Friday, June 15, 2018
বাসাসস চট্টগ্রাম মহানগরী শাখার ঈদবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন
"বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিবার (বাসাসপ)" চট্টগ্রাম মহানগরী শাখার ঈদবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবৃত্তিকার কামাল উদ্দিন জিকু এবং কবি মামুন আব্দুল্লাহর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ঈদবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে হিসেবে উপস্থিত থেকে ছিন্নমূল শিশুদের মাঝে ঈদবস্ত্র বিতরণ করেন বাসাসপ উপদেষ্টা পরিষদের সম্মানিত সদস্য কবি শাহ্ মোহাম্মদ নিয়ামত উল্লাহ। কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক কবি পরিষদ (আকপ)'র সাধারণ সম্পাদক কবি ও সংগঠক সাজীব চৌধুরী।
চাঁদসন্ধ্যায় চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে রেললাইন বস্তির বিস্তীর্ণ অঞ্চল ঘুরে ঘুরে এখনও পর্যন্ত নতুন কাপড় পায়নি এমন শিশুদের খুঁজে বের করে তাদের হাতে ন্যায্য প্রাপ্ত তুলে দেয় বাসাসপ টিম। এসময় ছিন্নমূল শিশু, যাদের ঈদ আনন্দ নতুন পোষাকের অভাবে ভাটা পড়েছিলো তাদের মুখে অনাবিল হাসি ছড়িয়ে পড়ে।
ঈদবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচী কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করেছেন বাসাসপ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কবি ও কথাসাহিত্যিক মুহাম্মদ ইয়াকুব।
Thursday, June 14, 2018
ঘড়ি ও সময়ের গল্প ।। কবি নির্মলেন্দু গুণ
ঘড়িকে দেখে সময় হাসে।
সে ঘড়িকে ডেকে বলে--
তুমি এখানে কী করছো?
তুমি কে হে? --তুমি কে?
ঘড়ি প্রশ্ন শুনে ইতি-উতি চায়।
কিন্তু কাউকে দেখতে না পায়।
ঘড়ি প্রশ্ন করে, --আপনি কে?
আপনি কে? আপনি কোথায়?
সময় ঘড়ির কাঁটা ছুঁয়ে বলে,
এই যে আমি। আমি সময়।
দ্যাখো তো, চিনতে পারো কি না?
আমি ঈশ্বরের হাতের বীণা।
ঘড়ি দ্যাখে, কে যেন চকিতহাস্যে
মহাকাশে মুহূর্তে মিলায়।
তার অযুত আঁখি অন্ধ হয়ে যায়।
ঘড়ির সকল কাঁটা বন্ধ হয়ে যায়।
নয়াগাঁও
১৪ জুন ২০১৮
সে ঘড়িকে ডেকে বলে--
তুমি এখানে কী করছো?
তুমি কে হে? --তুমি কে?
ঘড়ি প্রশ্ন শুনে ইতি-উতি চায়।
কিন্তু কাউকে দেখতে না পায়।
ঘড়ি প্রশ্ন করে, --আপনি কে?
আপনি কে? আপনি কোথায়?
সময় ঘড়ির কাঁটা ছুঁয়ে বলে,
এই যে আমি। আমি সময়।
দ্যাখো তো, চিনতে পারো কি না?
আমি ঈশ্বরের হাতের বীণা।
ঘড়ি দ্যাখে, কে যেন চকিতহাস্যে
মহাকাশে মুহূর্তে মিলায়।
তার অযুত আঁখি অন্ধ হয়ে যায়।
ঘড়ির সকল কাঁটা বন্ধ হয়ে যায়।
নয়াগাঁও
১৪ জুন ২০১৮
![]() |
| দেশবরেণ্য কবি নির্মলেন্দু গুণ |
ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান
১৯০৪ সালে ফিফা (ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনাল ডি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ফিফার প্রচেষ্টায় ১৯০৮ সালে অলিম্পিকে ফুটবল প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাবে খেলার মর্যাদা লাভ করে। তারপর ১৯২৮ সালে ফিফার প্রথম সভাপতি জুলেরিমে অলিম্পিকের বাহিরে একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করেন। পরবর্তীতে সে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে সর্বপ্রথম ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে ফিফার প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ আসর অনুষ্ঠিত হয়। সেই বছর স্বাগতিক দল উরুগুয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ী হয়। ফিফার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি চার বছর অন্তর অন্তর ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করা হবে এবং সেটি এখনও চলমান আছে। কেবলমাত্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজন বন্ধ ছিল।
ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম আয়োজক ও ফিফার প্রথম সভাপতির নামানুসারে এই কাপের নাম ছিল "জুলেরিমে ট্রফি"। তখনকার নিয়ম অনুযায়ী, যে দল সর্বাধিক ৩ বার জুলেরিমে ট্রফি বিজয়ী হবে, জুলেরিমে ট্রফি চিরতরে তার হয়ে যাবে। ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালে ব্রাজিল সর্বাধিক তিন বার বিশ্বকাপ ফুটবলে শিরোপা জেতার কারণে জুলেরিমে ট্রফি তাদের চিরদিনের জন্য দিয়ে দেওয়া হয়। যদিও ব্রাজিল সেই জুলেরিমে ট্রফি চিরতরে নিজেদের করে রাখতে পারে নাই। ১৯৮৩ সালে এই জুলেরিমে ট্রফিটি ব্রাজিল থেকে চুরি হয়ে যায়। ১৯৭৪ সালে থেকে জুলেরিমে ট্রফি নাম বদল করে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি নামে প্রচলিত আছে।
১৯৩০-২০১৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বকাপ ফুটবলের মোট ২০টি আসর বসেছে। এই ২০টি আসরে সর্বাধিক ৫ বার শিরোপা জিতেছে ব্রাজিল, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪ বার শিরোপা জিতেছে জার্মানি ও ইতালি, তৃতীয় সর্বোচ্চ শিরোপা জিতেছে উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা। এছাড়াও ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও স্পেন একবার করে শিরোপা জিতেছে।
বিশ্বকাপ ফুটবলে সর্বাধিক দশের উপরে গোলদাতা হচ্ছে, মিরোস্লাভ ক্লোসা (জার্মানি)- ১৬ গোল, রোনালদো (ব্রাজিল)- ১৫ গোল, গার্ড মুলার (জার্মানি)- ১৪ গোল, জাঁ ফতেইন (ফ্রান্স)- ১৩ গোল, পেলে (ব্রাজিল)- ১২ গোল, ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান (জার্মানি) ও স্যান্ডোর ক্রুসিস (স্পেন)- ১১ গোল।
২০০২ সালে জাপান-কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তুরস্কের তারকা স্ট্রাইকার হাকান শুকুর খেলা শুরু হওয়ার মাত্র ১১ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে হতভম্ব করে দিয়েছিলেন প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়দের। এখন পর্যন্ত এটাই বিশ্বকাপ ফুটবলে সবচেয়ে দ্রুততম গোল।
বিশ্বকাপ ফুটবলে সবচেয়ে হতভাগা দল হচ্ছে নেদারল্যান্ড, যারা তিনবার বিশ্বকাপ ফাইনালে অংশগ্রহণ করেও এখন পর্যন্ত শিরোপা বিজয়ী হতে পারে নাই।
তথ্যসূত্রঃ ইউকিপিডিয়া।
| সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান (কবি, সংগঠক ও সম্পাদক) |
Wednesday, June 13, 2018
ঈদ মানে ।। ফাতিমা জহুরা ময়না
ঈদ মানে নয় শুধু আনন্দের সাতকাহন
ঈদ মানে নয় শুধু খাবারের আয়োজন!
ঈদ মানে কলহ বিবাদের সমঝোতার দিন
ঈদ মানে এই দিন তাই অনিন্দ্য রঙ্গিন!
ঈদ মানে পবিএ দিনের মর্যাদাশালী হওয়া
ঈদ মানে আত্মীয়ের খোঁজ খবর নেওয়া!
ঈদ মানে দুঃখীর মনে দেবো প্রজাপতি বাড়ি
ঈদ মানে তইতো পূর্ণীর পাল্লাটা ও ভারী
ঈদ মানে বিষাদের সাথে, নিরন্তর আড়ি
ঈদ মানে তাই আজ, প্রজাপতি হয়ে উড়ি!
ঈদ মানে নয় শুধু খাবারের আয়োজন!
ঈদ মানে কলহ বিবাদের সমঝোতার দিন
ঈদ মানে এই দিন তাই অনিন্দ্য রঙ্গিন!
ঈদ মানে পবিএ দিনের মর্যাদাশালী হওয়া
ঈদ মানে আত্মীয়ের খোঁজ খবর নেওয়া!
ঈদ মানে দুঃখীর মনে দেবো প্রজাপতি বাড়ি
ঈদ মানে তইতো পূর্ণীর পাল্লাটা ও ভারী
ঈদ মানে বিষাদের সাথে, নিরন্তর আড়ি
ঈদ মানে তাই আজ, প্রজাপতি হয়ে উড়ি!
![]() |
| কবি ফাতেমা জহুরা ময়না |
প্রবাসে ঈদ মানে বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখা ছাপা ব্যথা ।। জোসনা হক
এক মাস সিয়ামের পর খুশির আমেজ নিয়ে আসে ঈদ।
এই ঈদ উদযাপন করার অধিকার সবার আছে। বছরের পর বছর এই সুদূর প্রবাসে পরিবারের সুখের জন্য দিনযাপন করে যাচ্ছে অনেক প্রবাসী। এমন অনেক প্রবাসী আছেন, পরিবারের সাথে ঈদ করছেনা অনেক বছর। ইচ্ছে করছেনা এমন না, জীবনের প্রয়োজনের তাগিদে বাধ্য করেছে ঈদের খুশির দিন গুলোতে প্রিয়জন থেকে দূরে থাকতে। ঈদ বা বিশেষ দিন গুলোতে প্রবাসীরা কত যে কষ্টে দিন গুলো পার করে একমাত্র উপর ওয়ালা জানে। চাঁদরাত পর্যন্ত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের পর, ঈদের নামাজ শেষে দু-একজন বন্ধু-বান্ধবের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর ভারাক্রান্ত মন নিয়ে যখন বাসায় এসে ক্লান্ত দেহখানি বিছানায় এলিয়ে দেয়, ঠিক তখনি মনে পড়ে প্রিয়জনদের কথা। ইচ্ছে হয় উঁড়াল দিয়ে চলে যাই কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, চাইলে তো আর যাওয়া যায়না। এই যেতে না পারার পেছনে সফলতার চেয়ে হাজারো ব্যর্থতার গল্প আছে। ভাগ্যে আর জীবনের সাথে সমঝোতা করে, চোখের কোণে লোনাজল গুলো মুছে মোবাইলটা হাতে নিয়ে ফোন করে প্রিয়জনদের। সব ব্যথা লুকিয়ে উৎফুল্ল কণ্ঠে বলে মা, ঈদ মোবারক, ঈদের নামাজ পড়ে আসলাম। মা, তোমরা সবাই সব কিছু নিয়েছো তো? এইবার ঈদে বাড়ীতে কি রান্না হবে, ভাই-বোন-ছেলে-মেয়ে সবাই খুশি হয়েছে কি?
অপরপ্রান্ত থেকে কি জবাব আসে আমাদের সকলের জানা আছে। কষ্টটা আর থাকেনা, আনন্দ বেড়ে যায় সবার খুশির কথা শুনে। বিছনায় এপাশ ওপাশ করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম থেকে উঠে যাদের বন্ধু-বান্ধব আছে তাদের নিয়ে সন্ধ্যার দিকে লোহিত সাগর প্রান্তে আড্ডায় মেতে উঠে। আবার অনেকে আছে ঈদের দিনেও কর্মস্থলে ফিরে যেতে হয়।
জীবন বাস্তবতায় অনেক প্রবাসীর স্বপ্ন, আশা, চাওয়া-পাওয়া ঘুমিয়ে পড়ে বুকের ভেতর নিরবে, নিভৃতে। স্বপ্ন গুলো কেবল দুচোখে সীমাবদ্ধ, আশা গুলো নিরাশার কাফনে মুড়ানো, চাওয়া গুলো ঠিকানাবিহীন,পাওয়া গুলো সংকীর্ণ।
এই ঈদ উদযাপন করার অধিকার সবার আছে। বছরের পর বছর এই সুদূর প্রবাসে পরিবারের সুখের জন্য দিনযাপন করে যাচ্ছে অনেক প্রবাসী। এমন অনেক প্রবাসী আছেন, পরিবারের সাথে ঈদ করছেনা অনেক বছর। ইচ্ছে করছেনা এমন না, জীবনের প্রয়োজনের তাগিদে বাধ্য করেছে ঈদের খুশির দিন গুলোতে প্রিয়জন থেকে দূরে থাকতে। ঈদ বা বিশেষ দিন গুলোতে প্রবাসীরা কত যে কষ্টে দিন গুলো পার করে একমাত্র উপর ওয়ালা জানে। চাঁদরাত পর্যন্ত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের পর, ঈদের নামাজ শেষে দু-একজন বন্ধু-বান্ধবের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর ভারাক্রান্ত মন নিয়ে যখন বাসায় এসে ক্লান্ত দেহখানি বিছানায় এলিয়ে দেয়, ঠিক তখনি মনে পড়ে প্রিয়জনদের কথা। ইচ্ছে হয় উঁড়াল দিয়ে চলে যাই কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, চাইলে তো আর যাওয়া যায়না। এই যেতে না পারার পেছনে সফলতার চেয়ে হাজারো ব্যর্থতার গল্প আছে। ভাগ্যে আর জীবনের সাথে সমঝোতা করে, চোখের কোণে লোনাজল গুলো মুছে মোবাইলটা হাতে নিয়ে ফোন করে প্রিয়জনদের। সব ব্যথা লুকিয়ে উৎফুল্ল কণ্ঠে বলে মা, ঈদ মোবারক, ঈদের নামাজ পড়ে আসলাম। মা, তোমরা সবাই সব কিছু নিয়েছো তো? এইবার ঈদে বাড়ীতে কি রান্না হবে, ভাই-বোন-ছেলে-মেয়ে সবাই খুশি হয়েছে কি?
অপরপ্রান্ত থেকে কি জবাব আসে আমাদের সকলের জানা আছে। কষ্টটা আর থাকেনা, আনন্দ বেড়ে যায় সবার খুশির কথা শুনে। বিছনায় এপাশ ওপাশ করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম থেকে উঠে যাদের বন্ধু-বান্ধব আছে তাদের নিয়ে সন্ধ্যার দিকে লোহিত সাগর প্রান্তে আড্ডায় মেতে উঠে। আবার অনেকে আছে ঈদের দিনেও কর্মস্থলে ফিরে যেতে হয়।
জীবন বাস্তবতায় অনেক প্রবাসীর স্বপ্ন, আশা, চাওয়া-পাওয়া ঘুমিয়ে পড়ে বুকের ভেতর নিরবে, নিভৃতে। স্বপ্ন গুলো কেবল দুচোখে সীমাবদ্ধ, আশা গুলো নিরাশার কাফনে মুড়ানো, চাওয়া গুলো ঠিকানাবিহীন,পাওয়া গুলো সংকীর্ণ।
![]() |
| মরুকবি ও সংগঠক জোসনা হক |
আশার ক্ষুদ্র ঋণ বিশেষজ্ঞ কবি সাইফুর রহমান কায়েসের বিদেশ গমণ
হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার নরপতি গ্রামের কৃতিসন্তান কবি, প্রাবন্ধিক, ক্ষুদ্রঋণ বিশেষজ্ঞ ও জয়বার্তার আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাইফুর রহমান কায়েস আগামী ১৪ জুন রোজ মঙ্গলবার ভারত, নেপাল ও ভুটান ভ্রমণে যাচ্ছেন। তিনি সেখানে এক সপ্তাহব্যাপী অবস্থানকালে বিভিন্ন ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানসমূহ ঘুরে দেখবেন। দেশ ত্যাগের প্রাক্কালে তিনি সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছেন।
আগামী ২২ শে জুন তিনি দেশে ফিরবেন। উল্লেখ্য যে ইতিপূর্বে তিনি ফিলিপাইন, নাইজেরিয়া ও ঘানাতে ক্ষুদ্রঋণ বিশেষজ্ঞ হিসেবে ৫ বছর কাজ করেছেন। গত বছর ফিলিপিনো কবি ও রাষ্ট্রদূত মান্যবর ভিন্সেন্ট ভিভেন্সিও বান্ডিলিওর আমন্ত্রণে ফিলিপাইন ভ্রমণ করেন।
Sunday, June 10, 2018
চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথার মাসিক সাহিত্য আড্ডা ও ইফতার মাহফিল
গতকাল শনিবার, ৯ জুন ২০১৮ ইং, গোসাইডাঙা রামকৃষ্ণ বহুমুখী (জি আর কে) উচ্চ বিদ্যালয়, আগ্রাবাদে সাহিত্য ও সংস্কৃতিক সংগঠন "ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা" চট্টগ্রাম বিভাগের উদ্যোগে যুগ্ম সমন্বয়ক আবেদা সুলতানার সভাপতিত্বে আজাদ শেখের সঞ্চালনায় মাসিক সাহিত্য আড্ডা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সাহিত্য আড্ডার আলোচ্য বিষয় ছিল "জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিল"।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাসাসপ'র প্রধান উপদেষ্টা বিশিষ্ট কবি ও সংগঠক নিয়ামত উল্লাহ, ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথার কেন্দ্রীয় পর্ষদের পরিচালক মাসুদ পারভেজ, আকপ'র সাধারণ সম্পাদক সাজীব চৌধুরী, বিশিষ্ট সাংবাদিক রাজিব চৌধুরী, সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়ক আবু নোমান হাফিজুল্লাহ, পরিচালক তুষার আহমেদ চৌধুরী, তানভীর সিকদার, আলমগীর সিরাজ, দেলোয়ার হোসেন। এছাড়াও অনেক নজরুল প্রেমী কবি সাহিত্যিক ও আবৃত্তি শিল্পী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্মের নানান দিক আলোচনা করে বলেন। বাংলা সাহিত্যে নজরুলের দেখানো পথ ধরে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে সমস্ত অন্যায় অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মধ্যে দিয়ে।
সুন্দর প্রাণবন্ত একটি সাহিত্য আড্ডা উপহার দেওয়ার জন্য উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান বিভাগীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক সাংবাদিক মোঃ ফিরোজ।
পাঞ্জেরী ।। কবি ফররুখ আহমদ
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা, হেলার এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি মাস্তলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
দীঘল রাতের শ্রান্তসফর শেষে
কোন দরিয়ার কালো দিগন্তে আমরা পড়েছি এসে?
এ কী ঘন-সিয়া জিন্দেগানীর বা’ব
তোলে মর্সিয়া ব্যথিত দিলের তুফান-শ্রান্ত খা’ব
অস্ফুট হয়ে ক্রমে ডুবে যায় জীবনের জয়ভেরী।
তুমি মাস্তুলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
সম্মুখে শুধু অসীম কুয়াশা হেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
বন্দরে বসে যাত্রীরা দিন গোনে,
বুঝি মৌসুমী হাওয়ায় মোদের জাহাজের ধ্বনি শোনে,
বুঝি কুয়াশায়, জোছনা- মায়ায় জাহাজের পাল দেখে।
আহা, পেরেশান মুসাফির দল।
দরিয়া কিনারে জাগে তক্দিরে
নিরাশায় ছবি এঁকে!
পথহারা এই দরিয়া- সোঁতারা ঘুরে
চলেছি কোথায়? কোন সীমাহীন দূরে?
তুমি মাস্তুলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
একাকী রাতের গান জুলমাত হেরি!
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
শুধু গাফলতে শুধু খেয়ালের ভুলে,
দরিয়া- অথই ভ্রান্তি- নিয়াছি ভুলে,
আমাদেরি ভুলে পানির কিনারে মুসাফির দল বসি
দেখেছে সভয়ে অস্ত গিয়াছে তাদের সেতারা, শশী।
মোদের খেলায় ধুলায় লুটায়ে পড়ি।
কেটেছে তাদের দুর্ভাগ্যের বিস্বাদ শর্বরী।
সওদাগরের দল মাঝে মোরা ওঠায়েছি আহাজারি,
ঘরে ঘরে ওঠে ক্রন্দনধ্বনি আওয়াজ শুনছি তারি।
ওকি বাতাসের হাহাকার,- ও কি
রোনাজারি ক্ষুধিতের!
ও কি দরিয়ার গর্জন,- ও কি বেদনা মজলুমের!
ও কি ধাতুর পাঁজরায় বাজে মৃত্যুর জয়ভেরী।
পাঞ্জেরি!
জাগো বন্দরে কৈফিয়তের তীব্র ভ্রুকুটি হেরি,
জাগো অগণন ক্ষুধিত মুখের নীরব ভ্রুকুটি হেরি!
দেখ চেয়ে দেখ সূর্য ওঠার কত দেরি, কত দেরি!!
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা, হেলার এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি মাস্তলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
দীঘল রাতের শ্রান্তসফর শেষে
কোন দরিয়ার কালো দিগন্তে আমরা পড়েছি এসে?
এ কী ঘন-সিয়া জিন্দেগানীর বা’ব
তোলে মর্সিয়া ব্যথিত দিলের তুফান-শ্রান্ত খা’ব
অস্ফুট হয়ে ক্রমে ডুবে যায় জীবনের জয়ভেরী।
তুমি মাস্তুলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
সম্মুখে শুধু অসীম কুয়াশা হেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
বন্দরে বসে যাত্রীরা দিন গোনে,
বুঝি মৌসুমী হাওয়ায় মোদের জাহাজের ধ্বনি শোনে,
বুঝি কুয়াশায়, জোছনা- মায়ায় জাহাজের পাল দেখে।
আহা, পেরেশান মুসাফির দল।
দরিয়া কিনারে জাগে তক্দিরে
নিরাশায় ছবি এঁকে!
পথহারা এই দরিয়া- সোঁতারা ঘুরে
চলেছি কোথায়? কোন সীমাহীন দূরে?
তুমি মাস্তুলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
একাকী রাতের গান জুলমাত হেরি!
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
শুধু গাফলতে শুধু খেয়ালের ভুলে,
দরিয়া- অথই ভ্রান্তি- নিয়াছি ভুলে,
আমাদেরি ভুলে পানির কিনারে মুসাফির দল বসি
দেখেছে সভয়ে অস্ত গিয়াছে তাদের সেতারা, শশী।
মোদের খেলায় ধুলায় লুটায়ে পড়ি।
কেটেছে তাদের দুর্ভাগ্যের বিস্বাদ শর্বরী।
সওদাগরের দল মাঝে মোরা ওঠায়েছি আহাজারি,
ঘরে ঘরে ওঠে ক্রন্দনধ্বনি আওয়াজ শুনছি তারি।
ওকি বাতাসের হাহাকার,- ও কি
রোনাজারি ক্ষুধিতের!
ও কি দরিয়ার গর্জন,- ও কি বেদনা মজলুমের!
ও কি ধাতুর পাঁজরায় বাজে মৃত্যুর জয়ভেরী।
পাঞ্জেরি!
জাগো বন্দরে কৈফিয়তের তীব্র ভ্রুকুটি হেরি,
জাগো অগণন ক্ষুধিত মুখের নীরব ভ্রুকুটি হেরি!
দেখ চেয়ে দেখ সূর্য ওঠার কত দেরি, কত দেরি!!
![]() |
| কবি ফররুখ আহমদ |
Wednesday, June 6, 2018
বিষাদিত নির্ঘুম রাত ।। ইউনুছ আকমাল
চারিধার সুন সান,আঁধারে ঢাকা,
নেই কোন উচ্ছ্বাস,নেই খুশির ফোয়ারা,
পৃথিবীর সব কিছুই যেন বিষাদিত:
তোমার চলে যাওয়াতেই হয়তো।
কি অপরাধ ছিল-চন্দনা!
নিঃস্ব করে চলে গিয়েছো বহু দূরে,
দুঃখের সাথে আজ পরম আত্মীয়তা;
ঘুমহীন রাতের পাখির মতো-
এপাশ ওপাশ গড়া গড়ি দিয়ে
পাড়ি দিচ্ছি রাতের কষ্টের নদী।
কেন এমন করলে- চন্দনা!
কেন করলে এমন প্রতারণা?
ভাসিয়ে আমায় অকূল পাথারে,
আছো তুমি দৃষ্টির আড়ালে।
তোমার শূন্যতা পীড়া দিচ্ছে বারবার,
কোন কিছুই লাগে না ভালো,
বিষন্নতায় বসে না মন কোন কাজে;
আছো তুমি ভাবনায় সারাক্ষণ।
বিষাদিত আঁধার আমাকে ছেয়ে আছে,
মুক্তির পথ খুঁজি,পালাবার পথ নেই,
কারণে-অকারণে আঁধারের পানে-
ধূসর দৃষ্টি,ঝাপসা অতীত,
এ কোন মরণ খেলায় অন্তঃক্ষরা!!
নেই কোন উচ্ছ্বাস,নেই খুশির ফোয়ারা,
পৃথিবীর সব কিছুই যেন বিষাদিত:
তোমার চলে যাওয়াতেই হয়তো।
কি অপরাধ ছিল-চন্দনা!
নিঃস্ব করে চলে গিয়েছো বহু দূরে,
দুঃখের সাথে আজ পরম আত্মীয়তা;
ঘুমহীন রাতের পাখির মতো-
এপাশ ওপাশ গড়া গড়ি দিয়ে
পাড়ি দিচ্ছি রাতের কষ্টের নদী।
কেন এমন করলে- চন্দনা!
কেন করলে এমন প্রতারণা?
ভাসিয়ে আমায় অকূল পাথারে,
আছো তুমি দৃষ্টির আড়ালে।
তোমার শূন্যতা পীড়া দিচ্ছে বারবার,
কোন কিছুই লাগে না ভালো,
বিষন্নতায় বসে না মন কোন কাজে;
আছো তুমি ভাবনায় সারাক্ষণ।
বিষাদিত আঁধার আমাকে ছেয়ে আছে,
মুক্তির পথ খুঁজি,পালাবার পথ নেই,
কারণে-অকারণে আঁধারের পানে-
ধূসর দৃষ্টি,ঝাপসা অতীত,
এ কোন মরণ খেলায় অন্তঃক্ষরা!!
![]() |
| কবি ও সংগঠক ইউনুছ আকমাল |
শুধু একটি কবিতার প্রতিক্ষায় ।। রোকসানা সুখী
নিত্যই!!
শুধু একটি কবিতার প্রতিক্ষায়-
কতযুগ কাটিয়েছি নির্ঘুম?
চাঁদ-তারারাও অপেক্ষার প্রহর কেটে কেটে লুকিয়েছে অমাবস্যার আঁধারে।
মুক্ত বাতাসও নৃত্যের ঝংকার তুলে তুলে আজ বড্ড ক্লান্ত।
দিবালোকের সূর্যরাজা সময়ের কাঁটায় হেঁটে হেঁটে চলেছে নির্বাসনে
নীল আকাশের ছটফটে পাখিরাও হতাশার গ্লানি মেখে মেখে মুখ গুজেছে আপন পালকে।
জানো নিত্যই!!
শুধু একটি কবিতার প্রতিক্ষায়!!
বিন্দু বিন্দু অশ্রুকণারা শুষ্ক মৃত্তিকাকে পরিয়েছে কর্দমার কাপড়।
ভোরের সদ্য ফোঁটা জুঁই চামেলিরাও একাকিত্বের বাসরে কেঁদে কেঁদে হয়েছে নিষ্প্রাণ
একটি কবিতার প্রতিক্ষায়!!
স্রোতস্বিনী সুরমা কলকলধ্বনিতে শত শতাব্দীকাল তুলেনা তুমুল সুর।
পাখিরাও কুঞ্জুবনে কলতানের কাঁকন বাজিয়ে বাজিয়ে হতাশার হাতিয়ারে নিষ্ফলক নিশ্চুপ।
রাখালিয়া বাঁশরীও যুগ-যুগান্তরের চক্রগতিতে নেচে নেচে হয়েছে বিলীন ।
শুধু একটি কবিতা প্রতিক্ষায়!!
হাহাকারের তাণ্ডবে পাথরের প্রতিচ্ছবি ধারণ করেছে আমার ব্যাকুল বুক।
শুষ্ক ঝর্নার নিঁখুদ ছবিও এঁকেছে আমার কাঁচা কাজল দিগন্ত দু'চোখ।
শরীরের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে বিষাদের উইপোকারা খুঁজে নিয়েছে আপন সুখ।
শুধু একটি কবিতা লিখবো বলে-
জানো নিত্যই!!
নির্ঘুম অভিমানী অক্ষরগুলো কিলবিল করে খুঁজে তোমার সুঠাম বুক।
খুঁজে ফিরে নিঁখুদ ভাস্কর্যের কারুকাজে আঁকা সেই চির চেনা সুশ্রী মুখ।
খুঁজে ফিরে আজো সেই রংধনুর সাত রঙে রঞ্জিত সোনালি স্বপ্নিল পুল।
বিশ্বাস করো নিত্যই!!
আজো শুধু একটি কবিতার প্রতিক্ষায়!!
১৯-৪-২০১৭
বিকাল ৪টায়।
শুধু একটি কবিতার প্রতিক্ষায়-
কতযুগ কাটিয়েছি নির্ঘুম?
চাঁদ-তারারাও অপেক্ষার প্রহর কেটে কেটে লুকিয়েছে অমাবস্যার আঁধারে।
মুক্ত বাতাসও নৃত্যের ঝংকার তুলে তুলে আজ বড্ড ক্লান্ত।
দিবালোকের সূর্যরাজা সময়ের কাঁটায় হেঁটে হেঁটে চলেছে নির্বাসনে
নীল আকাশের ছটফটে পাখিরাও হতাশার গ্লানি মেখে মেখে মুখ গুজেছে আপন পালকে।
জানো নিত্যই!!
শুধু একটি কবিতার প্রতিক্ষায়!!
বিন্দু বিন্দু অশ্রুকণারা শুষ্ক মৃত্তিকাকে পরিয়েছে কর্দমার কাপড়।
ভোরের সদ্য ফোঁটা জুঁই চামেলিরাও একাকিত্বের বাসরে কেঁদে কেঁদে হয়েছে নিষ্প্রাণ
একটি কবিতার প্রতিক্ষায়!!
স্রোতস্বিনী সুরমা কলকলধ্বনিতে শত শতাব্দীকাল তুলেনা তুমুল সুর।
পাখিরাও কুঞ্জুবনে কলতানের কাঁকন বাজিয়ে বাজিয়ে হতাশার হাতিয়ারে নিষ্ফলক নিশ্চুপ।
রাখালিয়া বাঁশরীও যুগ-যুগান্তরের চক্রগতিতে নেচে নেচে হয়েছে বিলীন ।
শুধু একটি কবিতা প্রতিক্ষায়!!
হাহাকারের তাণ্ডবে পাথরের প্রতিচ্ছবি ধারণ করেছে আমার ব্যাকুল বুক।
শুষ্ক ঝর্নার নিঁখুদ ছবিও এঁকেছে আমার কাঁচা কাজল দিগন্ত দু'চোখ।
শরীরের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে বিষাদের উইপোকারা খুঁজে নিয়েছে আপন সুখ।
শুধু একটি কবিতা লিখবো বলে-
জানো নিত্যই!!
নির্ঘুম অভিমানী অক্ষরগুলো কিলবিল করে খুঁজে তোমার সুঠাম বুক।
খুঁজে ফিরে নিঁখুদ ভাস্কর্যের কারুকাজে আঁকা সেই চির চেনা সুশ্রী মুখ।
খুঁজে ফিরে আজো সেই রংধনুর সাত রঙে রঞ্জিত সোনালি স্বপ্নিল পুল।
বিশ্বাস করো নিত্যই!!
আজো শুধু একটি কবিতার প্রতিক্ষায়!!
১৯-৪-২০১৭
বিকাল ৪টায়।
![]() |
| কবি, সংগঠক ও প্রকাশক রোকসানা সুখী |
Tuesday, June 5, 2018
Monday, June 4, 2018
একজন ভালো বক্তা হওয়ার কিছু কলা-কৌশল ।। সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান
আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন ধরণের বক্তৃতা শুনে থাকি। এই যেমন ধরুনঃ অফিসে, স্কুলে, মাঠে-ঘাটে-রাস্তায়, রেডিও-টেলিভিশনে, বিভিন্ন ধরণের সভা-সেমিনারে। আমাদের অনেকের ধারণা হচ্ছে, যিনি যত বেশি শিক্ষিত, তিনি তত বেশী ভালো বক্তা হবেন। এই ধারণাটি সম্পূর্ণরূপে ভুল, যার একটি উদাহরণ দিচ্ছি। আমরা দেখতে পাই, দেশের কিছু রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে অকপটে দূর্দান্ত বক্তব্য রাখছেন। তাদের বক্তব্য শুনে লক্ষ লক্ষ মানুষ উজ্জীবিত হচ্ছেন। তাদের মধ্যে কারো কারো শিক্ষাগত যোগ্যতা অতি অল্প কিন্তু উনারা বিশাল মাপের অতি জনপ্রিয় বক্তা। লক্ষ লক্ষ মানুষ মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে উনাদের বক্তব্য দীর্ঘ সময় নিয়ে শুনেন। পৃথিবীতে এমন অসংখ্য ব্যক্তির নাম বলা যাবে, যাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কম থাকা সত্ত্বেও উনারা অনেক জনপ্রিয় বক্তা ছিলেন। আবার এমনও অনেক ব্যক্তি ছিলেন, যাঁরা অতি উচ্চ শিক্ষিত কিন্তু ভালো বক্তৃতা দিতে না পারার কারণে অন্য কেউ উনাদের লিখিত প্রবন্ধ পাঠ করতেন। আমরা কিছু কিছু বক্তার খুব সাধারণ কথা শুনলেও মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে উনাদের বক্তব্য শুনে যাই। আবার কিছু কিছু বক্তা অতি জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য প্রদানের করলেও অল্প সময় পরেই আমরা বক্তৃতা শুনতে বিরক্ত বোধ করি। আমরা সহজেই বুঝতে পারি, কে ভালো বক্তা কিন্তু তিনি কেন ভালো বক্তা, সেটা অনেকেই জানি না।
কেউ কেউ আছেন, বক্তৃতা দিতে গেলে হার্টবিট বেড়ে যায়। কারো কারো আবার হাত পা কাঁপে, গলা শুকিয়ে যায়। কেউ কেউ আছেন, অতিরিক্ত নার্ভাস হয়ে, যা বলতে এসেছিলেন, সেটাই ভুলে যান। এমনও কেউ আছেন, বেশি মানুষের সমাগম দেখলে কিংবা অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সামনে বক্তৃতা প্রদান কালে অতিরিক্ত মানসিক চাপে ভুগেন। উনারা তখন বক্তব্যটা তালগোল পাকিয়ে জগাখিচুড়ি বানিয়ে ফেলেন। আমাদের অনেকের মাঝে এই সমস্যা গুলো আছে, যে কারণে আমরা ভালো বক্তা হতে পারি না। ভালো বক্তা হওয়ার কিছু কলা-কৌশল আছে। এই কলা কৌশল গুলো রপ্ত করতে পারলে একজন ভালো বক্তা হওয়া যায়।
☞ মনের ভয়টাকে জয় করাঃ
একজন বক্তা হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি হচ্ছে নিজের মনের ভয়টাকে জয় করা। নিজের মনের ভেতরে ভয় নিয়ে কখনও বক্তা হওয়া যাবে না। মনের ভয়টাকে জয় করার সবচেয়ে সহজ কৌশল হচ্ছে, মানুষের সাথে চলাফেরা করা ও খোলা মনে কথা বলা। মনের ভেতরের জড়তা, সংকোচ পরিহার করে সবার সাথে নিয়মিত কথাবার্তা বলা। অন্যের সাথে কথা বলার সময় নিজের উপরে আত্ম বিশ্বাস রাখতে হবে। সর্বোপরি, অন্য কারো সাথে কথা বলার সময় ভাবতে হবে, তিনি আমার মতোই একজন মানুষ ভিন্ন অন্য কিছু নন। তবে হ্যাঁ, যিনি যতটুকু সম্মান পাওয়ার যোগ্য, উনাকে সেই সম্মান অবশ্যই প্রদর্শন করতে হবে।
☞ অনুশীলনঃ
একজন ভালো বক্তা হওয়ার জন্য আমাদের অবশ্যই সর্বপ্রথম অনুশীলন করতে হবে। সবচেয়ে ভালো অনুশীলন করার জায়গা হচ্ছে আয়না। আমরা যদি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিয়মিত ভাবে বক্তৃতা প্রদান করি, তাহলে আমাদের জড়তা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা হবে। এবং মুখের বাচন ভঙ্গি ও শারীরিক অঙ্গ ভঙ্গিতে দৃষ্টিকটু কিছু মনে হলে, সেটা সংশোধন করে নেওয়া যাবে। তারপর সাহস বৃদ্ধির জন্য মাঝেমধ্যে কৌশলে কাছের কিছু বন্ধুদের সামনে বক্তৃতা দেওয়ার মতো করে কথা বলে যাওয়া। এছাড়াও বিভিন্ন বক্তার বক্তৃতা মনোযোগ দিয়ে শোনা। কে কিভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন, মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করা। সেই ভাবে নিজেকে তৈরি করে নেওয়া। এভাবে অনুশীলন করে এক সময় সভা-সেমিনারের একজন বক্তা হওয়া যাবে কিন্তু ভালো বক্তৃতা হওয়ার জন্য আরও অনেক কৌশল অবলম্বন করতে হবে।
☞ বক্তব্য প্রদানের প্রস্তুতিঃ
বক্তব্য প্রদানের পূর্বে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে, যা বক্তব্য প্রদানের সময় খুব সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বক্তব্য প্রদানের পূর্বে আলোচ্য বিষয়টি জেনে নিয়ে তার উপরে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বুলেট পয়েন্ট লিখে নিয়ে যাওয়া যেতে পাবে। বক্তৃতা প্রদান কালে যা দেখে দেখে বক্তব্য প্রদান করলে অনায়াসে নির্ভূল বক্তব্য প্রদান করা যায়। অনেকেই আছেন খুব সাধারণ কিছু বিষয়ে ভুল করেন। যেমন বক্তৃতা প্রদান কালে আলোচ্য বিষয়টি বলতে গিয়ে ভুল করেন। ব্যক্তির নাম, পদবী কিংবা প্রতিষ্ঠানের নাম বলতে গিয়ে ভুল করেন। এছাড়াও আরও অনেক অনেক ভুল তথ্য প্রদান করে বক্তব্য দিয়ে যান। বক্তৃতা প্রদান কালে ভুল তথ্য দিলে মানুষের কাছে হাসির খোরাকে পরিণত হতে হয়। তাই বক্তব্য প্রদান কালে কোন ভাবে ভুল তথ্য প্রদান করা যাবে না। এই বিষয়টি খুব বেশি খেয়াল রাখতে হবে।
☞ শ্রুতাদের উপরে সমান দৃষ্টিপাতঃ
অনেকেই আছেন, বক্তৃতা প্রদান কালে শ্রুতাদের দিকে দৃষ্টিপাত করেন না। কেউ কেউ উপরের দিকে, কেউ কেউ নিচের দিকে, আবার নির্দিষ্ট কিছু মানুষের দিকে তাকিয়ে বক্তব্য রাখেন। এতে করে শ্রুতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় না। বক্তৃতা প্রদান কালে শ্রুতাদের দিকে সমান দৃষ্টিপাত করতে হবে। নির্দিষ্ট কারো সাথে নয়, উপস্থিত সবার উপরে দৃষ্টি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সমান দৃষ্টিপাত করতে হবে। এতে করে খুব সহজেই শ্রুতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। তখন শ্রুতারা ভিন্ন দিকে মনোযোগী হওয়ার সুযোগ পায় না এবং মনোযোগ দিয়ে বক্তব্য শুনে।
☞ বাচন ভঙ্গি ও অঙ্গ ভঙ্গিঃ
অনেকেই আছেন, যাদের বাচন ভঙ্গি ও শারীরিক অঙ্গ ভঙ্গি সুন্দর না হওয়ায় শ্রুতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হোন। কেউ কেউ আবার বক্তৃতা বক্তৃতা প্রদান কালে বাচন ভঙ্গি ও শারীরিক অঙ্গ ভঙ্গির কারণে শ্রুতাদের হাসির খোরাকে পরিণত হোন। বক্তৃতা প্রদান কালে বাচন ভঙ্গি ও শারীরিক অঙ্গ ভঙ্গি খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বক্তৃতা কখনও একি রকম স্বরে দেওয়া যাবে না। আবার খুব উচ্চ স্বরেও বক্তৃতা দেওয়া যাবে না, তেমনি খুব নিচু স্বরেও বক্তৃতা দেওয়া যাবে না। বক্তৃতা দেওয়ার সময় বক্তব্যের ধরণ অনুযায়ী স্বরের উঠা নামা করাতে হবে। বক্তৃতা প্রদান কালে হাসির কথায় স্বর কোমল ও মুখে হাসি ফোটাতে হবে। কষ্টের কথায় স্বরে ব্যথিত ও চেহারায় কষ্ট ফোটাতে হবে। খুব শক্ত ও কঠিন কথায় স্বর বলিষ্ঠ ও চেহারা রূঢ় করতে হবে। মোট কথা, বক্তৃতার মাঝে একটি স্বরে ও চেহারার ভঙ্গিতে রিদম থাকতে হবে, যা শ্রুতাদের মুগ্ধ করে রাখবে। পাশাপাশি শারীরিক অঙ্গ ভঙ্গি বক্তব্যের ধরণ অনুযায়ী সুন্দর ভাবে সক্রিয় রাখতে হবে। বাচন ভঙ্গি ও শারীরিক অঙ্গ ভঙ্গি শ্রুতাদের সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। তাই বক্তৃতা প্রদান কালে এই বিষয়ে খুব বেশি গুরুত্ব আরোপ করতে হবে।
☞ প্রাসঙ্গিক আলোচনাঃ
অনেকেই আছেন, বক্তৃতা প্রদান কালে প্রাসঙ্গিক বিষয়ের বাহিরে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে নিয়ে বেশি কথা বলেন। এতেও শ্রুতাদের মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায় এবং এটি শ্রুতাদের বিরক্তির অন্যতম কারণ। যে প্রসঙ্গে আলোচনা হবে, সেই প্রসঙ্গের বাহিরে না যাওয়াই উত্তম। সব সময় চেষ্টা করতে হবে প্রাসঙ্গিক বিষয়ের উপরে বক্তব্য প্রদান করা। যদি প্রাসঙ্গিক বিষয়ে ভালো ধারণা না থাকলে, বক্তৃতা দীর্ঘ না করে সংক্ষিপ্ত করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। সবচেয়ে বেশি ভালো হয়, অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে কথা না বলে, পূর্বের বক্তব্যদের বক্তব্য থেকে কিছু অংশ আলোচনা করা।
☞ শ্রুতাদের ধরণ ও মনোভাব বিবেচনা করাঃ
বক্তৃতা প্রদান কালে সবার আগে খেয়াল রাখতে হবে, শ্রুতারা কোন ধরণের মানুষ। অনেক সময় দেখা যায়, শ্রুতাদের অধিকাংশ উচ্চ শিক্ষিত আবার কখনও দেখা যায়, অধিকাংশ শ্রুতাই কম শিক্ষিত বা অশিক্ষিত। উচ্চ শিক্ষিত শ্রুতাদের সামনে যেভাবে বক্তব্য প্রদান খুব বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়। অনুরূপ বক্তব্য কম শিক্ষিত বা অশিক্ষিত মানুষের কাছে মনোযোগ আকর্ষণ করতে পুরোপুরি ভাবে ব্যর্থ হয়। শ্রুতাদের ধরণ অনুযায়ী বক্তব্য প্রদান করলে, সেই বক্তৃতা শ্রুতাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়। এছাড়াও শ্রুতাদের মনোভাব বুঝতে হবে এবং সেই মনোভাব অনুযায়ী বক্তব্য প্রদান করতে হবে। যেমন, অতি ধার্মিক মনোভাবের শ্রুতাদের কাছে যেমন প্রগতিশীল চেতনার বক্তব্য আবেদন রাখতে পারে না, তেমনি প্রগতিশীল মনোভাবের শ্রুতাদের কাছে ধার্মিক মনোভাব থেকে বক্তব্য প্রদান করলেও সেটা আবেদন রাখতে ব্যর্থ হয়। তেমনি ভাবেই, ছাত্রদের কাছে যে বক্তব্য খুব আকর্ষণীয় কিন্তু একই বক্তৃতা বয়োঃজ্যেষ্ঠদের কাছে পুরোপুরি ভাবেই ব্যর্থ। এভাবেই, বিভিন্ন বয়স, শ্রেণী ও মতাদর্শের কারণে ভিন্ন ভিন্ন মনোভাবের শ্রুতা থাকে এবং তাদের মনোভাব বুঝে বক্তৃতা দিতে পারলেই খুব সহজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।
☞ শ্রুতাদের মনের অব্যক্ত কথাগুলা বলাঃ
অনেক বক্তব্য আছেন, শ্রুতারা আসলে কি শুনতে চাচ্ছেন, সেটাই ধরতে পারেন না। তাই খুব সুন্দর ভাবে বক্তব্য প্রদানের পরেও শ্রুতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়। শ্রুতাদের মনের অব্যক্ত কথাগুলা অনুধাবন করতে হবে এবং সেই কথাগুলো বলতে বলতে পারলেই খুব সহজেই শ্রুতাদের খুব সহজেই মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়। শ্রুতাদের তখন মনে হয়, তার মনের অব্যক্ত কথাগুলা বক্তা তার বক্তৃতায় বলছেন। শ্রুতারা সব সময় প্রত্যাশা করে, তাদের মনের অব্যক্ত কথাগুলা বক্তারা বলুক। তাই এই বিষয়ে খুব বেশি গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। যিনি এই বিষয়ে খুব পারদর্শী, তিনি শ্রুতাদের কাছে প্রিয় ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেন।
যাঁরা আমাদের দৃষ্টিতে ভালো বক্তা, আমরা দেখতে পাবো, তাদের বক্তব্যের মাঝে উপরের কলা কৌশল গুলো বিদ্যমান। তাই উপরের কলা-কৌশল গুলো রপ্ত করতে পারলে, আমরা একজন ভালো বক্তা হতে পারবো। তবে হ্যাঁ, পরিশেষে একটি কথা বলতে হবে, যিনি যত ভালো শ্রুতা হবেন, তিনি তত ভালো বক্তা হতে পারবেন।
লেখকঃ সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান
সম্পাদক, ত্রৈমাসিক আমাদের গল্পকথা।
ঢাকা, বাংলাদেশ।
বাসাসপ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের নজরুলের সাহিত্যালোচনা ও ইফতার পার্টি সম্পন্ন
"বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিবার (বাসাসপ)" পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল শাখার "জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম বিষয়ক আলোচনা, ইফতার পার্টি ও সাহিত্য আড্ডা" সফলতার সাথে শেষ হয়েছে।
গতকাল রোববার পার্বত্য নগরী বান্দরবানের হোটেল দি প্যারাডাইজ কনফারেন্স হলে গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী, বাসাসপ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও পরিচালক (সংস্কৃতি), কবি প্রকাশ বড়ুয়ার সঞ্চালনায় এবং বাসাসপ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমন্বয়ক শিল্পকলা ও শিশু একাডেমির সংগীত প্রশিক্ষক কণ্ঠশিল্পী জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মানিত সদস্য কবি সিংইয়ং ম্রো।
![]() |
| অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিদের একাংশ |
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের আলোচনা উপস্থাপন করেছেন বাসাসপ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও কাচালং গ্রুপের সিইও কবি শাহ মোহাম্মদ নিয়ামত উল্লাহ। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন বাসাসপ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কবি ও কথাসাহিত্যিক মুহাম্মদ ইয়াকুব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, আন্তর্জাতিক কবি পরিষদ (আকপ) এর সাধারণ সম্পাদক কবি ও সংগঠক সাজীব চৌধুরী, প্রবীণ কবি আমিনুর রহমান আমিন, সমুজ্জল সুবাতাস লিটলম্যাগ সম্পাদক কবি চৌধুরী বাবুল বড়ুয়া, বিশিষ্ঠ কণ্ঠশিল্পী থোয়াইচিং প্রু নিলু, শিল্প ও সাহিত্যানুরাগী মফিজুল ইসলাম মামুন।
বান্দরবান জেলা কারাগারের জেলার ও বাসাসপ পরিচালক কবি রিজিয়া বেগমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের বাংলা বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ ইয়াকুব।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন
কবি নাছির আহমেদ, শিল্পী সুবিমল দাশ শিমুল, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা শিলাদিত্য মুৎসুদ্দি, বেতারশিল্পী দিলিপ কুমার নাথ, সাংবাদিক মোঃ ইয়াছিনুল হাকিম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে নজরুল সংগীত, হামদ ও নাত পরিবেশন করেন
শিশু শিল্পী সুমাইয়া আক্তার, বৃষ্টি, তুষ্টি প্রমুখ।
নজরুলের সাহিত্যকর্ম বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠানটি নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের সাহিত্য সচেতন গোষ্ঠী পূর্ব হতেই উন্মুখ ছিলেন। জনপ্রিয় দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রামসহ স্থানীয় দৈনিকগুলো অনুষ্ঠানের পূর্ব সংবাদ পরিবেশন করেছে। অনুষ্ঠানে বক্তাগণ নজরুলের সাহিত্যকর্মের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং বাসাসপ এর এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান। বক্তাগণ সাম্য, দ্রোহ ও মানবতার কবি নজরুলের সাহিত্যকর্ম ও চেতনাকে যথাযথ লালন ও পালনের জোর দাবি জানান।
Sunday, June 3, 2018
দেশে আজ নব্য বর্গী ।। মীম মিজান
আমি চাই না একদিনের ভালোবাসা,
চাই না একদিনের গায়ে মাখানো দেশপ্রেম,
স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত একটি সন্ধ্যার ত্যাগ,
গালে, বুকে, পেটে আঁকানো সাময়িক পেঁজা তুলোর উৎসর্গ।
আত্নায় করি লালন ধারকরা সংস্কৃতি,
পারি না বলতে শুদ্ধভাবে একটি বাক্য নিজ মাতৃভাষায়,
বাংলা বর্ণকে করেছি অন্যবর্ণে বিলীন,
পরনে নেই কোন বাঙালিয়ানার পরিচ্ছদ,
চুল, দাড়ির ঢং বিলেতি,
খাদ্য-পানীয়তে তো ছোঁয়াও নেই দেশজের।
একদিনে সারাবিশ্বকে জানিয়ে দিব আমার কতটা দেশপ্রেম,
এ রকম কি জানিয়েছিল রফিক, বরকতেরা?
এ রকম কি করেছিল মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর, মোস্তফা কামালেরা,
কিংবা ভাষার স্বীকৃতির সেই সংগঠক রফিক ও আব্দুস সালামেরা।
রক্তের অনু কনিকায়,
ধমনীতে, শ্বাস-প্রশ্বাসে, প্রক্ষোভে, লিখনিতে, চিন্তাতে,
এভাবে করে ধারন ও লালন তারা এঁটে দিয়েছিল কুলুপ ওই বেনিয়া ও জোচ্চোরদের মুখে।
দিতে প্রাণ জাতীর তরে,
করতে বলিদান নিজের সখ-আহ্লাদকে,
করেনি তো একটুও চিন্তা।
নজরুল, ক্ষুদিরামেরা লড়েছে স্বাধীকারের জন্য,
আর আমরা লড়ি কার বিরুদ্ধে?
স্লোগান দেই কার বিরুদ্ধে?
দেশমাতা তুমি কি আজ সার্বভৌমত্ব পেয়েছ?
নাকি এখনো তোমার বক্ষে বিচরণ নব্য বর্গীদের?
তবে কেন আজ গায়ে মাখি লাল-সবুজের রং,
মুখপুস্তিকায় কেন ধরি দেশপ্রেমিকের ঢং?
ছুড়ে মারো তোমার ঐ ভণ্ডামী,
মুছে ফেল তোমার ঐ নোংরামী,
আসো আবার ধরি নজরুলের কলম,
ক্ষুদিরামের বোমা,
তাড়াই ঐ নব্য বর্গী
হই খাঁটি দেশপ্রেমিক।
চাই না একদিনের গায়ে মাখানো দেশপ্রেম,
স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত একটি সন্ধ্যার ত্যাগ,
গালে, বুকে, পেটে আঁকানো সাময়িক পেঁজা তুলোর উৎসর্গ।
আত্নায় করি লালন ধারকরা সংস্কৃতি,
পারি না বলতে শুদ্ধভাবে একটি বাক্য নিজ মাতৃভাষায়,
বাংলা বর্ণকে করেছি অন্যবর্ণে বিলীন,
পরনে নেই কোন বাঙালিয়ানার পরিচ্ছদ,
চুল, দাড়ির ঢং বিলেতি,
খাদ্য-পানীয়তে তো ছোঁয়াও নেই দেশজের।
একদিনে সারাবিশ্বকে জানিয়ে দিব আমার কতটা দেশপ্রেম,
এ রকম কি জানিয়েছিল রফিক, বরকতেরা?
এ রকম কি করেছিল মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর, মোস্তফা কামালেরা,
কিংবা ভাষার স্বীকৃতির সেই সংগঠক রফিক ও আব্দুস সালামেরা।
রক্তের অনু কনিকায়,
ধমনীতে, শ্বাস-প্রশ্বাসে, প্রক্ষোভে, লিখনিতে, চিন্তাতে,
এভাবে করে ধারন ও লালন তারা এঁটে দিয়েছিল কুলুপ ওই বেনিয়া ও জোচ্চোরদের মুখে।
দিতে প্রাণ জাতীর তরে,
করতে বলিদান নিজের সখ-আহ্লাদকে,
করেনি তো একটুও চিন্তা।
নজরুল, ক্ষুদিরামেরা লড়েছে স্বাধীকারের জন্য,
আর আমরা লড়ি কার বিরুদ্ধে?
স্লোগান দেই কার বিরুদ্ধে?
দেশমাতা তুমি কি আজ সার্বভৌমত্ব পেয়েছ?
নাকি এখনো তোমার বক্ষে বিচরণ নব্য বর্গীদের?
তবে কেন আজ গায়ে মাখি লাল-সবুজের রং,
মুখপুস্তিকায় কেন ধরি দেশপ্রেমিকের ঢং?
ছুড়ে মারো তোমার ঐ ভণ্ডামী,
মুছে ফেল তোমার ঐ নোংরামী,
আসো আবার ধরি নজরুলের কলম,
ক্ষুদিরামের বোমা,
তাড়াই ঐ নব্য বর্গী
হই খাঁটি দেশপ্রেমিক।
![]() |
| মীম মিজান (কবি, প্রাবন্ধিক ও সংগঠক) |
Saturday, June 2, 2018
চিঠি লেখে শ্যাম ।। কামাল আহমেদ
খোয়াই গাঙ্গের ভাঙা পাড়ে
সাধের বসত গড়িলাম,
তাহার পাড়ে উজান দেশে
সুজন শ্যামসখা ধাম।
পাল উড়ায়ে নৌকা ছাড়ে,
হংস পাঠায় সারে সারে,
অচিনপুরের ওপাশ হতে
নিতি চিঠি লেখে শ্যাম।
নায়ের পালে, হংস দলে,
ভেসে আসা ঢেউয়ের জলে
লেখা পড়ে প্রেমে মজে
আমার মন পোড়িলাম।
উজান পথে কেউ নাগো যায়,
চিঠি আমার শ্যাম নাহি পায়,
পোড়া মনের কেমন বেদন-
তারে কেমনে দেখাইতাম।
আকাশ পথের বলাকা দল,
উড়ে চলা মেঘমালা বল-
কেমনে পাই শ্যাম দরশন,
না দেখে যে ভালবাসিলাম।
আম্রকুঞ্জ, রাজার বাজার, হবিগঞ্জ।
সাধের বসত গড়িলাম,
তাহার পাড়ে উজান দেশে
সুজন শ্যামসখা ধাম।
পাল উড়ায়ে নৌকা ছাড়ে,
হংস পাঠায় সারে সারে,
অচিনপুরের ওপাশ হতে
নিতি চিঠি লেখে শ্যাম।
নায়ের পালে, হংস দলে,
ভেসে আসা ঢেউয়ের জলে
লেখা পড়ে প্রেমে মজে
আমার মন পোড়িলাম।
উজান পথে কেউ নাগো যায়,
চিঠি আমার শ্যাম নাহি পায়,
পোড়া মনের কেমন বেদন-
তারে কেমনে দেখাইতাম।
আকাশ পথের বলাকা দল,
উড়ে চলা মেঘমালা বল-
কেমনে পাই শ্যাম দরশন,
না দেখে যে ভালবাসিলাম।
আম্রকুঞ্জ, রাজার বাজার, হবিগঞ্জ।
![]() |
| কামাল আহমেদ (কবি, প্রবন্ধকার ও সংগঠক) |
ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথার মাসিক সাহিত্য আড্ডা ও ইফতার মাহফিল
গতকাল ০১ জুন ২০১৮ইং, রোজ শুক্রবার, ঢাকায় মগবাজারে অবস্থিত জলপাই রেস্টুরেন্ট এন্ড পার্টি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হলো সাহিত্য ও সংস্কৃতিক সংগঠন "ভালবাসার গান কবিতা ও গল্পকথা"র কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে মাসিক সাহিত্য আড্ডা ও ইফতার মাহফিল। এবারের অনুষ্ঠানের আলোচ্য বিষয় ছিল "জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিল"
![]() |
| অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিদের একাংশ |
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র পরিচালক কবি মামুন আব্দুল্লাহ্ ও সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সদস্য কবি আবু সাহেদ সরকার।
উক্ত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশবরেণ্য গীতিকবি শহীদুল্লাহ ফরায়েজী, বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক আতিক হেলাল, কবি ও সম্পাদক নাসির হেলাল, কবি, সম্পাদক ও সংগঠক সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান, কবি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন বকুল, কবি ও সংগঠক মোহাম্মদ ইয়াকুব।
![]() |
| ইফতার নিয়ে অপেক্ষারত কবি ও সাহিত্যিকগণ |
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের ঢাকা বিভাগীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কবি মনির ইসলাম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তারানা নাজনীন, লুৎফর রহমান রবি ও জেসমিন রুমী।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কবি মোহাম্মদ রবিউল হোসেন, কবি মিনা উজ্জ্বল, কবি শাহানা পারভীন, কবি আবুল খায়ের নাঈম উদ্দিন, কবি সালমা লাবনী, কবি সরদার ফাতিমা জুহুরা ময়না, কবি ফাতেমা সুলতানা সুমি, কবি হালিমা মুক্তা, কবি আফরোজা রানা, কবি নুরুল শিপার খান, কবি আতিকুর রহমান, কবি ও সম্পাদক সাইফুল বিন হানিফ, কবি ফয়সাল হামেদ, কবি শিহাব হোসাইন, কবি আহমদ হোসেন, কবি সাঈদ জোবাইর, কবি ফরমান উল্লাহ, কবি ময়েজ মোহাম্মদ, কবি কাজী মাওলানা মোঃ আব্দুশ সাকুর, কবি জাকির হোসেন, কবি তাওহীদুল ইসলাম, কবি মোঃ তারেক, কবি কামাল উদ্দিন, কবি সুরুজ মিয়া, কবি তানজিল মোহাম্মদ, কবি রাকিব, কবি জুলফিকার আহমেদ, কবি আবুল কাসেম ও কবি লিয়াকত আলী প্রমুখ।
![]() |
| অনুষ্ঠানের উপস্থিত আমন্ত্রিত কবি ও সাহিত্যিকগণ |
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা পাঠ দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিবৃন্দ কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম শীর্ষক জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেন। সবাই পরামর্শ রাখেন, জাতীয় কবির সাহিত্যকর্ম নিয়ে নিয়মিত চর্চা করতে হবে এবং উনার সাহিত্যকর্ম নিজেদের মধ্যে লালন ও ধারণ করতে হবে। এছাড়াও অনেকেই স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন এবং কেউ কেউ নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন।
![]() |
| অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখছেন সংগঠনের সিনিয়র পরিচালক মামুন আব্দুল্লাহ্ |
সভাপতির বক্তব্যে কবি মামুন আব্দুল্লাহ্ অনুষ্ঠানে আগত সকল অতিথিদের শুভেচ্ছা জানান এবং সবার সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত করার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানটির সফল আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়ক সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান।
এপাড় ওপাড় ।। ইউনুছ আকমাল
ওপাড়ে তোমায় পাইনি আমি!
তা'তে আমার কোন দুঃখ নেই।
হাজারো কষ্টে বুকটা ঝাঁঝরা করে
চলে আসলাম এপাড়ে একটু আগেই,
তা'তেও আমার দুঃখ নেই;
এপাড়ে যখন দেখা হবে-
তখন না হয় প্রেম করবো আবারো দু'জন।
এপাড়ে নেই কোন ধনী গরীবের অজুহাত,
কিংবা বর্ণ বৈষম্যের পর্বতসম প্রাচীর;
সবাই একই জাত,একই পথের যাত্রী।
ওপাড়ে যত কষ্ট পেয়েছি জাত পাতের দোহাই দিয়ে,
এপাড়ে নেই কোন দাম্ভিকতা,
নেই তীর্যক আস্ফালন।
আমার আত্মা তখনই একটু শান্ত হবে
যখন তোমার মায়াবী স্পর্শ পাবে।
তুমি আসবে যখন এপাড়ে-
আমার অতৃপ্ত আত্মা তোমার গায়ের গন্ধ শুঁকে শুঁকে
ঠিক বের করে নেবে তোমায়;
দেখে নিও একটুও ভুল হবে না।
আর কেউ বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে না নির্মমতায়,
ভেঙ্গে যাবে ধনী গরীবের সকল প্রাচীর,
ভেঙ্গে যাবে মিথ্যা আভিজাত্যের অট্রালিকা,
থাকবে না কোন বংশ-পদবী।
অপেক্ষায় আছি,থাকবো বছরের পর বছর!
তোমার আগমন ঘটবে যেদিন এপাড়ে,
সেদিনই হবো দু'জন অনন্তকালের সঙ্গী;
স্বর্গসুখের ভেলায় চড়ে দু'জন
মুক্ত বিহঙ্গের মতো করবো বিচরন।।
গাদিশাল,চুনারুঘাট,হবিগঞ্জ।
তারিখঃ ২২-০২-২০১৮ খ্রিঃ
তা'তে আমার কোন দুঃখ নেই।
হাজারো কষ্টে বুকটা ঝাঁঝরা করে
চলে আসলাম এপাড়ে একটু আগেই,
তা'তেও আমার দুঃখ নেই;
এপাড়ে যখন দেখা হবে-
তখন না হয় প্রেম করবো আবারো দু'জন।
এপাড়ে নেই কোন ধনী গরীবের অজুহাত,
কিংবা বর্ণ বৈষম্যের পর্বতসম প্রাচীর;
সবাই একই জাত,একই পথের যাত্রী।
ওপাড়ে যত কষ্ট পেয়েছি জাত পাতের দোহাই দিয়ে,
এপাড়ে নেই কোন দাম্ভিকতা,
নেই তীর্যক আস্ফালন।
আমার আত্মা তখনই একটু শান্ত হবে
যখন তোমার মায়াবী স্পর্শ পাবে।
তুমি আসবে যখন এপাড়ে-
আমার অতৃপ্ত আত্মা তোমার গায়ের গন্ধ শুঁকে শুঁকে
ঠিক বের করে নেবে তোমায়;
দেখে নিও একটুও ভুল হবে না।
আর কেউ বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে না নির্মমতায়,
ভেঙ্গে যাবে ধনী গরীবের সকল প্রাচীর,
ভেঙ্গে যাবে মিথ্যা আভিজাত্যের অট্রালিকা,
থাকবে না কোন বংশ-পদবী।
অপেক্ষায় আছি,থাকবো বছরের পর বছর!
তোমার আগমন ঘটবে যেদিন এপাড়ে,
সেদিনই হবো দু'জন অনন্তকালের সঙ্গী;
স্বর্গসুখের ভেলায় চড়ে দু'জন
মুক্ত বিহঙ্গের মতো করবো বিচরন।।
গাদিশাল,চুনারুঘাট,হবিগঞ্জ।
তারিখঃ ২২-০২-২০১৮ খ্রিঃ
![]() |
| কবি ও সংগঠক ইউনুছ আকমাল |
Friday, June 1, 2018
বাসাসপ কক্সবাজার জেলা শাখার নজরুলের সাহিত্যকর্ম শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার পার্টি সম্পন্ন
"বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিবার (বাসাসপ)" পর্যটন জেলা কক্সবাজারের উদ্যোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম বিষয়ক আলোচনা, ইফতার পার্টি ও মাসিক সাহিত্য আড্ডা মে-২০১৮ চকরিয়া ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কনফারেন্স হলে সম্পন্ন হয়েছে।
বাসাসপ কক্সবাজার জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক কবি তাসকিয়াতুল মোস্তারীর সঞ্চালনায় এবং জেলা কমিটির আহ্বায়ক কবি মিরাজ মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাসাসপ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও কাচালং গ্রুপের চেয়ারম্যান কবি শাহ মোহাম্মদ নিয়ামত উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি নজরুলের সাহিত্যকর্মের উপর প্রধান আলোচকের আলোচনা পেশ করেছেন বাসাসপ কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়ক কবি ও কথাসাহিত্যিক মুহাম্মদ ইয়াকুব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক কবি পরিষদ (আকপ) এর সাধারণ সম্পাদক, কবি ও সংগঠক সাজীব চৌধুরী, চকরিয়া ইন্টাঃ স্কুলের অধ্যক্ষ কুতুব উদ্দিন। অন্যান্যের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন জাতীয় শিশু কিশোর সংগঠন 'ফুলকুঁড়ি আসর' কক্সবাজার জেলা শাখার পরিচালক কবি মোঃ সাদ্দাম হোসেন, গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী ও সংগঠক বোরহান উদ্দিন রব্বানী, অাফসানা জান্নাত প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মীদের আবৃত্তি ও সংগীতে আড্ডাটি প্রাণবন্ত ছিলো।
Subscribe to:
Posts (Atom)

























