Wednesday, June 6, 2018

বিষাদিত নির্ঘুম রাত ।। ইউনুছ আকমাল

চারিধার সুন সান,আঁধারে ঢাকা,
নেই কোন উচ্ছ্বাস,নেই খুশির ফোয়ারা,
পৃথিবীর সব কিছুই যেন বিষাদিত:
তোমার চলে যাওয়াতেই হয়তো।

কি অপরাধ ছিল-চন্দনা!
নিঃস্ব করে চলে গিয়েছো বহু দূরে,
দুঃখের সাথে আজ পরম আত্মীয়তা;
ঘুমহীন রাতের পাখির মতো-
এপাশ ওপাশ গড়া গড়ি দিয়ে
পাড়ি দিচ্ছি রাতের কষ্টের নদী।

কেন এমন করলে- চন্দনা!
কেন করলে এমন প্রতারণা?
ভাসিয়ে আমায় অকূল পাথারে,
আছো তুমি দৃষ্টির আড়ালে।

তোমার শূন্যতা পীড়া দিচ্ছে বারবার,
কোন কিছুই লাগে না ভালো,
বিষন্নতায় বসে না মন কোন কাজে;
আছো তুমি ভাবনায় সারাক্ষণ।

বিষাদিত আঁধার আমাকে ছেয়ে আছে,
মুক্তির পথ খুঁজি,পালাবার পথ নেই,
কারণে-অকারণে আঁধারের পানে-
ধূসর দৃষ্টি,ঝাপসা অতীত,
এ কোন মরণ খেলায় অন্তঃক্ষরা!!
কবি ও সংগঠক ইউনুছ আকমাল

শুধু একটি কবিতার প্রতিক্ষায় ।। রোকসানা সুখী

নিত্যই!!
শুধু একটি কবিতার প্রতিক্ষায়-
কতযুগ কাটিয়েছি  নির্ঘুম?
চাঁদ-তারারাও অপেক্ষার প্রহর কেটে কেটে লুকিয়েছে অমাবস্যার আঁধারে।
মুক্ত বাতাসও নৃত্যের ঝংকার তুলে তুলে আজ বড্ড ক্লান্ত।
দিবালোকের সূর্যরাজা সময়ের কাঁটায় হেঁটে হেঁটে চলেছে নির্বাসনে
নীল আকাশের ছটফটে পাখিরাও হতাশার গ্লানি মেখে মেখে মুখ গুজেছে আপন পালকে।
জানো নিত্যই!!
শুধু একটি কবিতার প্রতিক্ষায়!!
বিন্দু বিন্দু অশ্রুকণারা শুষ্ক মৃত্তিকাকে পরিয়েছে কর্দমার কাপড়।
ভোরের সদ্য ফোঁটা জুঁই চামেলিরাও একাকিত্বের বাসরে কেঁদে কেঁদে হয়েছে নিষ্প্রাণ
একটি কবিতার প্রতিক্ষায়!!
স্রোতস্বিনী সুরমা কলকলধ্বনিতে শত শতাব্দীকাল তুলেনা তুমুল সুর।
 পাখিরাও কুঞ্জুবনে কলতানের কাঁকন বাজিয়ে বাজিয়ে হতাশার হাতিয়ারে নিষ্ফলক নিশ্চুপ।
রাখালিয়া বাঁশরীও যুগ-যুগান্তরের চক্রগতিতে নেচে নেচে হয়েছে বিলীন ।
শুধু একটি কবিতা প্রতিক্ষায়!!
 হাহাকারের তাণ্ডবে পাথরের প্রতিচ্ছবি ধারণ করেছে আমার ব্যাকুল বুক।
শুষ্ক ঝর্নার নিঁখুদ ছবিও এঁকেছে আমার কাঁচা কাজল দিগন্ত দু'চোখ।
শরীরের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে বিষাদের উইপোকারা খুঁজে নিয়েছে আপন সুখ।

শুধু একটি কবিতা লিখবো বলে-
জানো নিত্যই!!
নির্ঘুম অভিমানী অক্ষরগুলো কিলবিল করে খুঁজে তোমার সুঠাম বুক।
খুঁজে ফিরে নিঁখুদ ভাস্কর্যের কারুকাজে আঁকা সেই চির চেনা সুশ্রী মুখ।
খুঁজে ফিরে আজো সেই রংধনুর সাত রঙে রঞ্জিত সোনালি স্বপ্নিল পুল।
বিশ্বাস করো নিত্যই!!
আজো শুধু একটি কবিতার প্রতিক্ষায়!!

১৯-৪-২০১৭
বিকাল ৪টায়।
কবি, সংগঠক ও প্রকাশক রোকসানা সুখী

Tuesday, June 5, 2018

আবু সাহেদ সরকার'র রঙরস

দেহ দোলায় নর্তকীরা
কবি দোলায় কলম,
দোলায় দোলায় রসিক দোলে
লাগায় রসের মলম।

আবু সাহেদ সরকার'র রঙরস

হঠাৎ আমায় দেখলে তুমি
মুখ ঢাকো আর বুক ঢাকো,
থাকলে দূরে বেড়াও ঘুরে
নিত্য নতুন সুখ আঁকো।

আবু সাহেদ সরকার'র রঙরস

বলায় ভেজাল চলায় ভেজাল
ভেজাল কিছু কবি'তে,
ভেজাল তাদের কার্যকলাপ
দেখি নানান ছবিতে।

Monday, June 4, 2018

একজন ভালো বক্তা হওয়ার কিছু কলা-কৌশল ।। সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান


আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন ধরণের বক্তৃতা শুনে থাকি। এই যেমন ধরুনঃ অফিসে, স্কুলে, মাঠে-ঘাটে-রাস্তায়, রেডিও-টেলিভিশনে, বিভিন্ন ধরণের সভা-সেমিনারে। আমাদের অনেকের ধারণা হচ্ছে, যিনি যত বেশি শিক্ষিত, তিনি তত বেশী ভালো বক্তা হবেন। এই ধারণাটি সম্পূর্ণরূপে ভুল, যার একটি উদাহরণ দিচ্ছি। আমরা দেখতে পাই, দেশের কিছু রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে অকপটে দূর্দান্ত বক্তব্য রাখছেন। তাদের বক্তব্য শুনে লক্ষ লক্ষ মানুষ উজ্জীবিত হচ্ছেন। তাদের মধ্যে কারো কারো শিক্ষাগত যোগ্যতা অতি অল্প কিন্তু উনারা বিশাল মাপের অতি জনপ্রিয় বক্তা। লক্ষ লক্ষ মানুষ মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে উনাদের বক্তব্য দীর্ঘ সময় নিয়ে শুনেন। পৃথিবীতে এমন অসংখ্য ব্যক্তির নাম বলা যাবে, যাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কম থাকা সত্ত্বেও উনারা অনেক জনপ্রিয় বক্তা ছিলেন। আবার এমনও অনেক ব্যক্তি ছিলেন, যাঁরা অতি উচ্চ শিক্ষিত কিন্তু ভালো বক্তৃতা দিতে না পারার কারণে অন্য কেউ উনাদের লিখিত প্রবন্ধ পাঠ করতেন। আমরা কিছু কিছু বক্তার খুব সাধারণ কথা শুনলেও মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে উনাদের বক্তব্য শুনে যাই। আবার কিছু কিছু বক্তা অতি জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য প্রদানের করলেও অল্প সময় পরেই আমরা বক্তৃতা শুনতে বিরক্ত বোধ করি। আমরা সহজেই বুঝতে পারি, কে ভালো বক্তা কিন্তু তিনি কেন ভালো বক্তা, সেটা অনেকেই জানি না।

কেউ কেউ আছেন, বক্তৃতা দিতে গেলে হার্টবিট বেড়ে যায়। কারো কারো আবার হাত পা কাঁপে, গলা শুকিয়ে যায়। কেউ কেউ আছেন, অতিরিক্ত নার্ভাস হয়ে, যা বলতে এসেছিলেন, সেটাই ভুলে যান। এমনও কেউ আছেন, বেশি মানুষের সমাগম দেখলে কিংবা অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সামনে বক্তৃতা প্রদান কালে অতিরিক্ত মানসিক চাপে ভুগেন। উনারা তখন বক্তব্যটা তালগোল পাকিয়ে জগাখিচুড়ি বানিয়ে ফেলেন। আমাদের অনেকের মাঝে এই সমস্যা গুলো আছে, যে কারণে আমরা ভালো বক্তা হতে পারি না। ভালো বক্তা হওয়ার কিছু কলা-কৌশল আছে। এই কলা কৌশল গুলো রপ্ত করতে পারলে একজন ভালো বক্তা হওয়া যায়।

☞ মনের ভয়টাকে জয় করাঃ
একজন বক্তা হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি হচ্ছে নিজের মনের ভয়টাকে জয় করা। নিজের মনের ভেতরে ভয় নিয়ে কখনও বক্তা হওয়া যাবে না। মনের ভয়টাকে জয় করার সবচেয়ে সহজ কৌশল হচ্ছে, মানুষের সাথে চলাফেরা করা ও খোলা মনে কথা বলা। মনের ভেতরের জড়তা, সংকোচ পরিহার করে সবার সাথে নিয়মিত কথাবার্তা বলা। অন্যের সাথে কথা বলার সময় নিজের উপরে আত্ম বিশ্বাস রাখতে হবে। সর্বোপরি, অন্য কারো সাথে কথা বলার সময় ভাবতে হবে, তিনি আমার মতোই একজন মানুষ ভিন্ন অন্য কিছু নন। তবে হ্যাঁ, যিনি যতটুকু সম্মান পাওয়ার যোগ্য, উনাকে  সেই সম্মান অবশ্যই প্রদর্শন করতে হবে।

☞ অনুশীলনঃ
একজন ভালো বক্তা হওয়ার জন্য আমাদের অবশ্যই সর্বপ্রথম অনুশীলন করতে হবে। সবচেয়ে ভালো অনুশীলন করার জায়গা হচ্ছে আয়না। আমরা যদি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিয়মিত ভাবে বক্তৃতা প্রদান করি, তাহলে আমাদের জড়তা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা হবে। এবং মুখের বাচন ভঙ্গি ও শারীরিক অঙ্গ ভঙ্গিতে দৃষ্টিকটু কিছু মনে হলে, সেটা সংশোধন করে নেওয়া যাবে। তারপর সাহস বৃদ্ধির জন্য মাঝেমধ্যে কৌশলে কাছের কিছু বন্ধুদের সামনে বক্তৃতা দেওয়ার মতো করে কথা বলে যাওয়া। এছাড়াও বিভিন্ন বক্তার বক্তৃতা মনোযোগ দিয়ে শোনা। কে কিভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন, মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করা। সেই ভাবে নিজেকে তৈরি করে নেওয়া। এভাবে অনুশীলন করে এক সময় সভা-সেমিনারের একজন বক্তা হওয়া যাবে কিন্তু ভালো বক্তৃতা হওয়ার জন্য আরও অনেক কৌশল অবলম্বন করতে হবে।

☞ বক্তব্য প্রদানের প্রস্তুতিঃ
বক্তব্য প্রদানের পূর্বে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে, যা বক্তব্য প্রদানের সময় খুব সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বক্তব্য প্রদানের পূর্বে আলোচ্য বিষয়টি জেনে নিয়ে তার উপরে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বুলেট পয়েন্ট লিখে নিয়ে যাওয়া যেতে পাবে। বক্তৃতা প্রদান কালে যা দেখে দেখে বক্তব্য প্রদান করলে অনায়াসে নির্ভূল বক্তব্য প্রদান করা যায়। অনেকেই আছেন খুব সাধারণ কিছু বিষয়ে ভুল করেন। যেমন বক্তৃতা প্রদান কালে আলোচ্য বিষয়টি বলতে গিয়ে ভুল করেন। ব্যক্তির নাম, পদবী কিংবা প্রতিষ্ঠানের নাম বলতে গিয়ে ভুল করেন। এছাড়াও আরও অনেক অনেক ভুল তথ্য প্রদান করে বক্তব্য দিয়ে যান। বক্তৃতা প্রদান কালে ভুল তথ্য দিলে মানুষের কাছে হাসির খোরাকে পরিণত হতে হয়। তাই বক্তব্য প্রদান কালে কোন ভাবে ভুল তথ্য প্রদান করা যাবে না। এই বিষয়টি খুব বেশি খেয়াল রাখতে হবে।

☞  শ্রুতাদের উপরে সমান দৃষ্টিপাতঃ
অনেকেই আছেন, বক্তৃতা প্রদান কালে শ্রুতাদের দিকে দৃষ্টিপাত করেন না। কেউ কেউ উপরের দিকে, কেউ কেউ নিচের দিকে, আবার নির্দিষ্ট কিছু মানুষের দিকে তাকিয়ে বক্তব্য রাখেন। এতে করে শ্রুতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় না। বক্তৃতা প্রদান কালে শ্রুতাদের দিকে সমান দৃষ্টিপাত করতে হবে। নির্দিষ্ট কারো সাথে নয়, উপস্থিত সবার উপরে দৃষ্টি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সমান দৃষ্টিপাত করতে হবে। এতে করে খুব সহজেই শ্রুতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। তখন শ্রুতারা ভিন্ন দিকে মনোযোগী হওয়ার সুযোগ পায় না এবং মনোযোগ দিয়ে বক্তব্য শুনে।

☞ বাচন ভঙ্গি ও অঙ্গ ভঙ্গিঃ
অনেকেই আছেন, যাদের বাচন ভঙ্গি ও শারীরিক অঙ্গ ভঙ্গি সুন্দর না হওয়ায় শ্রুতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হোন। কেউ কেউ আবার বক্তৃতা বক্তৃতা প্রদান কালে বাচন ভঙ্গি ও শারীরিক অঙ্গ ভঙ্গির কারণে শ্রুতাদের হাসির খোরাকে পরিণত হোন। বক্তৃতা প্রদান কালে বাচন ভঙ্গি ও শারীরিক অঙ্গ ভঙ্গি খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বক্তৃতা কখনও একি রকম স্বরে দেওয়া যাবে না। আবার খুব উচ্চ স্বরেও বক্তৃতা দেওয়া যাবে না, তেমনি খুব নিচু স্বরেও বক্তৃতা দেওয়া যাবে না। বক্তৃতা দেওয়ার সময় বক্তব্যের ধরণ অনুযায়ী স্বরের উঠা নামা করাতে হবে।  বক্তৃতা প্রদান কালে হাসির কথায় স্বর কোমল ও মুখে হাসি ফোটাতে হবে। কষ্টের কথায় স্বরে ব্যথিত ও চেহারায় কষ্ট ফোটাতে হবে। খুব শক্ত ও কঠিন কথায় স্বর বলিষ্ঠ ও চেহারা রূঢ় করতে হবে। মোট কথা, বক্তৃতার মাঝে একটি স্বরে ও চেহারার ভঙ্গিতে রিদম থাকতে হবে, যা শ্রুতাদের মুগ্ধ করে রাখবে। পাশাপাশি শারীরিক অঙ্গ ভঙ্গি বক্তব্যের ধরণ অনুযায়ী সুন্দর ভাবে সক্রিয় রাখতে হবে। বাচন ভঙ্গি ও শারীরিক অঙ্গ ভঙ্গি শ্রুতাদের সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। তাই বক্তৃতা প্রদান কালে এই বিষয়ে খুব বেশি গুরুত্ব আরোপ করতে হবে।

☞ প্রাসঙ্গিক আলোচনাঃ
অনেকেই আছেন, বক্তৃতা প্রদান কালে প্রাসঙ্গিক বিষয়ের বাহিরে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে নিয়ে বেশি কথা বলেন। এতেও শ্রুতাদের মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায় এবং এটি শ্রুতাদের বিরক্তির অন্যতম কারণ। যে প্রসঙ্গে আলোচনা হবে, সেই প্রসঙ্গের বাহিরে না যাওয়াই উত্তম। সব সময় চেষ্টা করতে হবে প্রাসঙ্গিক বিষয়ের উপরে বক্তব্য প্রদান করা। যদি প্রাসঙ্গিক বিষয়ে ভালো ধারণা না থাকলে, বক্তৃতা দীর্ঘ না করে সংক্ষিপ্ত করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। সবচেয়ে বেশি ভালো হয়, অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে কথা না বলে, পূর্বের বক্তব্যদের বক্তব্য থেকে কিছু অংশ আলোচনা করা।

☞ শ্রুতাদের ধরণ ও মনোভাব বিবেচনা করাঃ
বক্তৃতা প্রদান কালে সবার আগে খেয়াল রাখতে হবে, শ্রুতারা কোন ধরণের মানুষ। অনেক সময় দেখা যায়, শ্রুতাদের অধিকাংশ উচ্চ শিক্ষিত আবার কখনও দেখা যায়, অধিকাংশ শ্রুতাই কম শিক্ষিত বা অশিক্ষিত। উচ্চ শিক্ষিত শ্রুতাদের সামনে যেভাবে বক্তব্য প্রদান খুব বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়। অনুরূপ বক্তব্য কম শিক্ষিত বা অশিক্ষিত মানুষের কাছে মনোযোগ আকর্ষণ করতে পুরোপুরি ভাবে ব্যর্থ হয়। শ্রুতাদের ধরণ অনুযায়ী বক্তব্য প্রদান করলে, সেই বক্তৃতা শ্রুতাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়। এছাড়াও শ্রুতাদের মনোভাব বুঝতে হবে এবং সেই মনোভাব অনুযায়ী বক্তব্য প্রদান করতে হবে। যেমন, অতি ধার্মিক মনোভাবের শ্রুতাদের কাছে যেমন প্রগতিশীল চেতনার বক্তব্য আবেদন রাখতে পারে না, তেমনি প্রগতিশীল মনোভাবের শ্রুতাদের কাছে ধার্মিক মনোভাব থেকে বক্তব্য প্রদান করলেও সেটা আবেদন রাখতে ব্যর্থ হয়। তেমনি ভাবেই, ছাত্রদের কাছে যে বক্তব্য খুব আকর্ষণীয় কিন্তু একই বক্তৃতা বয়োঃজ্যেষ্ঠদের কাছে পুরোপুরি ভাবেই ব্যর্থ। এভাবেই, বিভিন্ন বয়স, শ্রেণী ও মতাদর্শের কারণে ভিন্ন ভিন্ন মনোভাবের শ্রুতা থাকে এবং তাদের মনোভাব বুঝে বক্তৃতা দিতে পারলেই খুব সহজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।

☞ শ্রুতাদের মনের অব্যক্ত কথাগুলা বলাঃ
অনেক বক্তব্য আছেন, শ্রুতারা আসলে কি শুনতে চাচ্ছেন, সেটাই ধরতে পারেন না। তাই খুব সুন্দর ভাবে বক্তব্য প্রদানের পরেও শ্রুতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়। শ্রুতাদের মনের অব্যক্ত কথাগুলা অনুধাবন করতে হবে এবং সেই কথাগুলো বলতে বলতে পারলেই খুব সহজেই শ্রুতাদের খুব সহজেই মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়। শ্রুতাদের তখন মনে হয়, তার মনের অব্যক্ত কথাগুলা বক্তা তার বক্তৃতায় বলছেন। শ্রুতারা সব সময় প্রত্যাশা করে, তাদের মনের অব্যক্ত কথাগুলা বক্তারা বলুক। তাই এই বিষয়ে খুব বেশি গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। যিনি এই বিষয়ে খুব পারদর্শী, তিনি শ্রুতাদের কাছে প্রিয় ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেন।

যাঁরা আমাদের দৃষ্টিতে ভালো বক্তা, আমরা দেখতে পাবো, তাদের বক্তব্যের মাঝে উপরের কলা কৌশল গুলো বিদ্যমান। তাই উপরের কলা-কৌশল গুলো রপ্ত করতে পারলে, আমরা একজন ভালো বক্তা হতে পারবো। তবে হ্যাঁ, পরিশেষে একটি কথা বলতে হবে, যিনি যত ভালো শ্রুতা হবেন, তিনি তত ভালো বক্তা হতে পারবেন।

লেখকঃ সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান
সম্পাদক, ত্রৈমাসিক আমাদের গল্পকথা।
ঢাকা, বাংলাদেশ।

বাসাসপ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের নজরুলের সাহিত্যালোচনা ও ইফতার পার্টি সম্পন্ন


"বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিবার (বাসাসপ)" পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল শাখার "জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম বিষয়ক আলোচনা, ইফতার পার্টি ও সাহিত্য আড্ডা" সফলতার সাথে শেষ হয়েছে।

গতকাল রোববার পার্বত্য নগরী বান্দরবানের হোটেল দি প্যারাডাইজ কনফারেন্স হলে গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী, বাসাসপ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও পরিচালক (সংস্কৃতি), কবি প্রকাশ বড়ুয়ার সঞ্চালনায় এবং বাসাসপ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমন্বয়ক শিল্পকলা ও শিশু একাডেমির সংগীত প্রশিক্ষক কণ্ঠশিল্পী জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মানিত সদস্য কবি সিংইয়ং ম্রো।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিদের একাংশ

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের আলোচনা উপস্থাপন করেছেন বাসাসপ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও কাচালং গ্রুপের সিইও কবি শাহ মোহাম্মদ নিয়ামত উল্লাহ। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন বাসাসপ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কবি ও কথাসাহিত্যিক মুহাম্মদ ইয়াকুব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, আন্তর্জাতিক কবি পরিষদ (আকপ) এর সাধারণ সম্পাদক কবি ও সংগঠক সাজীব চৌধুরী, প্রবীণ কবি আমিনুর রহমান আমিন, সমুজ্জল সুবাতাস লিটলম্যাগ সম্পাদক কবি চৌধুরী বাবুল বড়ুয়া, বিশিষ্ঠ কণ্ঠশিল্পী থোয়াইচিং প্রু নিলু, শিল্প ও সাহিত্যানুরাগী মফিজুল ইসলাম মামুন।

বান্দরবান জেলা কারাগারের জেলার ও বাসাসপ পরিচালক কবি রিজিয়া বেগমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের বাংলা বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ ইয়াকুব।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন
কবি নাছির আহমেদ, শিল্পী সুবিমল দাশ শিমুল, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা শিলাদিত্য মুৎসুদ্দি, বেতারশিল্পী দিলিপ কুমার নাথ, সাংবাদিক মোঃ ইয়াছিনুল হাকিম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে নজরুল সংগীত, হামদ ও নাত পরিবেশন করেন
শিশু শিল্পী সুমাইয়া আক্তার, বৃষ্টি, তুষ্টি প্রমুখ।

নজরুলের সাহিত্যকর্ম বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠানটি নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের সাহিত্য সচেতন গোষ্ঠী পূর্ব হতেই উন্মুখ ছিলেন। জনপ্রিয় দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রামসহ স্থানীয় দৈনিকগুলো অনুষ্ঠানের পূর্ব সংবাদ পরিবেশন করেছে। অনুষ্ঠানে বক্তাগণ নজরুলের সাহিত্যকর্মের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং বাসাসপ এর এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান। বক্তাগণ সাম্য, দ্রোহ ও মানবতার কবি নজরুলের সাহিত্যকর্ম ও চেতনাকে যথাযথ লালন ও পালনের জোর দাবি জানান।

Sunday, June 3, 2018

দেশে আজ নব্য বর্গী ।। মীম মিজান

আমি চাই না একদিনের ভালোবাসা,
চাই না একদিনের গায়ে মাখানো দেশপ্রেম,
স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত একটি সন্ধ্যার ত্যাগ,
গালে, বুকে, পেটে আঁকানো সাময়িক পেঁজা তুলোর উৎসর্গ।
আত্নায় করি লালন ধারকরা সংস্কৃতি,
পারি না বলতে শুদ্ধভাবে একটি বাক্য নিজ মাতৃভাষায়,
বাংলা বর্ণকে করেছি অন্যবর্ণে বিলীন,
পরনে নেই কোন বাঙালিয়ানার পরিচ্ছদ,
চুল, দাড়ির ঢং বিলেতি,
খাদ্য-পানীয়তে তো ছোঁয়াও নেই দেশজের।
একদিনে সারাবিশ্বকে জানিয়ে দিব আমার কতটা দেশপ্রেম,
এ রকম কি জানিয়েছিল রফিক, বরকতেরা?
এ রকম কি করেছিল মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর, মোস্তফা কামালেরা,
কিংবা ভাষার স্বীকৃতির সেই সংগঠক রফিক ও আব্দুস সালামেরা।
রক্তের অনু কনিকায়,
ধমনীতে, শ্বাস-প্রশ্বাসে, প্রক্ষোভে, লিখনিতে, চিন্তাতে,
এভাবে করে ধারন ও লালন তারা এঁটে দিয়েছিল কুলুপ ওই বেনিয়া ও জোচ্চোরদের মুখে।
দিতে প্রাণ জাতীর তরে,
করতে বলিদান নিজের সখ-আহ্লাদকে,
করেনি তো একটুও চিন্তা।
নজরুল, ক্ষুদিরামেরা লড়েছে স্বাধীকারের জন্য,
আর আমরা লড়ি কার বিরুদ্ধে?
স্লোগান দেই কার বিরুদ্ধে?
দেশমাতা তুমি কি আজ সার্বভৌমত্ব পেয়েছ?
নাকি এখনো তোমার বক্ষে বিচরণ নব্য বর্গীদের?
তবে কেন আজ গায়ে মাখি লাল-সবুজের রং,
মুখপুস্তিকায় কেন ধরি দেশপ্রেমিকের ঢং?
ছুড়ে মারো তোমার ঐ ভণ্ডামী,
মুছে ফেল তোমার ঐ নোংরামী,
আসো আবার ধরি নজরুলের কলম,
ক্ষুদিরামের বোমা,
তাড়াই ঐ নব্য বর্গী
হই খাঁটি দেশপ্রেমিক।
মীম মিজান  (কবি, প্রাবন্ধিক ও সংগঠক)

Saturday, June 2, 2018

চিঠি লেখে শ্যাম ।। কামাল আহমেদ

খোয়াই গাঙ্গের ভাঙা পাড়ে
সাধের বসত গড়িলাম,
তাহার পাড়ে উজান দেশে
সুজন শ্যামসখা ধাম।

পাল উড়ায়ে নৌকা ছাড়ে,
হংস পাঠায় সারে সারে,
অচিনপুরের ওপাশ হতে
নিতি চিঠি লেখে শ্যাম।

নায়ের পালে, হংস দলে,
ভেসে আসা ঢেউয়ের জলে
লেখা পড়ে প্রেমে মজে 
আমার মন পোড়িলাম।

উজান পথে কেউ নাগো যায়,
চিঠি আমার শ্যাম নাহি পায়,
পোড়া মনের কেমন বেদন-
তারে কেমনে দেখাইতাম।

আকাশ পথের বলাকা দল,
উড়ে চলা মেঘমালা বল-
কেমনে পাই শ্যাম দরশন,
না দেখে যে ভালবাসিলাম।
                                       
আম্রকুঞ্জ, রাজার বাজার, হবিগঞ্জ।
কামাল আহমেদ  (কবি, প্রবন্ধকার ও সংগঠক)

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথার মাসিক সাহিত্য আড্ডা ও ইফতার মাহফিল


গতকাল ০১ জুন ২০১৮ইং, রোজ শুক্রবার, ঢাকায় মগবাজারে অবস্থিত জলপাই রেস্টুরেন্ট এন্ড পার্টি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হলো সাহিত্য ও সংস্কৃতিক সংগঠন  "ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা"র কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে মাসিক সাহিত্য আড্ডা ও ইফতার মাহফিল। এবারের অনুষ্ঠানের আলোচ্য বিষয় ছিল "জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিল"

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিদের একাংশ

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র পরিচালক কবি মামুন আব্দুল্লাহ্ ও সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সদস্য কবি আবু সাহেদ সরকার।
উক্ত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশবরেণ্য গীতিকবি শহীদুল্লাহ ফরায়েজী, বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক আতিক হেলাল, কবি ও সম্পাদক নাসির হেলাল, কবি, সম্পাদক ও সংগঠক সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান, কবি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন বকুল, কবি ও সংগঠক মোহাম্মদ ইয়াকুব।

ইফতার নিয়ে অপেক্ষারত কবি ও সাহিত্যিকগণ

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের ঢাকা বিভাগীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কবি মনির ইসলাম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তারানা নাজনীন, লুৎফর রহমান রবি ও জেসমিন রুমী।

আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কবি মোহাম্মদ রবিউল হোসেন, কবি মিনা উজ্জ্বল, কবি শাহানা পারভীন, কবি আবুল খায়ের নাঈম উদ্দিন, কবি সালমা লাবনী, কবি সরদার ফাতিমা জুহুরা ময়না, কবি ফাতেমা সুলতানা সুমি, কবি হালিমা মুক্তা, কবি আফরোজা রানা, কবি নুরুল শিপার খান, কবি আতিকুর রহমান, কবি ও সম্পাদক সাইফুল বিন হানিফ, কবি ফয়সাল হামেদ, কবি শিহাব হোসাইন, কবি আহমদ হোসেন, কবি সাঈদ জোবাইর, কবি ফরমান উল্লাহ, কবি ময়েজ মোহাম্মদ, কবি কাজী মাওলানা মোঃ আব্দুশ সাকুর, কবি জাকির হোসেন, কবি তাওহীদুল ইসলাম, কবি মোঃ তারেক, কবি কামাল উদ্দিন, কবি সুরুজ মিয়া, কবি তানজিল মোহাম্মদ, কবি রাকিব, কবি জুলফিকার আহমেদ, কবি আবুল কাসেম ও কবি লিয়াকত আলী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের উপস্থিত আমন্ত্রিত কবি ও সাহিত্যিকগণ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা পাঠ দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিবৃন্দ কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম শীর্ষক জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেন। সবাই পরামর্শ রাখেন, জাতীয় কবির সাহিত্যকর্ম নিয়ে নিয়মিত চর্চা  করতে হবে এবং উনার সাহিত্যকর্ম নিজেদের মধ্যে লালন ও ধারণ করতে হবে। এছাড়াও অনেকেই স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন এবং কেউ কেউ নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখছেন সংগঠনের
সিনিয়র পরিচালক মামুন আব্দুল্লাহ্ 

সভাপতির বক্তব্যে কবি মামুন আব্দুল্লাহ্ অনুষ্ঠানে আগত সকল অতিথিদের শুভেচ্ছা জানান এবং সবার সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত করার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

অনুষ্ঠানটির সফল আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়ক সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান।

এপাড় ওপাড় ।। ইউনুছ আকমাল

ওপাড়ে তোমায় পাইনি আমি!
তা'তে আমার কোন দুঃখ নেই।
হাজারো কষ্টে বুকটা ঝাঁঝরা করে
চলে আসলাম এপাড়ে একটু আগেই,
তা'তেও আমার দুঃখ নেই;
এপাড়ে যখন দেখা হবে-
তখন না হয় প্রেম করবো আবারো দু'জন।

এপাড়ে নেই কোন ধনী গরীবের অজুহাত,
কিংবা বর্ণ বৈষম্যের পর্বতসম প্রাচীর;
সবাই একই জাত,একই পথের যাত্রী।
ওপাড়ে যত কষ্ট পেয়েছি জাত পাতের দোহাই দিয়ে,
এপাড়ে নেই কোন দাম্ভিকতা,
নেই তীর্যক আস্ফালন।
আমার আত্মা তখনই একটু শান্ত হবে
যখন তোমার মায়াবী স্পর্শ পাবে।
তুমি আসবে যখন এপাড়ে-
আমার অতৃপ্ত আত্মা তোমার গায়ের গন্ধ শুঁকে শুঁকে
ঠিক বের করে নেবে তোমায়;
দেখে নিও একটুও ভুল হবে না।
আর কেউ বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে না নির্মমতায়,
ভেঙ্গে যাবে ধনী গরীবের সকল প্রাচীর,
ভেঙ্গে যাবে মিথ্যা আভিজাত্যের অট্রালিকা,
থাকবে না কোন বংশ-পদবী।

অপেক্ষায় আছি,থাকবো বছরের পর বছর!
তোমার আগমন ঘটবে যেদিন এপাড়ে,
সেদিনই হবো দু'জন অনন্তকালের সঙ্গী;
স্বর্গসুখের ভেলায় চড়ে দু'জন
মুক্ত বিহঙ্গের মতো করবো বিচরন।।

গাদিশাল,চুনারুঘাট,হবিগঞ্জ।
তারিখঃ ২২-০২-২০১৮ খ্রিঃ
কবি ও সংগঠক ইউনুছ আকমাল

Friday, June 1, 2018

বাসাসপ কক্সবাজার জেলা শাখার নজরুলের সাহিত্যকর্ম শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার পার্টি সম্পন্ন


"বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিবার (বাসাসপ)" পর্যটন জেলা কক্সবাজারের উদ্যোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম বিষয়ক আলোচনা, ইফতার পার্টি ও মাসিক সাহিত্য আড্ডা মে-২০১৮ চকরিয়া ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কনফারেন্স হলে সম্পন্ন হয়েছে।

বাসাসপ কক্সবাজার জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক কবি তাসকিয়াতুল মোস্তারীর সঞ্চালনায় এবং জেলা কমিটির আহ্বায়ক কবি মিরাজ মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাসাসপ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও কাচালং গ্রুপের চেয়ারম্যান কবি শাহ মোহাম্মদ নিয়ামত উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি নজরুলের সাহিত্যকর্মের উপর প্রধান আলোচকের আলোচনা পেশ করেছেন বাসাসপ কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়ক কবি ও  কথাসাহিত্যিক মুহাম্মদ ইয়াকুব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক কবি পরিষদ (আকপ) এর সাধারণ সম্পাদক, কবি ও সংগঠক সাজীব চৌধুরী, চকরিয়া ইন্টাঃ স্কুলের অধ্যক্ষ কুতুব উদ্দিন। অন্যান্যের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন জাতীয় শিশু কিশোর সংগঠন 'ফুলকুঁড়ি আসর' কক্সবাজার জেলা শাখার পরিচালক কবি মোঃ সাদ্দাম হোসেন, গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী ও সংগঠক বোরহান উদ্দিন রব্বানী, অাফসানা জান্নাত প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মীদের আবৃত্তি ও সংগীতে আড্ডাটি প্রাণবন্ত ছিলো।

Thursday, May 31, 2018

ঈদে বাবা আসবে ।। জেসমিন রুমি

রাত আড়াই'টা বাজে, কারওয়ান বাজার৷ রাস্তার ধারে বশির দাড়িয়ে আছে৷ বশির একা নয়, বশিরের মতো আরো অনেকেই আছে৷ সবার হাতে ব্যাগ, বস্তা,  কাপড়ের পোটলা৷ উত্তরবঙ্গ থেকে প্রতিদিন কাঁচা তরকারির ট্রাক আসে, রাতে আবার ফিরে যায়। সেই ট্রাক এ বাড়ি ফিরে সল্প আয়ের মানুষ৷চল্লিশ টাকা, পঞ্চাশ টাকায় রংপুর দিনাজপুর পার্বতিপুর যাওয়া যায়। উত্তর বঙ্গের যে কোন জায়গায় যাওয়া যায়৷ স্বল্প আয়ের মানুষের পক্ষে ছয়'শ, সাত'শ টাকা ভাড়া দিয়ে বাসে ট্রেনে বাড়ি যাওয়া সম্ভব হয় না৷ এই সুবিধাটা অনেক বড় পাওয়া বশিরের মতো মানুষদের জন্য।
বশির মাসে দু'বার বাড়ি যায়, কুড়িগ্রাম৷
বউ আছে, তিন ছেলে আছে৷ সুলতান, রাজা, বাদশা৷ বশিরের ভাঙ্গা ফুটা চালের, বেড়ার ঘরে রাজা বাদশা। বশির বউ কে বলেছিল হুন বউ, আল্লাহ্ চাইলে কিনা পারে৷ দেহিস আমার পোলারা একদিন রাজা বাদশা হবারও পারে।
অভাবের সংসার৷ সুলতান স্কুলে যায়৷ ক্লাস ফাইভে পড়ে৷ ছোট দুইটা এখনো স্কুলে যায়না৷ বাড়িতে খরের চালের দুইটা ঘর, বাড়ি ভিটায় চারদিক দিয়ে সারাবছর বিভিন্ন রকম শাক সবজি আবাদ করে বশির, সংসারের খাওয়াটা চলে তাতে৷ফাঁকে ফাঁকে ঢাকায় চলে আসে, পাইকারদের তরিতরকারীর ডালা টানে রাতভর৷ একটা মেস বাড়িতে কয়েকজন মিলে থাকে, খালাদের রান্না খায়৷ দশ বারো দিনে কিছু টাকা জমলেই বাড়ি যায়৷ এভাবেই কাটছে বশিরের সংসার৷
রোজার মাস, শেষবার যখন বশির ঢাকা আসলো আমেনা বলে দিছে ঈদের সময় শার্ট প্যান্ট নিয়ে নিতে, পোলাগো ঈদের জামা প্যান্ট৷ আমেনা বশিরের বউ, নিজের কথা কোনদিন একবারও বলেনা ৷তারপর ও বশির তো বোঝে, আমেনার দুইটা মোটা শাড়ি কত দরকার৷ সুলতান কখন এক ফাঁকে  সবাইকে লুকিয়ে ছোট্ট একটা চিঠি লিখে বশিরের কাপড়ের ব্যাগে চুপ করে রেখে দিসে৷
সেই চিঠি বশির এখনো খুলে দেখেনি৷ না জানি সুলতান কি লেখছে।
ধীরে ধীরে মানুষের ভীর বাড়ছে, কাল ঈদ, সব জায়গায় ঘরমূখো মানুষের ভীর৷ একটুপরই ট্রাক ছাড়বে, উত্তরবঙ্গ মূখী৷
ঝির ঝির বৃষ্টি পরছে, তিরিশ চল্লিশ জন মানুষ৷ শংকিত হয়ে পরে৷ ভিজতে হবে সারা পথ, বৃষ্টি যদি না থামে৷
সংবাদ পত্রের গাড়িগুলাতেও এই ব্যাবস্থা আছে৷বাড়ি ফেরার৷ সংবাদপত্রের গাড়িতে  আরো বেশী ভাল হয়,আরামে যাওয়া যায়, কাভার্ড ভ্যান৷ মনে হয় ঘরের মধ্যেই শুয়ে আছি৷ রোদ বৃষ্টির  টেনশন থাকেনা৷ কিন্তু ভাড়া'টা বেশী৷ সত্তর আশি টাকা চায় ৷ অনেকেই যেতে চায়, ভাড়া শুনে ঘুরে আসতে মুখ খারাপ করে গাল দেয় শালা'র এসি কোচ পাইছে? সুযোগ বুঝে ভাড়া বেশী চাইতেছে।
গাড়ি ছেড়ে দেয়৷ ট্রাকের পিছনে চল্লিশজন মানুষ গাদাগাদি গায়ে গায়ে হেলান দিয়ে বসে আছে৷ বেশীর ভাগ ওরা কুড়িগ্রাম রংপুর, গাইবান্ধার ....ঢাকায় অনেকেই বশিরের মতো এই পেশায় জড়িত,আর কয়েকজন রিক্সা চালায়৷ মাটি কাটে, রাজ মিস্ত্রির কাম করে ৷
সবার জন্যই নতুন কাপড় কিনছে বশির ,কারওয়ান বাজারে ঈদের সময় মনে হয় নতুন কাপড়ের হাট বসে ৷সবই পাওয়া যায় ৷পোলা গো, মাইয়া গো৷ আমেনার শাড়ী কিনছে, তিন বেটার শার্ট প্যান্ট ,বশিরের মাপ লাগেনা৷ চোখের আন্দাজে ঠিক মতোই কিনে৷ আহারে ! সুখে বুকটা ভরে যায় বশিরের৷
 ট্রাক ছাড়তেই ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসে বশিরের৷ সুলতানের চিঠির কথা মনে পরে৷ ব্যাগের মধ্যে হাত দিয়ে হাতড়িয়ে এক কোনায়  চিঠিটা পাওয়া যায় ৷
অল্প আলো আঁধারিতে চিঠিটা পড়ে বশির৷
সুলতানের হাতের লেখা তো বেশ সুন্দর হইছে !!
আব্বা,
এবার আসার সময় আমার জন্য শার্ট প্যান্ট আইনো ৷কেলাসের সব্বাই ঈদে নতুন শার্ট প্যান্ট কিনবে ৷ আমার সরম লাগবে আব্বা!
ভুলে যাইওনা৷ সুতা দিয়ে মাপ দিলাম৷
     ইতি
তোমার বড় ছেলে
সুলতান৷
 বশির চিঠিটা ভাজ করে পকেটে রাখে ,সুতাটা হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখে ,মনে মনে বলে....কিনছি রে বাজান৷
       বশিরের চোখ লেগে আসে ,ঘুমিয়ে যায়৷ অন্য সবাই ঝিমাচ্ছে, ঘুমাচ্ছে৷ ট্রাক তখন যমুনা সেতু পার হয়ে ,সিরাজগঞ্জ মোড় পার হয়ে  হাটিকুমরুল থেকে বগুড়ার দিকে ছুটে চলছে৷ বৃষ্টির জোর বেড়েছে৷ মানুষ গুলা নীল পলিথিনের নীচে জোড়োসড়ো হয়ে ঘুমের মধ্যে ৷
বশির স্বপ্ন দেখে ঈদের জামা পরে বন্ধুদের লগে ঘুরছে, সুলতান যেন সত্যিকারের সুলতান ,চোখে মুখে একটুকুও সরম নাই ৷
সুলতান মেট্রিক পাশ দিলে ঢাকার গার্মেন্টেস এ একটা চাকরী হবে ,তখন বশির আর এতো কষ্টের কাম করবেনা ,ভেবে রাখছে৷ সেদিন আর কত দুর? কত দিন বাঁকী ......
        প্রচন্ড একটা ধাক্কায় বশিরের ঘুম ভাঙ্গে যায় ৷ সবাই জেগে গেছে ৷ ট্রাক চান্দাইকোনার কাছাকাছি প্রায় ৷ হৈচৈ ... হাউমাউ কান্নায় ভারি চারদিক৷ একটা নাইট কোচ থাক্কা দিয়েছে পিছন থেকে৷ নিয়ন্ত্রন নাই৷ বৃষ্টির পানিতে রাস্তা পিছলা৷
         বশিরদের ট্রাকটা তিনটা পল্টি দিয়ে একেবারে রাস্তার পাশের পাগারে৷ তারপর সব শেষ৷
চারিদিকে আশপাশের গ্রামের ,পাড়ার সব মানুষ জড়ো হয়ে গেছে৷ কিছুক্ষন আগে ঈদের নামায শেষ করেছে মুসুল্লিরা৷ অস্ফুট আওয়াজ মুখে ৷ এত্ত গুলা তাজা প্রাণ !ইশরে ঈদের দিন, ঈদটাও কপালে নাই .....
পাগারের পানি লাল হয়ে আছে৷ মনে হয় যেন লাল পানির বৃষ্টি হয়েছে ৷
প্রশাসনের লোকজন জমায়ত হয় ৷ তাৎক্ষনিক সব ব্যাবস্থা নেয় ৷ লাশ গুলো সব বগুড়া থানায় নিয়ে যায় ৷আইনি প্রকিয়া শেষ করে যার যার বাড়ি পৌছানোর লাশ ব্যাবস্থা নেয়া হবে৷

কুঁড়িগ্রাম , বাঁশ পাড়া, ঘরে ঘরে ঈদের খুশী৷পোলাপানরা সব দৌড়াদৌড়ি করে খেলছে, আনন্দে মেতেছে৷ আমেনা সেমাই রান্না করছে৷ তিন ভাই খাইছে,আমেনা বশিরের জন্য অপেক্ষা করে ৷সুলতান গেছে পাশেই এক বন্ধুর বাড়ি৷ টেলিভিশন দেখতে৷ বন্ধু জিগায় ..,তোর নতুন শার্ট কই রে....... সুলতান বলে ,বাবা আনবে৷ টেলিভিশনে দেখাচ্ছে ঢাকা থেকে উত্তর বঙ্গ গামী একটি শ্রমিক ভর্তি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খাদে পরে গেছে৷
সুলতান মন খারাপ করে চলে আসে ৷বাবা যে কখন আসবে ,নতুন শার্ট প্যান্ট পড়ে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাবে৷বাড়ান্দায় বসে বাবার জন্য অপেক্ষা করে, বাবা আসবে..
সুলতানের কানে একটা আওয়াজ এলো, মনে হলো বাহিরে কারা যেন বলছে বশির .............সুলতান এক ঝটকায় উঠে দাড়ায় ......বাড়ি কাঁপিয়ে আকাশ কাঁপিয়ে চিল্লায় বলে উঠে মা .... .....বাবা বাড়ি আসছে ....
সুলতান বাড়ির বাহিরে এসে দাড়ায়, পাশে আমেনা রাজা বাদশা কে নিয়ে দাড়িয়ে ৷দুরে দেখা যায় একটা ভ্যান আসছে, অনেক মানুষ সাথে  হেটে আসছে ...সব কিছু অস্পস্ট......!!!
কবি ও সংগঠক জেসমিন রুমি  

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাটে “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিল" অনুষ্ঠিত হলো।



গতকাল ৩০ মে, ২০১৮ইং, রোজঃ বুধবার, সাহিত্য ও সংস্কৃতিক সংগঠন "ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা" পরিবারের সিলেট বিভাগীয় পর্ষদের নিয়মিত আয়োজন "মাসিক সাহিত্য আড্ডা"য় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হলো। সংগঠনের সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক ইউনুছ আকমালের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় সম্মানিত সদস্য ফজল মোহাম্মদ এর আহ্বানে তার নব নির্মিত ভবন সাবিনা মহলে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব আবেদ হাসনাত চৌধুরী সনজু-চেয়ারম্যান আহম্মদাবাদ ইউ/পি, হবিগঞ্জ, আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি, সম্পাদক ও সাংবাদিক  এস এম তাহের খাঁন ও সংগঠনের সিনিয়র পরিচালক কামাল আহমেদ।
এতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, সম্পাদক ও সংগঠক - সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান, এডভোকেট মোস্তাক আহম্মদ সভাপতি - “ধামালি, চুনারুঘাট”, হবিগঞ্জ, মো: রফিকুল ইসলাম, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ, কে এম আনোয়ার হোসেন- সভাপতি, যুবলীগ, চুনারুঘাট উপজেলা, নুরুল আমিন- সিনিয়র সাংবাদিক, মো: ফুল মিয়া-সাবেক সেনা সদস্য, মো: শহিদুল ইসলাম- সাবেক সেনা সদস্য প্রমূখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জহিরুল ইসলাম,  আনিসুজ্জামান মোল্লা, ওয়াসিম শাহরিয়ার, মাসুক ভূঁইয়া, আরিফুর রহমান ভূঁইয়া রুমন, সাংবাদিক জিলানী আখঞ্জী, সাংবাদিক নাসির আহমেদ প্রমূখ। কবিতা আবৃত্তি করেন জনাব- এডভোকেট মোস্তাক আহম্মদ, জনাব মো: রফিকুল ইসলাম প্রমূখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন- শাহ আলম। পরিশেষে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তা ও আলোচকগণ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়ক ও প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান সফল আয়োজনের জন্য জনাব ফজল মোহাম্মদ সহ আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

Wednesday, May 30, 2018

অপরাজিতা ।। জোছনা হক


রাস্তার ল্যাম্প পোস্টটা তখনও জ্বলছে প্রতিদিনের মতো, 
আমি তখন আমার ঝুল বারান্দায় হাতে কলম,
কাগজ নিয়ে পায়চারী করে যাচ্ছি অবিরত, 
মাথায় আসছেনা,আটকে আছে সব কথাগুলো গলার কাছে। 
আবার উঁকি দিয়ে দেখি পোস্ট লাইটের দিকে,
যখন দেখি মনে হয় এই শুনশান শহরের পোস্ট লাইটি আমার শেষ প্রেরণা। 
আমার যখন পাশে কোন সঙ্গী, একটি হাত প্রয়োজন, 
তখন সময়ের বন্ধুদের ছায়া পর্যন্ত খোঁজে পাইনা। 
নীল চাঁদরে, ধোঁয়াটে কুয়াশা ল্যাম্প পোস্টটাকে কতো আদরে ঘিরে রাখছে। 
আমার কষ্টের জীবনে, 
যন্ত্রনা হয়ে শরীরে অসংখ্য দাগ কাটুক এ মূহুর্তে যতো খুশি, যতো ইচ্ছে। 
ওদের টেনে নামাবোনা আজ, কাল সাঁপ হয়ে ধ্বংস করে যাক আমার লাল রক্ত। 
পায়ের গোড়াইল থেকে মুখবিবর হয়ে পৌষ্টিক নালীর প্রতিটা পর্যায়ে জ্বালিয়ে, 
ছিড়ে-ফুঁড়ে খাক্ করে নীল হয়ে যাক আমার সমস্ত অস্তিত্ব। 
যতো শক্তি,জোর আছে হৃদয়ের দুয়ার আঁচড়িয়ে, 
ভেঙ্গে ফেলুক, শান্ত হোক তারা, দরকার নেই থামানোর। 
অতি প্রাচীন আমি,
নতুন কোন আবেগী ভাবনা আমাকে জাগিয়ে বেশীক্ষণ রাখতে পারেনা,
ততক্ষণে আমার অনুভূতিরা তাদের নিঃশেষ করে ফেলেছে, 
আবার অভিনয় ভরা এক সকালে অনেকগুলো মিথ্যার লাশ জমেছে শিশিরের কদমে, 
 আবার শুনশান রাত ফিরে আসে, সেই পোস্ট লাইট অপরাজিতা, 
অপরাজিতা বলে চিৎকার দিতে থাকে আমার ঝুল বারন্দায়। 
আমিও ফিরে আসি কাগজ,কলম নিয়ে।

সুরের মূর্ছনা ।। তমা ইয়াসমিন

নিরাবতা ভেঙ্গে শেষ রাতে কলের মুখ নিংড়ে,
ঝড়ে পড়া জলের ফোটা,
টুবটাব একটানা জেদি শব্দ,
ভীষন ভাবে কানে লাগে।

ঘুম যেন হাহাকার সাদা কাগজের,
গায়ে লাল তেলাপোকা,
ক্ষিধে ভরা মন টেনে নেয়,
জাকপাকা সফেদার অ-পরিপক্ক গায়।

কি এক একাকি বিভৎস অচেনা রাত,
চারিদিকে দমফাটা গুমোট নিরবতা শুনশান,
একটু বে-খেয়ালে মাশুল টানবে অনন্ত কাল,
যেনো চোখ দু'টো চেনা সাবক হরিনীর মন।

শজনেডাটা ঢলে পড়ে রাতের অাঁধারে,
 ঢেউয়ে ঢেউয়ে হেলেঞ্চা স্হীর বাতাসে,
হেলেদুলে বয়ে চলে নিপূণ হাতের কারূকাজে,
 মর্মর অথচ মলায়েম ভেজা সুরে।

জল প্রপাতে বাস্তবজীবনের খেলা,
অঁঠাই জলে ভাসিয়ে কলার ভেলা,
প্রচন্ড চাঁপে বুকের নরম পাঁজরে,
পার ভেঙে আঁচড়ে পড়ে ভীষণ জোড়ে।
কবি ও সংগঠক তমা ইয়াসমিন।

মুয়াজ্জিন ।। আহসান ইমরোজ খান


এই অবেলায় কে ডেকে যায়
আমার ঘরে
আপন করে চেনা সুরে?
.
কে এঁকে যায় মায়ার বাঁধন
পাগল করে
চুপটি করে পালায় দূরে?
.
কে হেসে যায় ঠোঁটের কোনায়
মুচকি হেসে,
করুণ সুরে বাজায় বাঁশি?
.
কে দিয়ে যায় সুখের পরশ
এই সিয়ামে,
মুক্তি সনদ রাশি রাশি?
.
কে মুছে দেয় বিহান দুপুর
বিকাল বেলা
রবের নামে ক্লান্তি যত?
.
কে বুণে যায় সন্ধ্যা রাতে
আল্লা নামে
রহম ধরায় অবিরত?
.
৩০.০৫.১৮ইং
ভুঞাপুর, টাংগাইল
কবি আহসান ইমরোজ খান

গীতিনাট্যঃ দু'টি পিস্তল ।। আখতার উজ্জামান সুমন


আবহাওয়াটা উচ্ছ্বাস আর উল্লাসে ভরা। গ্যালারিতে দর্শকশ্রোতা মুহুর্মুহু করতালি আর চিৎকার দিয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছে প্রিয় দলকে। প্রিয় খেলোয়াড় একের পর এক গোল দিয়ে যাচ্ছে প্রতিপক্ষের জালে। আজ ফাইনাল। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসিত ঢেউ! হঠাৎ দৃশ্যপট পালটে গেলো।

চারপাশে অভিমানের ঢেউ। অভিমানী প্রশ্ন তুমি থেকে আপনিতে উঠে এসে জিজ্ঞেস করলো-
- ঘুমাননি এখনো?
বিগলিত উত্তর- না। অনুযোগ করে বলল- তুমিও তো ঘুমাওনি। বলতে বলতেই তার মনে হল, অভিমান কি প্রশ্নের একান্ত? তার প্রশ্নেও অভিমান থাকতে পারে! হ্যাঁ, থাকতেই হবে। তাই তার প্রশ্নও তুমি থেকে আপনিতে উঠে জিজ্ঞেস করলো-
- আপনি ঘুমাননি কেন?

ব্যাকগ্রাউন্ডে অলক্ষ্যে তখন আ............... ধ্বনিত হয়ে রোমাঞ্চ বেজে উঠলো। অলক্ষ্যে পর্দার আড়ালে গাইতে লাগলো-
"অনেক ভালোবাসি তোমাকে প্রিয়তম।
কসম চাও তো, নিতে পারো; খোদা কসম!
অনেক ভালোবাসি তোমাকে প্রিয়তম।
সাগরের বাহুডোরে উদারতা আছে যতো
আমারো প্রেম আছে তোমার তরে ততো।
এই যে অস্থিরতা, তা আর কখনো কমবে না।
আমার এই গান তোমারই ধ্যানজ্ঞান;
তোমাকে ছাড়া আর কোনো বাঁচা নেই আমার।
এভাবেই চাইতে থাকবো তোমায় যতক্ষণ আছে প্রাণ।
অনেক ভালোবাসি তোমাকে প্রিয়তম।
কসম চাও তো, নিতে পারো; খোদা কসম!"

গাওয়া শেষ। আ............... ধ্বনি এখনো চলছে অলক্ষ্যে। ভণিত অভিমান কমেনি এখনো। তবুও বলছে-
- হ্যাঁ, অনেক ভালোবাসি তোমাকে প্রিয়তম। কী করছেন?
দৃশ্যপটে চারদিক থেকে চোখ ধাঁধানো রক্তাক্ত হৃদয়গুলো উড়তে লাগলো। মুহূর্তের মধ্যে পেছনে হাজারো নক্ষত্র জ্বলে উঠেছে; কানে ঝনঝনানি দিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ডে গাইতে শুরু হল-
"বকুলের মালা শুকাবে
রেখে দেব তার সুরভী
দিন গিয়ে রাতে লুকাবে
মুছো নাকো আমারই ছবি
আমি মিনতি করে গেলাম।
ভালোবেসে আমি বার বার
তোমারি ওমনে হারাবো
এই জীবনে আমি যে তোমার
মরণেও তোমারই হব।
তুমি ভুলো না আমারও নাম।
এই মন তোমাকে দিলাম
এই প্রেম তোমাকে দিলাম।
তুমি চোখের আড়াল হও
কাছে কিবা দূরে রও
মনে রেখো আমিও ছিলাম।"

এবার শাণিত ও ভণিত দু'টো অভিমানেরই অন্তর্ধান ঘটলো। বলল-
- ভালোবাসি।
- আলিঙ্গন করো।
- সেই কখন থেকেই করে আছি। টের পাওনি বোধ হয়।
আলতো করে ভিড়ানো দরজার আড়াল দিয়ে বাহির থেকে রক্তাক্ত হৃদয়গুলো ভিতরে প্রবেশ করতে লাগলো।
- সারাক্ষণ তোমার আলোকচিত্র দেখছিলাম।
- ভালোবাসি তোমায়।
- ভালোবাসি আমিও।
উভয়ে প্রেমালিঙ্গনে। চারপাশ থেকে রক্তাক্ত হৃদয়গুলো ফানুশের মতো বাতাসে উড়ে যাচ্ছে উপরের দিকে।
- ঘুমাবে না? এবার ঘুমাও।
- ঘুম আসে না।
ব্যাকগ্রাউন্ডে পিয়ানোর টুংটাং শব্দের সাথে গাওয়া শুরু হল-
"প্রাণের চেয়েও প্রিয় আমার হৃদয়
তাকে ছাড়া এক মুহূর্তও বাঁচা মুশকিল।
ওহ! ওহ! এ যে কী ব্যথা! ব্যথাটাও অনেক ব্যথানাশক। কখনো আমাকে হাসায়, কখনো কাঁদায়।
কেউ যাও, খুঁজে দাও;
কোথায় যেন আমার হৃদয় হারিয়ে গেল।
আমার ঘুম আসে না, আমার স্বস্তি আসে না;
কোথায় যেন আমার হৃদয় হারিয়ে গেল।"

এবার শাণিতের কিছুটা ভণিত অভিমান। বলল-
- তুমি ঘুমাতে পারো।
টুংটাং পিয়ানোর সাথে আবারো গাইতে শুরু হল-
"আমার ঘুম আসে না একেলা। তবে স্বপ্নে আসাযাওয়া করতে থাকো।
চলতে পারবো না তোমাকে ছাড়া আমি
তুমি আমার ভরসা হয়ে যাও
তোমাকে চাওয়া ব্যতীত আর কিছুই হবে না আমার দ্বারা
বলে দাওনা কী আছে তোমার হৃদয়ে
আমি কাউকেই বলবো না।"

টুংটাং করে পিয়ানোটা আরো কিছুক্ষণ বেজে চলল। বলল-
- হৃদয় কোথাও হারিয়ে যায়নি। খুঁজে দেখো, হৃদয়ের ভিতরেই হৃদয় আছে। কিছুই তো অবিদিত নেই, যা বলার সবই তো বলে দিয়েছি।

চারপাশে আবারো রক্তাক্ত হৃদয়, ফানুশের মতো উড়ে যাচ্ছে। ভায়োলিন বেজে উঠলো। এ এক করুণ সুর! এই সুর দৃশ্যপটে মহামারী ডেকে নিয়ে আসলো। চারপাশে হৃদয়-ফানুশগুলো আরো বেড়ে গেল। হঠাৎ একটা আবেগ এসে চারপাশটা নীলচে করে দিল।
- আজ তোমার কী হয়েছে প্রাণনাথ? এতো দুর্বলতা প্রকাশ করছো! প্রতিটা রাত আমি আবেগপ্রবণ হয়ে কতো কী কল্পনা করে, প্রত্যাশা করে দুর্বল হয়ে পড়ি। কতো কী জপতে জপতে রাতগুলো পার করি! আজ তুমিও.............
কথাটা শেষ হলো না, কথাটা মুখে থাকতেই ব্যাকগ্রান্ডে অলক্ষ্যে গীটারের মোটা তার বাজতে লাগলো, আর গাইতে শুরু হলো-
"কী করে যে বলি
তোমাকে ছাড়া এ জীবন যে কেমন হবে!
মনে হয় যেন কোনো শাস্তি, কোনো অভিশাপ হবে।
করেছি এই প্রতিজ্ঞা,
এ বাঁচা নয় তোমাকে ছাড়া।
বাঁচবো, হ্যাঁ বাঁচবো; তো তোমাকে ছাড়া কীভাবে?"

- আমাকে ছাড়া বাঁচার দরকার নেই। আমাকে নিয়েই বাঁচো। আমিও............
- বাঁচবো না, মরবো।
চারপাশ বেদনাহত। গাঢ় নীলাভ ধুয়া হয়ে ছেয়ে গেল। ভায়োলিন বাজছিল করুণ কান্নার সুরে। আচমকা চারপাশে হাজারো প্রদীপ জ্বলে গেলো। দু'জন দু'জনার খুঁট থেকে মরণাস্ত্র বের করলো। তাক করলো একে অপরের নাভিদেশের নিচে বামপাশে। তারা প্রস্তুত, গভীর আলিঙ্গনে তারা। একের পর এক দু'টি শব্দ হল আকাশ ফাটিয়ে। তারপর ভূতল ভেদ করে, মুহুর্মুহু শব্দ করে, আকাশে বাতাসে উঠতে থাকলো ধূমকেতু। একেকটি বিস্ফোটের শব্দাংশ বাকি থাকতেই আরেকটি বিস্ফোট, তারপর আরেকটি, তারপর আরেকটি। এভাবে চলতে থাকলো। ধূমকেতুগুলো মিলিয়ে যেতে থাকলো নিঃসীম আকাশে।
রক্তাক্ত ভূমিতল,
রক্তের উপর ভাসছে দু'টি অসাড় দেহ,
ভাসছে দু'টি মরণাস্ত্র,
দু'টি পিস্তল।

গ্যালারির দর্শকশ্রোতা মুখ হাত চেপে বসে আছে। প্রিয় দলকে একটার পর একটা গোল হজম করতে দেখছে। আর, বাঁধভাঙা অশ্রুর নীরব বিসর্জন করছে। খেলা শেষ। গ্যালারিভর্তি দর্শকশ্রোতা এভাবে আমৃত্যু দেখে দু'টি পিস্তলের আজব খেলা।
কবি ও সংগঠক আখতার উজ্জামান সুমন

প্রকৃতি ও মানুষ ।। আবুল বাশার রাসেল

মানুষগুলো কেমন পাল্টে গেছে
মনুষ্যত্ব হারিয়ে, বিবেকে বিকিয়ে, লাজ-লজ্জা জলাঞ্জলি দিয়ে
হয়েছে ফেরারি!
ভাই ভাইকে করছে হত্যা, বোন বোনকে করছে বঞ্চিত।
যে পিতা প্রথম ঝলকে সন্তানের মুখ দেখে হয়েছিলো ভীষণ  অশ্রুসিক্ত
সে কিভাবে হচ্ছে খুনী? কিভাবেই বা হয়ে উঠছে ধর্ষক?
যে জননী সন্তানের জন্য হাহাকার করে পেল সাত রাজার ধন
সেই সন্তান কিভাবে করে জননীকে অপমান, হত্যা ?
আবার জননীও কখনও কখনও কিভাবে হচ্ছে সন্তানের হন্তারক।
এ কেমন অভিশপ্ত সময়ে আমাদের বেঁচে থাকা, কথা বলা?
জানি, এই অভিশপ্ত সময়কে প্রকৃতি ধারণ করতে করতে আজ বড়ই ক্লান্ত
তাইতো ক্ষুব্ধ প্রকৃতি প্রতিশোধ নিতে বিদ্যুতের আঘাতে,
ঘুর্ণির ছোবলে ধরণীকে করছে জর্জরিত
কিছু মানুষের ভুলের কারণে হাজার হাজার নিরীহ মানুষ ভুগছে যন্ত্রণায়
হে প্রভূ, তুমিই পারো রুষ্ট প্রকৃতি ও বিপথগামী মানুষকে ফিরাতে আপন ঠিকানায়
তুমিই পারো এ ধরাকে করতে তোমার।।

২৮-০৫-২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
দেওরগাছ, চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ।
প্রবাসী কবি ও সংগঠক আবুল বাশার রাসেল।

চোখের বালি ।। ইউনুছ আকমাল

বালির কি দোষ বলো!
চোখ আছে বলে সে তো চোখে পড়বেই,
ভালবাসার কি দোষ বলো!
মন আছে বলে সে তো মনে ঢুকবেই।

আমার চোখে তোমাকে দেখেছিলাম,
মনের মাঝে দিয়েছিলাম ঠাঁই ভালবাসায়;
পাই নি তোমায়, পাই নি তোমার ভালবাসা।
ভুল বুঝে সরে গিয়েছ,
চলে গিয়েছ অনেক দূর,
হয়ে গিয়েছ দূরের যাত্রী।

তোমার ভালবাসার পরশে
একদিন হয়েছিলাম সিক্ত,
ছিলাম দু'জন কত না আপন,
যেন ঝিলে ভাসা যোগল রাজহংস।
আজ যা হয়ে আছে স্মৃতিময় কাব্য।
আমি আজ তোমার কাছে অচেনা কোন মানুষ।
তোমার ঐ মায়াবী দু'টি চোখের পানে
তাকালে মনে হত-
আমার সমস্ত সুখ যেন বাস করে ওখানে।
কিন্তু আজ আমি হয়ে গিয়েছি,
তোমার চোখের চক্ষুশূল।

সুখে থেকো,সুখি হও আমায় ভুলে,
ভুলতে গেলেও ভুলতে দেব না তোমায়,
থাকব তোমার পটল ছেড়া চোখের কোণে,
সে না হয় তোমার চোখের বালি হয়েই।
কবি ও সংগঠক ইউনুছ আকমাল