৈ ... হাউমাউ কান্নায় ভারি চারদিক৷ একটা নাইট কোচ থাক্কা দিয়েছে পিছন থেকে৷ নিয়ন্ত্রন নাই৷ বৃষ্টির পানিতে রাস্তা পিছলা৷
         বশিরদের ট্রাকটা তিনটা পল্টি দিয়ে একেবারে রাস্তার পাশের পাগারে৷ তারপর সব শেষ৷
চারিদিকে আশপাশের গ্রামের ,পাড়ার সব মানুষ জড়ো হয়ে গেছে৷ কিছুক্ষন আগে ঈদের নামায শেষ করেছে মুসুল্লিরা৷ অস্ফুট আওয়াজ মুখে ৷ এত্ত গুলা তাজা প্রাণ !ইশরে ঈদের দিন, ঈদটাও কপালে নাই .....
পাগারের পানি লাল হয়ে আছে৷ মনে হয় যেন লাল পানির বৃষ্টি হয়েছে ৷
প্রশাসনের লোকজন জমায়ত হয় ৷ তাৎক্ষনিক সব ব্যাবস্থা নেয় ৷ লাশ গুলো সব বগুড়া থানায় নিয়ে যায় ৷আইনি প্রকিয়া শেষ করে যার যার বাড়ি পৌছানোর লাশ ব্যাবস্থা নেয়া হবে৷

কুঁড়িগ্রাম , বাঁশ পাড়া, ঘরে ঘরে ঈদের খুশী৷পোলাপানরা সব দৌড়াদৌড়ি করে খেলছে, আনন্দে মেতেছে৷ আমেনা সেমাই রান্না করছে৷ তিন ভাই খাইছে,আমেনা বশিরের জন্য অপেক্ষা করে ৷সুলতান গেছে পাশেই এক বন্ধুর বাড়ি৷ টেলিভিশন দেখতে৷ বন্ধু জিগায় ..,তোর নতুন শার্ট কই রে....... সুলতান বলে ,বাবা আনবে৷ টেলিভিশনে দেখাচ্ছে ঢাকা থেকে উত্তর বঙ্গ গামী একটি শ্রমিক ভর্তি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খাদে পরে গেছে৷
সুলতান মন খারাপ করে চলে আসে ৷বাবা যে কখন আসবে ,নতুন শার্ট প্যান্ট পড়ে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাবে৷বাড়ান্দায় বসে বাবার জন্য অপেক্ষা করে, বাবা আসবে..
সুলতানের কানে একটা আওয়াজ এলো, মনে হলো বাহিরে কারা যেন বলছে বশির .............সুলতান এক ঝটকায় উঠে দাড়ায় ......বাড়ি কাঁপিয়ে আকাশ কাঁপিয়ে চিল্লায় বলে উঠে মা .... .....বাবা বাড়ি আসছে ....
সুলতান বাড়ির বাহিরে এসে দাড়ায়, পাশে আমেনা রাজা বাদশা কে নিয়ে দাড়িয়ে ৷দুরে দেখা যায় একটা ভ্যান আসছে, অনেক মানুষ সাথে  হেটে আসছে ...সব কিছু অস্পস্ট......!!!
কবি ও সংগঠক জেসমিন রুমি  

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাটে “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিল" অনুষ্ঠিত হলো।



গতকাল ৩০ মে, ২০১৮ইং, রোজঃ বুধবার, সাহিত্য ও সংস্কৃতিক সংগঠন "ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা" পরিবারের সিলেট বিভাগীয় পর্ষদের নিয়মিত আয়োজন "মাসিক সাহিত্য আড্ডা"য় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হলো। সংগঠনের সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক ইউনুছ আকমালের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় সম্মানিত সদস্য ফজল মোহাম্মদ এর আহ্বানে তার নব নির্মিত ভবন সাবিনা মহলে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব আবেদ হাসনাত চৌধুরী সনজু-চেয়ারম্যান আহম্মদাবাদ ইউ/পি, হবিগঞ্জ, আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি, সম্পাদক ও সাংবাদিক  এস এম তাহের খাঁন ও সংগঠনের সিনিয়র পরিচালক কামাল আহমেদ।
এতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, সম্পাদক ও সংগঠক - সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান, এডভোকেট মোস্তাক আহম্মদ সভাপতি - “ধামালি, চুনারুঘাট”, হবিগঞ্জ, মো: রফিকুল ইসলাম, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ, কে এম আনোয়ার হোসেন- সভাপতি, যুবলীগ, চুনারুঘাট উপজেলা, নুরুল আমিন- সিনিয়র সাংবাদিক, মো: ফুল মিয়া-সাবেক সেনা সদস্য, মো: শহিদুল ইসলাম- সাবেক সেনা সদস্য প্রমূখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জহিরুল ইসলাম,  আনিসুজ্জামান মোল্লা, ওয়াসিম শাহরিয়ার, মাসুক ভূঁইয়া, আরিফুর রহমান ভূঁইয়া রুমন, সাংবাদিক জিলানী আখঞ্জী, সাংবাদিক নাসির আহমেদ প্রমূখ। কবিতা আবৃত্তি করেন জনাব- এডভোকেট মোস্তাক আহম্মদ, জনাব মো: রফিকুল ইসলাম প্রমূখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন- শাহ আলম। পরিশেষে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তা ও আলোচকগণ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়ক ও প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান সফল আয়োজনের জন্য জনাব ফজল মোহাম্মদ সহ আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

Wednesday, May 30, 2018

অপরাজিতা ।। জোছনা হক


রাস্তার ল্যাম্প পোস্টটা তখনও জ্বলছে প্রতিদিনের মতো, 
আমি তখন আমার ঝুল বারান্দায় হাতে কলম,
কাগজ নিয়ে পায়চারী করে যাচ্ছি অবিরত, 
মাথায় আসছেনা,আটকে আছে সব কথাগুলো গলার কাছে। 
আবার উঁকি দিয়ে দেখি পোস্ট লাইটের দিকে,
যখন দেখি মনে হয় এই শুনশান শহরের পোস্ট লাইটি আমার শেষ প্রেরণা। 
আমার যখন পাশে কোন সঙ্গী, একটি হাত প্রয়োজন, 
তখন সময়ের বন্ধুদের ছায়া পর্যন্ত খোঁজে পাইনা। 
নীল চাঁদরে, ধোঁয়াটে কুয়াশা ল্যাম্প পোস্টটাকে কতো আদরে ঘিরে রাখছে। 
আমার কষ্টের জীবনে, 
যন্ত্রনা হয়ে শরীরে অসংখ্য দাগ কাটুক এ মূহুর্তে যতো খুশি, যতো ইচ্ছে। 
ওদের টেনে নামাবোনা আজ, কাল সাঁপ হয়ে ধ্বংস করে যাক আমার লাল রক্ত। 
পায়ের গোড়াইল থেকে মুখবিবর হয়ে পৌষ্টিক নালীর প্রতিটা পর্যায়ে জ্বালিয়ে, 
ছিড়ে-ফুঁড়ে খাক্ করে নীল হয়ে যাক আমার সমস্ত অস্তিত্ব। 
যতো শক্তি,জোর আছে হৃদয়ের দুয়ার আঁচড়িয়ে, 
ভেঙ্গে ফেলুক, শান্ত হোক তারা, দরকার নেই থামানোর। 
অতি প্রাচীন আমি,
নতুন কোন আবেগী ভাবনা আমাকে জাগিয়ে বেশীক্ষণ রাখতে পারেনা,
ততক্ষণে আমার অনুভূতিরা তাদের নিঃশেষ করে ফেলেছে, 
আবার অভিনয় ভরা এক সকালে অনেকগুলো মিথ্যার লাশ জমেছে শিশিরের কদমে, 
 আবার শুনশান রাত ফিরে আসে, সেই পোস্ট লাইট অপরাজিতা, 
অপরাজিতা বলে চিৎকার দিতে থাকে আমার ঝুল বারন্দায়। 
আমিও ফিরে আসি কাগজ,কলম নিয়ে।

সুরের মূর্ছনা ।। তমা ইয়াসমিন

নিরাবতা ভেঙ্গে শেষ রাতে কলের মুখ নিংড়ে,
ঝড়ে পড়া জলের ফোটা,
টুবটাব একটানা জেদি শব্দ,
ভীষন ভাবে কানে লাগে।

ঘুম যেন হাহাকার সাদা কাগজের,
গায়ে লাল তেলাপোকা,
ক্ষিধে ভরা মন টেনে নেয়,
জাকপাকা সফেদার অ-পরিপক্ক গায়।

কি এক একাকি বিভৎস অচেনা রাত,
চারিদিকে দমফাটা গুমোট নিরবতা শুনশান,
একটু বে-খেয়ালে মাশুল টানবে অনন্ত কাল,
যেনো চোখ দু'টো চেনা সাবক হরিনীর মন।

শজনেডাটা ঢলে পড়ে রাতের অাঁধারে,
 ঢেউয়ে ঢেউয়ে হেলেঞ্চা স্হীর বাতাসে,
হেলেদুলে বয়ে চলে নিপূণ হাতের কারূকাজে,
 মর্মর অথচ মলায়েম ভেজা সুরে।

জল প্রপাতে বাস্তবজীবনের খেলা,
অঁঠাই জলে ভাসিয়ে কলার ভেলা,
প্রচন্ড চাঁপে বুকের নরম পাঁজরে,
পার ভেঙে আঁচড়ে পড়ে ভীষণ জোড়ে।
কবি ও সংগঠক তমা ইয়াসমিন।

মুয়াজ্জিন ।। আহসান ইমরোজ খান


এই অবেলায় কে ডেকে যায়
আমার ঘরে
আপন করে চেনা সুরে?
.
কে এঁকে যায় মায়ার বাঁধন
পাগল করে
চুপটি করে পালায় দূরে?
.
কে হেসে যায় ঠোঁটের কোনায়
মুচকি হেসে,
করুণ সুরে বাজায় বাঁশি?
.
কে দিয়ে যায় সুখের পরশ
এই সিয়ামে,
মুক্তি সনদ রাশি রাশি?
.
কে মুছে দেয় বিহান দুপুর
বিকাল বেলা
রবের নামে ক্লান্তি যত?
.
কে বুণে যায় সন্ধ্যা রাতে
আল্লা নামে
রহম ধরায় অবিরত?
.
৩০.০৫.১৮ইং
ভুঞাপুর, টাংগাইল
কবি আহসান ইমরোজ খান

গীতিনাট্যঃ দু'টি পিস্তল ।। আখতার উজ্জামান সুমন


আবহাওয়াটা উচ্ছ্বাস আর উল্লাসে ভরা। গ্যালারিতে দর্শকশ্রোতা মুহুর্মুহু করতালি আর চিৎকার দিয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছে প্রিয় দলকে। প্রিয় খেলোয়াড় একের পর এক গোল দিয়ে যাচ্ছে প্রতিপক্ষের জালে। আজ ফাইনাল। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসিত ঢেউ! হঠাৎ দৃশ্যপট পালটে গেলো।

চারপাশে অভিমানের ঢেউ। অভিমানী প্রশ্ন তুমি থেকে আপনিতে উঠে এসে জিজ্ঞেস করলো-
- ঘুমাননি এখনো?
বিগলিত উত্তর- না। অনুযোগ করে বলল- তুমিও তো ঘুমাওনি। বলতে বলতেই তার মনে হল, অভিমান কি প্রশ্নের একান্ত? তার প্রশ্নেও অভিমান থাকতে পারে! হ্যাঁ, থাকতেই হবে। তাই তার প্রশ্নও তুমি থেকে আপনিতে উঠে জিজ্ঞেস করলো-
- আপনি ঘুমাননি কেন?

ব্যাকগ্রাউন্ডে অলক্ষ্যে তখন আ............... ধ্বনিত হয়ে রোমাঞ্চ বেজে উঠলো। অলক্ষ্যে পর্দার আড়ালে গাইতে লাগলো-
"অনেক ভালোবাসি তোমাকে প্রিয়তম।
কসম চাও তো, নিতে পারো; খোদা কসম!
অনেক ভালোবাসি তোমাকে প্রিয়তম।
সাগরের বাহুডোরে উদারতা আছে যতো
আমারো প্রেম আছে তোমার তরে ততো।
এই যে অস্থিরতা, তা আর কখনো কমবে না।
আমার এই গান তোমারই ধ্যানজ্ঞান;
তোমাকে ছাড়া আর কোনো বাঁচা নেই আমার।
এভাবেই চাইতে থাকবো তোমায় যতক্ষণ আছে প্রাণ।
অনেক ভালোবাসি তোমাকে প্রিয়তম।
কসম চাও তো, নিতে পারো; খোদা কসম!"

গাওয়া শেষ। আ............... ধ্বনি এখনো চলছে অলক্ষ্যে। ভণিত অভিমান কমেনি এখনো। তবুও বলছে-
- হ্যাঁ, অনেক ভালোবাসি তোমাকে প্রিয়তম। কী করছেন?
দৃশ্যপটে চারদিক থেকে চোখ ধাঁধানো রক্তাক্ত হৃদয়গুলো উড়তে লাগলো। মুহূর্তের মধ্যে পেছনে হাজারো নক্ষত্র জ্বলে উঠেছে; কানে ঝনঝনানি দিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ডে গাইতে শুরু হল-
"বকুলের মালা শুকাবে
রেখে দেব তার সুরভী
দিন গিয়ে রাতে লুকাবে
মুছো নাকো আমারই ছবি
আমি মিনতি করে গেলাম।
ভালোবেসে আমি বার বার
তোমারি ওমনে হারাবো
এই জীবনে আমি যে তোমার
মরণেও তোমারই হব।
তুমি ভুলো না আমারও নাম।
এই মন তোমাকে দিলাম
এই প্রেম তোমাকে দিলাম।
তুমি চোখের আড়াল হও
কাছে কিবা দূরে রও
মনে রেখো আমিও ছিলাম।"

এবার শাণিত ও ভণিত দু'টো অভিমানেরই অন্তর্ধান ঘটলো। বলল-
- ভালোবাসি।
- আলিঙ্গন করো।
- সেই কখন থেকেই করে আছি। টের পাওনি বোধ হয়।
আলতো করে ভিড়ানো দরজার আড়াল দিয়ে বাহির থেকে রক্তাক্ত হৃদয়গুলো ভিতরে প্রবেশ করতে লাগলো।
- সারাক্ষণ তোমার আলোকচিত্র দেখছিলাম।
- ভালোবাসি তোমায়।
- ভালোবাসি আমিও।
উভয়ে প্রেমালিঙ্গনে। চারপাশ থেকে রক্তাক্ত হৃদয়গুলো ফানুশের মতো বাতাসে উড়ে যাচ্ছে উপরের দিকে।
- ঘুমাবে না? এবার ঘুমাও।
- ঘুম আসে না।
ব্যাকগ্রাউন্ডে পিয়ানোর টুংটাং শব্দের সাথে গাওয়া শুরু হল-
"প্রাণের চেয়েও প্রিয় আমার হৃদয়
তাকে ছাড়া এক মুহূর্তও বাঁচা মুশকিল।
ওহ! ওহ! এ যে কী ব্যথা! ব্যথাটাও অনেক ব্যথানাশক। কখনো আমাকে হাসায়, কখনো কাঁদায়।
কেউ যাও, খুঁজে দাও;
কোথায় যেন আমার হৃদয় হারিয়ে গেল।
আমার ঘুম আসে না, আমার স্বস্তি আসে না;
কোথায় যেন আমার হৃদয় হারিয়ে গেল।"

এবার শাণিতের কিছুটা ভণিত অভিমান। বলল-
- তুমি ঘুমাতে পারো।
টুংটাং পিয়ানোর সাথে আবারো গাইতে শুরু হল-
"আমার ঘুম আসে না একেলা। তবে স্বপ্নে আসাযাওয়া করতে থাকো।
চলতে পারবো না তোমাকে ছাড়া আমি
তুমি আমার ভরসা হয়ে যাও
তোমাকে চাওয়া ব্যতীত আর কিছুই হবে না আমার দ্বারা
বলে দাওনা কী আছে তোমার হৃদয়ে
আমি কাউকেই বলবো না।"

টুংটাং করে পিয়ানোটা আরো কিছুক্ষণ বেজে চলল। বলল-
- হৃদয় কোথাও হারিয়ে যায়নি। খুঁজে দেখো, হৃদয়ের ভিতরেই হৃদয় আছে। কিছুই তো অবিদিত নেই, যা বলার সবই তো বলে দিয়েছি।

চারপাশে আবারো রক্তাক্ত হৃদয়, ফানুশের মতো উড়ে যাচ্ছে। ভায়োলিন বেজে উঠলো। এ এক করুণ সুর! এই সুর দৃশ্যপটে মহামারী ডেকে নিয়ে আসলো। চারপাশে হৃদয়-ফানুশগুলো আরো বেড়ে গেল। হঠাৎ একটা আবেগ এসে চারপাশটা নীলচে করে দিল।
- আজ তোমার কী হয়েছে প্রাণনাথ? এতো দুর্বলতা প্রকাশ করছো! প্রতিটা রাত আমি আবেগপ্রবণ হয়ে কতো কী কল্পনা করে, প্রত্যাশা করে দুর্বল হয়ে পড়ি। কতো কী জপতে জপতে রাতগুলো পার করি! আজ তুমিও.............
কথাটা শেষ হলো না, কথাটা মুখে থাকতেই ব্যাকগ্রান্ডে অলক্ষ্যে গীটারের মোটা তার বাজতে লাগলো, আর গাইতে শুরু হলো-
"কী করে যে বলি
তোমাকে ছাড়া এ জীবন যে কেমন হবে!
মনে হয় যেন কোনো শাস্তি, কোনো অভিশাপ হবে।
করেছি এই প্রতিজ্ঞা,
এ বাঁচা নয় তোমাকে ছাড়া।
বাঁচবো, হ্যাঁ বাঁচবো; তো তোমাকে ছাড়া কীভাবে?"

- আমাকে ছাড়া বাঁচার দরকার নেই। আমাকে নিয়েই বাঁচো। আমিও............
- বাঁচবো না, মরবো।
চারপাশ বেদনাহত। গাঢ় নীলাভ ধুয়া হয়ে ছেয়ে গেল। ভায়োলিন বাজছিল করুণ কান্নার সুরে। আচমকা চারপাশে হাজারো প্রদীপ জ্বলে গেলো। দু'জন দু'জনার খুঁট থেকে মরণাস্ত্র বের করলো। তাক করলো একে অপরের নাভিদেশের নিচে বামপাশে। তারা প্রস্তুত, গভীর আলিঙ্গনে তারা। একের পর এক দু'টি শব্দ হল আকাশ ফাটিয়ে। তারপর ভূতল ভেদ করে, মুহুর্মুহু শব্দ করে, আকাশে বাতাসে উঠতে থাকলো ধূমকেতু। একেকটি বিস্ফোটের শব্দাংশ বাকি থাকতেই আরেকটি বিস্ফোট, তারপর আরেকটি, তারপর আরেকটি। এভাবে চলতে থাকলো। ধূমকেতুগুলো মিলিয়ে যেতে থাকলো নিঃসীম আকাশে।
রক্তাক্ত ভূমিতল,
রক্তের উপর ভাসছে দু'টি অসাড় দেহ,
ভাসছে দু'টি মরণাস্ত্র,
দু'টি পিস্তল।

গ্যালারির দর্শকশ্রোতা মুখ হাত চেপে বসে আছে। প্রিয় দলকে একটার পর একটা গোল হজম করতে দেখছে। আর, বাঁধভাঙা অশ্রুর নীরব বিসর্জন করছে। খেলা শেষ। গ্যালারিভর্তি দর্শকশ্রোতা এভাবে আমৃত্যু দেখে দু'টি পিস্তলের আজব খেলা।
কবি ও সংগঠক আখতার উজ্জামান সুমন

প্রকৃতি ও মানুষ ।। আবুল বাশার রাসেল

মানুষগুলো কেমন পাল্টে গেছে
মনুষ্যত্ব হারিয়ে, বিবেকে বিকিয়ে, লাজ-লজ্জা জলাঞ্জলি দিয়ে
হয়েছে ফেরারি!
ভাই ভাইকে করছে হত্যা, বোন বোনকে করছে বঞ্চিত।
যে পিতা প্রথম ঝলকে সন্তানের মুখ দেখে হয়েছিলো ভীষণ  অশ্রুসিক্ত
সে কিভাবে হচ্ছে খুনী? কিভাবেই বা হয়ে উঠছে ধর্ষক?
যে জননী সন্তানের জন্য হাহাকার করে পেল সাত রাজার ধন
সেই সন্তান কিভাবে করে জননীকে অপমান, হত্যা ?
আবার জননীও কখনও কখনও কিভাবে হচ্ছে সন্তানের হন্তারক।
এ কেমন অভিশপ্ত সময়ে আমাদের বেঁচে থাকা, কথা বলা?
জানি, এই অভিশপ্ত সময়কে প্রকৃতি ধারণ করতে করতে আজ বড়ই ক্লান্ত
তাইতো ক্ষুব্ধ প্রকৃতি প্রতিশোধ নিতে বিদ্যুতের আঘাতে,
ঘুর্ণির ছোবলে ধরণীকে করছে জর্জরিত
কিছু মানুষের ভুলের কারণে হাজার হাজার নিরীহ মানুষ ভুগছে যন্ত্রণায়
হে প্রভূ, তুমিই পারো রুষ্ট প্রকৃতি ও বিপথগামী মানুষকে ফিরাতে আপন ঠিকানায়
তুমিই পারো এ ধরাকে করতে তোমার।।

২৮-০৫-২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
দেওরগাছ, চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ।
প্রবাসী কবি ও সংগঠক আবুল বাশার রাসেল।

চোখের বালি ।। ইউনুছ আকমাল

বালির কি দোষ বলো!
চোখ আছে বলে সে তো চোখে পড়বেই,
ভালবাসার কি দোষ বলো!
মন আছে বলে সে তো মনে ঢুকবেই।

আমার চোখে তোমাকে দেখেছিলাম,
মনের মাঝে দিয়েছিলাম ঠাঁই ভালবাসায়;
পাই নি তোমায়, পাই নি তোমার ভালবাসা।
ভুল বুঝে সরে গিয়েছ,
চলে গিয়েছ অনেক দূর,
হয়ে গিয়েছ দূরের যাত্রী।

তোমার ভালবাসার পরশে
একদিন হয়েছিলাম সিক্ত,
ছিলাম দু'জন কত না আপন,
যেন ঝিলে ভাসা যোগল রাজহংস।
আজ যা হয়ে আছে স্মৃতিময় কাব্য।
আমি আজ তোমার কাছে অচেনা কোন মানুষ।
তোমার ঐ মায়াবী দু'টি চোখের পানে
তাকালে মনে হত-
আমার সমস্ত সুখ যেন বাস করে ওখানে।
কিন্তু আজ আমি হয়ে গিয়েছি,
তোমার চোখের চক্ষুশূল।

সুখে থেকো,সুখি হও আমায় ভুলে,
ভুলতে গেলেও ভুলতে দেব না তোমায়,
থাকব তোমার পটল ছেড়া চোখের কোণে,
সে না হয় তোমার চোখের বালি হয়েই।
কবি ও সংগঠক ইউনুছ আকমাল

তোমার নাম ।। জাহাঙ্গীর হোসেন

জোৎস্না রাতের চলার সাথী
তোমার নাম ছায়া,
উদাসীন মনে বসে থাকি যবে
তোমার নাম মায়া।
বসন্ত বাতাসে মুহু মুহু সুবাসে
তোমার নাম ফুল,
তোমার প্রতীক্ষায় ব্যর্থ হৃদয় দেয়
তোমার নাম ভুল।
আকাশের পানে চেয়ে থাকি যবে
তোমার নাম তারা,
তোমার দর্শনে ব্যর্থ চোখের কোনায়
তুমি শ্রাবনের ধারা।
গ্রীষ্মের শুরুতে দক্ষিনা বাতাসে
তুমি ঝিঁঝিঁ পোকার গান,
গ্রীষ্মের শেষে যবে হারাই তোমায়
তুমি আলেয়া নিষ্প্রাণ।
সাগরের তীরে বসে থাকি যবে
তোমার নাম প্লাবন,
অবশেষে তোমায় মেলেনা যবে
তুমি শুধুই দুচোখের শ্রাবণ।
প্রবাসী কবি ও সংগঠক জাহাঙ্গীর হোসেন

Tuesday, May 29, 2018

এলো রে রমজান ।। কাজী বদরুল আলম

মেঘ ভাঙ্গিয়া আকাশ পানে, হাসিয়া উঠিল চাঁদ
জানান দিল রমজান এলো, গুনাহ করিতে কাত।
রহমত, বরকত, নাজাত নিয়ে থাকবে পুরো মাস
শয়তান জেলে বন্দি হয়ে করবে হায় হুতাস।
আত্মসংযমের ধূলায় লুটিয়ে, অহংকার হবে মাটি
ধনীর প্রাসাদ লুটিয়ে পড়িবে গরীব কুঁড়ের পাটি।
ক্ষিধার রাজ্য ভাগাভাগি করে মনকে করবে শুদ্ধ
পুণ্য এবাদত আকাশ ভেদিয়া খোদার আরশে পদ্য।
সিয়াম সাধনার আত্মশুদ্ধি নয় তো শুধু উপোস থাকা
খোঁজ নাও যারা গরীব দুখী, নুন নিতে যার পান্তা ফাঁকা।
 দুহাত পেতে তাদের দুঃখ নাও যদি এই বুক টাতে
খুশি হবেন জাহান বাদশা খুশি হবেন দয়াল তাতে।
জান-মালের যাকাত-ফিতরা দাও যদি গো সঠিকভাবে
সেই সে ধন প্রভু হতে পাহাড়সম বৃদ্ধি পাবে।

নামাজ পড়, রোজা রাখো, কোরান পড় মন ভরে
জিকির করে দোয়া কর, তাজা রাখতে কলব তরে।

মধুর সুরে মিনার হতে মোয়াজ্জিন ডাকবে ভোরে
জেগে ওঠো মুমিন বান্দা আজি সেহেরীর এ ঘোরে।
নতুন চাঁদের খোঁশ আমদেদে বেহেস্ত নামিবে ধরায়
এই সুযোগে মাফ চেয়ে নাও জীবন পূর্ণ ধারায়।
যতই পড়িবে ততই গড়িবে নফল এবাদতে পূর্ণ গিরি
কে থামায় তোর ঈমানপাল্লা পুলসিরাতে বিজলী সিড়ি?
হাজার মাসের শ্রেষ্ঠ এ মাস শবে বরাতের কদর ধরে
তার সে সুফল যে পেল না, চক্ষু ঘাঁ তার অশ্রু ঝরে।

দুহাত তুলে মিনতি করি ওগো রহিম রহমান
সব এবাদত কবুল কর, মাফ কর পাপ পাহাড় সমান।
          সিঙ্গাপুর - 25/05/18
প্রবাসী কবি ও সংগঠক কাজী বদরুল আলম

সৈকতে সেই শোকে ।। লাভলী ইসলাম

বালুকা বেলায় সৈকত সমুদ্রে  দৃষ্টির প্রচন্ড প্রখরতা সেঁচে
খুঁজেছি দূরে কাছে যতদূর দৃষ্টিকে পেরেছি ফেরাতে
যেথায় যেভাবে দাঁড়িয়ে, একদা প্রতিক্ষণ থাকতে
অপেক্ষায় সম্মুখ সৈকতে ।
:
নীল কিংবা ডোরা কাটা সেই শার্ট পরে ।
ব্যর্থ দৃষ্টি বার বার ঝাউবনে লুকোনো অরণ্যের আঁধারে সেই শোকে, সেই শোকে ।
:
বিষাদের নীল সুর এঁটে ফিরিয়ে দিয়েছে সমূলে
নয়নের লোনা জলে অশ্রুধারার স্রোতে
সাগরের নীল জলে ভেসে ওঠে, করুন মূহু মুর্য্য  সুরে
ঢেউয়েরা আঁছড়িয়ে পড়ে হুড়মুড়িয়ে পায়ের পরে সৈকতের তীরে ।
বালির ডিবিরা তলিয়ে নুইয়ে পড়ে
সেই শোকে সেই শোকে ।
:
দৃষ্টিতে ছায়া হয়ে অলকের রুপ ধরে, ফিরে আসে ব্যর্থ সাধে
ক্লান্ত পড়ন্ত বিকেলে সেই সমুদ্র সৈকতে
গাংঙ্গ চিলেরা উড়ে উড়ে খুঁজে ফিরে আসে অবুঝ বেশে  সেই শোকে, সেই শোকে ।
:
নীরব নীলুপ্ত ভাটা নীল ঢেউয়ের গতিময় ক্লান্ত দেহের
অবসাদে
ফুলে ফেঁসে ফেঁপে উঠে, পায়না খুঁজে অতল তলে  ঢেউরা জেগে ওঠে বিষাদে
ঝিনুকের সারি গুলো, হেঁটে হেঁটে কিনারে কিনারে
অনড় হয়ে বসে পড়ে বালির বাঁধে, ঢেউয়ের তোড়ে ফিরে খুঁজে নীল সৈকতের জলে
সেই শোকে, সেই শোকে ।
:
হাঙ্গর তিমি গুলো ডুবুরী হয়ে, নুড়ি তুলে ফিরে আসে না পেয়ে ব্যর্থ রথে ।
সৈকতে নেমে গিয়ে খুঁজবো ভেবে হাঁটু জলে নামি যবে,
কে যেন পেছনে ডাকে তেমনি করে সেই আদুরে গলে ।
অভিমানে অদৃশ্য ঝরনার স্রোতস্বিনীর স্রোতে
বইয়ে যাও একা ফেলে ।
:
আড়ালে সরে গোপনে, বালুকা বেলায় সৈকত সমুদ্রে শুধু একটি বার এসো না ফিরে
কাঁদতে কাঁদতে সাগর উঠেছে ভরে ।
সেই শোকে, সেই শোকে ।
:
ফিরে ফিরে আসি বালুকা বেলায়, সেই সৈকত সমুদ্রে
খুঁজতে অবুঝ শিশুর মতো হয়ে  না বুঝার
ভান করে
সেই শোকে, সেই শোকে ।

কাব্যগ্রন্থ - অনুভূতি ছোঁয়া ভালবাসা 

কবি ও সংগঠক লাভলী ইসলাম

অনন্ত যাত্রা ।। মাসুদ পারভেজ

সেদিন এই চোখে আর সকাল হলো না,
চোখ হাত পা দেহ তোমাকে খুঁজল না।
সংসারে থাকার অধিকার হারিয়ে ফেলায়
শেষ ঠিকানা গোরস্থানের কোন এক কোণায়।
-
শূণ্য বিভীষিকাময় তিমির রাত্রির ঘরে,
ব্যস্ত যাপিত জীবনের সব হিসেব নিয়ে।

তোমাদের আকাশে যখন মেঘ রিমিঝিমি বৃষ্টি ,
আমার চারিপাশে অভিশাপ্ত আগুন আর আগুন;
আমি জ্বলছি আর জ্বলছি;
অসহায়ত্বের চিৎকার তোমাদের কানে পৌঁছেনি;
তোমাদের হাসি থামেনি।
-
তোমাদের কে অবহেলা আর অপূর্ণতার দীর্ঘশ্বাস_
বিষাক্ত সাপের একেকটি ছোবল,
প্রবল আজাবের হাতছানি ।
আমি জানি,আমি কখনোই ক্ষমার যোগ্য নই।
-
তবে তার তরী নেই, যার তীর নেই, কুল নেই।
মুকুলে যার ধরেছে অসুখ, কিসে তার সুখ।
এপার ওপার কেহ নেই তার একটু সুখ সাধ বার।
-
আমি তোমার ছিলাম না, তোমাদেরও না;
নিয়মের ছিলাম না, কখনো নিয়মেও না।
এপার ওপার কেহ নেই, নেই বা কোন মাত্রা,
অনন্ত অভিশাপ নিয়েই আমার অনন্ত যাত্রা।

কবি ও সংগঠক মাসুদ পারভেজ

Sunday, May 27, 2018

বাসাসপ কেন্দ্রীয় কমিটির নজরুলের সাহিত্যকর্ম শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার পার্টি সম্পন্ন

অনুষ্ঠানের উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ

গত শুক্রবার ২৫ মে ২০১৮ ইং রাজধানীর শিশু কল্যাণ ভবনের ভিআইপি কনফারেন্স হলে সম্পন্ন হয়েছে।
"বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিবার (বাসাসপ)" কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম বিষয়ক আলোচনা, ইফতার পার্টি ও মাসিক সাহিত্য আড্ডা মে-২০১৮।

বাসাসপ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র পরিচালক কবি ও প্রকাশক তাহেরা মোন্নাফের সঞ্চালনায় এবং কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়ক, কবি ও কথাসাহিত্যিক মুহাম্মদ ইয়াকুব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল (অবঃ) দিদারুল আলম বীর প্রতীক।
অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি নজরুলের সাহিত্যকর্মের উপর প্রধান আলোচকের আলোচনা পেশ করেছেন বরেণ্য কবি ও গবেষক মাহমুদুল হাসান নিজামী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য চলচিত্র অভিনেতা, কবি ও সংগঠক এবিএম সোহেল রশিদ, বরেণ্য কবি, ছড়াকার ও সাংবাদিক আতিক হেলাল, জাতীয় কবি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি ও সংগঠক টিপু রহমান, ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথার প্রধান সমন্বয়ক, কবি ও সংগঠক সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান প্রমুখ। অন্যান্যের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য ও আবৃত্তি করেন কবি ও সাংবাদিক রুহুল মাহবুব, মাসিক আদমজীনগর সম্পাদক কবি নাজিম উদ্দিন সুমন, বাসাসপ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য কবি ও সংগঠক ফিরোজ মোল্লা, ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথার কেন্দ্রীয় পর্ষদের সিনিয়র পরিচালক কবি ও সংগঠক মামুন আব্দুল্লাহ, স্বপ্নকথা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি রোখসানা সুখী, আবৃত্তিকার কাজী ফেরদৌস মিঠু,  সাহিত্যকুঞ্জের সভাপতি কবি শাহনাজ খান, কবি ইখতিয়ার হোসেন, কবি জেসমিন রুমী, পল্লিআলো সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি লিটন পল্লী, বাসাসপ ঢাকা ও গাজীপুর মহানগরী পরিচালক কবি এরশাদ হোসেন বিজয়, কবি আল আমিন, কবি মির্জা জাকির হোসেন মনা, কবি মনযুরুল কাদের আরশাদসহ অনেক কবি, সাহিত্যিক ও নজরুল ভক্ত।

"জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিল"





সম্মানিত সুধী,

আগামী ০১ জুন ২০১৮ইং, রোজঃ শুক্রবার, ঢাকায়
মগবাজার মোড়স্থ জলপাই রেস্টুরেন্ট এন্ড পার্টি সেন্টারে সাহিত্য ও সংস্কৃতিক সংগঠন "ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা" পরিবারের নিয়মিত আয়োজন "মাসিক সাহিত্য আড্ডা" আয়োজন করতে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানঃ "জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিল"
তারিখঃ ০১ জুন ২০১৮ইং, রোজঃ শুক্রবার।
সময়ঃ বিকাল ৪:০০ হতে ৭:০০ ঘটিকা পর্যন্ত।
স্থানঃ জলপাই রেস্টুরেন্ট এন্ড পার্টি সেন্টার, মগবাজার মোড় (১৮ নিউ ইস্কাটন), ঢাকা।

উক্ত অনুষ্ঠানে দেশবরেণ্য, বরেণ্য ও বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিকগণ উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত, তাই সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রেমী সবাইকে সবান্ধব আমন্ত্রণ রইলো।

আমন্ত্রণেঃ

সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান
প্রধান সমন্বয়ক ও প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক
"ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা"

Saturday, May 26, 2018

অন্ধ কুটির



কবি-শেখ সোহেল রানা
রচনাঃ ২৬ মে ১৮
...............
তুমি মহা বিশ্বের বিষ্ময়
মায়া ,মমতা , প্রেম , ধৌর্যের আঁধার
তুমি আমার ....
প্রেরণা ,শক্তি ,সৃষ্টির অপার রহস্য
তুমিই
মা ,ভগ্নী ,ললনা ,মানুষ কিংবা বেহেস্তের হুর !
.
তোমার জঠরে এসেছি আমি
নবী ,কবি , সাধক ,বিপ্লবী রুপে
তোমার ত্যাগেই....
তিল তিল করে বেড়ে ওঠে নিষ্পাপ ভ্রুণ
দেখাও আলোর পথ
অবলকন করি জগতের রং
হে জননী .....!
.
সেই তোমাকেই
বার বার বলী দেয় মূর্খ পাষাণ্ডের দল
ভুলে যায় আপন অস্তিত্ব
শতাব্দীর পর শতাব্দী প্রশ্ন বিদ্ধ করে তোমায় !
.
তোমাকে দেখেছি
বাসি পঁচা পান্তা ভাত খেতে
পাওনি মাছের মুড়া
অযত্নে কেঁদেছো একাকি নির্জন কুটিরে
বিচার দিয়েছো খোদার তরে !
.
দেখেছি
তোমায় শিওরে বসা
নির্ঘুম চোখে জল-পটি দিচ্ছি জ্বরা কপালে
শুধু আমায় একটু সুখে রাখতে ,
কখন ও
হয়েছো সেবিকা কিংবা পরম বন্ধু !
.
ওরা পাপী
যে তোমায় করে বাজারের পন্য
লাথি মার অন্ধকুটিরে
আন নব ভোর
জাগো নারী জাগো.....
দেখাও তোমার মহিয়সী রুপ
বৈষ্যমের পাহাড় দলো আপন পায়ে !
,
দেখেছি
তোমার চোখে অগ্নী বর্ষণ
নিঃশ্বাসে মহা প্রলয়
বুকে আত্নপ্রত্যয়ী বিশ্বাস
বজ্র মুষ্ঠিতে দেশ গড়ার দৃঢ় সংকল্প
তুমি বিরঙ্গনা ,
জানি তুমি পারবে...
জয় জয় জয়
জগতের নারী শক্তির জয় হোক !