Saturday, April 18, 2020

ছড়া: বৈশাখী ঝড় ॥ মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ

বৈশাখী ঝড়
মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ

বৈশাখী ঝড় আসে আকাশ কালো মেঘে,
দমকা বায়ু উতাল পাতাল বয় খুব বেগে।
হেলে দুলে গাছের শাখা ভাঙে মট মট,
ঘরের চাল উড়ে পরে শুকনো গাঙের তট।

বৈশাখী ঝড় আসে মেঘে গুড় গুড় ডাকে,
খোকা বসে কলম দিয়ে ওই সব আঁকে।
ধানের ক্ষেতেও ঝড় বয়ে যায় নষ্ট কুঁড়ি,
ফুল ফসলের ব্যাপক ক্ষতি নেইকো জুড়ি।

বৈশাখী ঝড় আসে প্রতি বছর দেশে,
ধুরু ধুরু মনটা নানা শংকায় ভাসে।
কেটে গেলে ঝড়ো হাওয়া বাংলাদেশে,
প্রকৃতিটা আমাদের ফের উঠবে হেসে।

কবিতা: যদি আবার মানুষ হও ॥ লাভলী ইসলাম

যদি আবার মানুষ হও
লাভলী ইসলাম

বাইরে যাই না নিতে এখন অক্সিজেন 
কোথাও কেউ নেই পথ ঘাট নির্জন 
করোনারা ডেকে করছে ফিঁসফিঁস  
চারিদিকে আছে ছড়িয়ে যেন বিষ।

মানুষ দেখলেই যাই দ্রুত সরে দূরে 
মানবতা মনটাকে খাচ্ছে কুঁড়ে কুঁড়ে 
বিষাক্ত করোনা বলছে কানে কানে 
অনাচার করেছিলে স্রষ্টা তা জানে।

অন্যায়ের দৌড় পাঠিয়েছেন থামাতে
আমরা তাই রাজত্ব করছি এই ধরাতে
খেলা শেষ তোমরা এখন পরাজিত 
যদি আবার মানুষ হয়ে হও অবনত।

চাইলেই তিনি দিবেন দয়া করে মাফ
মুছে যদি পাপ সবাই হৃদয় কর সাফ
হুকুমের গোলাম আমি এসেছি তাই
স্রষ্টার উপর ক্ষমতা আর কারো নাই।

কবিতা: বিলি কাটি দশ আঙ্গুলে ॥ হাসান মাসুদ

বিলি কাটি দশ আঙ্গুলে 
হাসান মাসুদ

বারান্দায় বসে মা ছোট বোনের
মাথায় বিলি কাটছেন;
বিলি কাটা দেখতে দেখতে হঠাৎ মনে হল 
আমরাও তো রোজ বিলি কাটি স্মৃতির অন্ধকারে। 

আমাদের মন ও শরীর থেকে
স্মৃতির আস্তরণ সরাতে সরাতে 
কখন যে ভুলে যাই আমরা কেবল এই পৃথিবীর-ই মানুষ,
আমাদের অন্যকোন অস্তিত্ব নেই। 

কখন যে ভুলে যাই আমাদের 
দ্বিতীয় জন্ম নেই : ছিল না কোনদিন —
তবুও বারবার ভুল প্রেমিকের 
ভুল প্রেমের মত স্মৃতির অন্ধকারে 
সবুজ আলো জ্বালাতে চাই কেন? 

গতকাল রাতে হঠাৎ মনে হল -
মায়ের বিলি কাটার মতই বিলি কেটে কেটে 
তোমাকে আজন্মকাল খুঁজছি দশ আঙ্গুলে।


কবিতা: আত্মসমর্পণ ॥ এম. তামজীদ হোসাইন

আত্মসমর্পণ
এম. তামজীদ হোসাইন
 
দুনিয়া জুড়ে চলছে ভয়াবহ এক আতঙ্ক
করোনা ভাইরাস এখন ঝাঁজাল প্রসঙ্গ 
মৃত্যুর ভয়ে কেঁপে উঠেছে সারা বিশ্ব
মানুষের মন থেকে দূর হয়েছে সমস্ত হর্ষ
শরিআহ মতে বন্ধ হয়েছে মসজিদে নামাজ 
নিরব নিস্তব্ধ ভূমিকা পালন করছে বিশ্ব সমাজ
করোনা সংক্রমণের ভয়ে ধরে না কেউ মানুষের লাশ
ভাইরাস ছড়াবে নাকি নিলে মৃত মানুষের শ্বাস।

হে মালিক, 
প্রতিদিন দেশে দেশে জড়ো হয় হাজার লাশের কফিন
বেপরোয়া মানুষ ভাইরাস ভয়ে মুর্দাকে দেয়না কাফন
হয় না শরিআহ মেনে মুসলিমের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া
সারা বিশ্বজুড়ে চলছে এ কেমন দাফন প্রক্রিয়া

পবিত্র মক্কার মসজিদ আল হারাম 
নবীর শহর মদিনার মসজিদে নববী
পবিত্র দুই নগরীর সমস্ত মসজিদে জামাত নিষিদ্ধ 
শরিআহ মোতাবেক নাকি এই ঘোষণা বিশুদ্ধ
সৌদি সরকারের নির্দেশে হয়েছে কাবা তাওয়াফ বন্ধ
অথচ তোমার নির্দেশে আবাবিল পাখিরা করেনি তাওয়াফ বন্ধ 
সারা বিশ্বের আলেমেরা এই সিদ্ধান্তকে জানালো সম্মতি
মায়ার নবী কিয়ামতের দিন সিজদায় পড়ে কাঁদবে বলে উম্মতি
মসজিদ আল হারামের ইমাম নামাজে হয়েছে কান্না বিজড়িত
কেউ কেউ বলছে করোনার পেছনে নাকি চীন জড়িত

হে সর্বজ্ঞময়,
তোমার ইশারায় আমাজন, ইয়াঙজি আর মিশরের নীলনদ বহমান
তুমিই তো এই সৃষ্টি জগতের সমস্ত কিছুর মাঝে রহিম-রহমান
হে পরম করুণাময়,
সীমালঙ্ঘনকারীরে লোহিত সাগরে-
মারিতে পারো যদি তুমি চাও
তোমার পাপী বান্দা মোরা,-
মোদের করোনা থেকে মুক্তি দাও।

Wednesday, April 15, 2020

কবিতা: অসংস্কৃত ও আদিম ॥ সাইফুর রাব্বি

অসংস্কৃত ও আদিম 
সাইফুর রাব্বি

তোমরা ছিলে বর্বর; 
ছিলে সভ্যতা ধ্বংস করতে উন্মুখ একটি গোষ্ঠী 
সজীব প্রকৃতি; বৃক্ষ তরুলতা আর 
আমার মিষ্টি বাতাস কে করেছো গ্রাস।  
উদ্যানে ফুটিয়েছো কালো গোলাপ আর কি বিষাক্ত সব বৃক্ষ! 
যা থেকে কালো বাতাস, কালো নির্যাস বের হয় অবিরত।

তোমরা ছিলে অসংস্কৃত, 
অপসংস্কৃতি আর অপ-চেতনা গ্রাস করেছিলো তোমাদের,  
তোমাদের ছিলো না সাহিত্য-শিল্পকলা
অথচ, আমার শিল্পকলাকে লুট করেছিলে।
কি সব উদ্ভট উদ্ভট সাহিত্য তোমাদের
কল্যাণমুখি না হয়ে হয়েছিলো ব্যক্তিমুখি
তোমাদের চেতনার শিরা উপশিরাগুলো নষ্ট হয়েছিলো বিষাক্ত সব শিল্পকলার বাতাসে।

তোমরা ছিলে আদিম,
মানে মস্তিস্ক ও চেতনায় আদিম; 
তোমরা ভোগবাদ মানতে; স্বার্থবাদ মানতে 
মানতে অন্ধত্বের সব তত্ব; 
শিশুদের আমসিপাড়া শেখাতে বাঙলা শেখানোর আগে।
তোমরা মানতে বিশ্বাসের জোর; তোমরা মানতে পূর্ব পুরুষদের অন্ধত্বের সব থিউরি পত্র, 
যা চলতো না শিল্পকলার সমাজে!  

তোমরা অসংস্কৃত ও আদিম; ছিলে বনে বাদাড়ে ঘুরেফেরা লোক
তোমাদের ড্রেন থেকে আসতো দূর্গন্ধ,  
আর আমাদের ড্রেন থেকে আসে পরিবর্তনের ইঙ্গিত 
তোমরা ছিলে আদিম, তোমরা ছিলে অসংস্কৃত!


কবিতা: দাও সুপথের দিশা ॥ শেখ বিপ্লব হোসেন

দাও সুপথের দিশা
শেখ বিপ্লব হোসেন

মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না আর
দমকা হওয়ার বেগে অবিরত চলছেই,
কোথাও আলো নেই, কেউ আজ ভালো নেই। 
ধূসর দেখি চারদিক। দু'চোখে ঘোর অমানিশা। 
অভুক্ত কত অসহায় মানুষ আজ পড়ে আছে
রাস্তার অলিগলিতে।

কত অসুস্থ মানুষ মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরায়,
তবুও আমাদের বিবেকদ্বার উন্মোচন হয় না।
কোভিড-১৯ যেন এক অদেখা যমদূত 
দিবানিশি তাড়া করে ফেরে,
এ আমাদেরই কর্ম ফল;
মুক্তির কাঙ্গাল আজ সব পাপী-তাপি।

হে প্রভু ! হে আরশের মালিক! হে দয়াময়!
করো তুমি মাফ, আমাদের যত অপরাধ! 
দাও আমাদের সুপথের দিশা! এ জীর্ণ পৃথিবী
আবার করো সুশীতল এ আমাদের প্রার্থনা!

Sunday, March 1, 2020

Thursday, January 16, 2020

Saturday, May 25, 2019

চট্টগ্রামে জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ১২০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

২৫মে, শনিবার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মূলধারার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন "আমাদের গল্পকথা"র চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি এবং "বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিবার (বাসাসপ)"র চট্টগ্রাম মহানগরী শাখার যৌথ উদ্যোগে "জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম বিষয়ক আলোচনা, ইফতার এবং সাহিত্য আড্ডা" সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর কলেজ অডিটোরিয়ামে বিকেল চারটায় বাসাসপ চট্টগ্রাম মহানগরী শাখার পরিচালক কবি প্রভাষক শ্রাবন্তী বড়ুয়ার সঞ্চালনায় এবং "আমাদের গল্পকথা" চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সমন্বয়ক সাহিত্য ও সমাজকর্মী আবু নোমান মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নজরুল সাহিত্যের উপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রাখেন বাসাসপ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কবি ও কথাশিল্পী মুহাম্মদ ইয়াকুব, আমাদের গল্পকথা'র সিনিয়র কেন্দ্রীয় পরিচালক কবি মাসুদ পারভেজ এবং বাসাসপ কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক (সংগঠন) আবৃত্তিকার কামাল উদ্দিন জিকু।

অনুষ্ঠানে বক্তারা নজরুলকে সাম্যবাদ ও অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখপূর্বক সর্বত্র নজরুল চর্চার দাবি জানান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনা ও আবৃত্তি করেন আমাদের গল্পকথা চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির পরিচালক কবি তানভীর শিকদার, কবি নেজাত শেখ, কবি মিজান ফারাবী, কবি আবদুল্লাহ ফারুক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত দুই সংগঠনের কবি ও লেখকদের একাংশ

Tuesday, April 2, 2019

হঠাৎ মেঘ ।। জিয়াউর রহমান

গোধূলি লগ্ন ঘনিয়ে এলো প্রকৃতির আকাশ ছুঁয়ে
গুমোট বাতাসে গুড়গুড় মেঘ দিচ্ছে প্রকৃতি ধুঁয়ে।
মাঝে মাঝে দমকা হাওয়ায় শিরশির করে দেহ
তপ্ত বায়ু মেঘ এনেছে জানতে পারেনি কেহ।

হঠাৎ করে ধুলোঝড় এলো সারা আকাশ জুড়ে
জানালা দরজা আছড়ে পড়ে ভাঙে গরীবের কুঁড়ে।
গোধূলির মেঘ সরে গিয়েই বৃষ্টির মেঘ এলো
বজ্রনিনাদে হুংকার এসে প্রকৃতি শাসিয়ে গেল।

একটানা মেঘ বারী দিয়েই শান্ত করলো ধরা
উদাসী সন্ধ্যের মোহনীয় মেম একে দিয়ে গেল খরা!
শান্ত ধরা'য় অশান্ত মন পিছন ফিরে চাই
প্রকৃতির বুকে ভিন্নতার মাঝে শান্তি খুঁজে যাই।

রুদ্ররূপে যে মেঘ আসে বারীও ঢেলে দেয় সেই
একই আকাশ ফুটো হলেও তারা'রা হারায়না খেই।
প্রকৃতির কাছে আদর আছে শাসনেও সে কম নয়
মানুষের কাছে কি আর আছে অহংকারে বুঁদ হয়?

ভাবতে বসে একা লাগে প্রকৃতি চেয়ে দেখি
জীবন ধারণে আমিত্ব নয় মহত্ত্বের কথা লেখি।
সর্বজ্ঞানী মহান যিনি বানিয়েছেন এই ধরা
ফেরার জন্য তৈরী হওয়া আমাদের সবার ত্বরা।
..........................
শেওড়াপাড়া, ঢাকা।
কবি জিয়াউর রহমান 

আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।। মাসুদ পারভেজ

আমার জ্ঞান উত্কর্ষতা এতোই বিস্তৃত আমি স্রষ্টাকে খুঁজে পাই না,
হে জ্ঞান আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
আমার প্রখর দৃষ্টি অভেদ্য অসুন্দরের পূজার পূজারি করেছে নিজেকে,
হে দৃষ্টি আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
আমার প্রযুক্তি সবুজ প্রকৃতি বিনষ্ট করে অট্টালিকার আকাশে ছাদ করেছে,
হে প্রকৃতি আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
আমার ক্ষমতা আমাকে আলাদা করে করেছে মানুষ নামের প্রাণী থেকে,
হে সময় আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
আমার শিক্ষা মানবতার উল্টো পিটে চড়া ব্যবসার মালিকানা দিয়েছে,
হে শিক্ষা আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
আমার আদর্শ ভুল চেতনার উত্তরাধিকারের মশাল দিয়েছে হাতে,
হে পথ আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
আমার বিশ্বাস আমাকে মানিয়ে নিয়েছে আমিত্বের সর্বোচ্চ শিখরে,
হে বিশ্বাস আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
হে বিবেক আমাকে তুচ্ছ হতে শেখাও প্রতিটি বিমুগ্ধ মুহূর্ত হতে,
হে তুচ্ছ বিবেককে জাগ্রত করে দাও।
কবি ও সংগঠক মাসুদ পারভেজ

নারী ।। খাদিজা বেগম কান্তা

নও তুমি শুধু কামনার ফুল
নও তুমি তৃষ্ণার্ত ভ্রমরের বোল
নও তুমি শিহরিত মানস প্রিয়া
তুমি আজ বিমূর্ত মানবের কূল।

বিজন নিশীথে কাঁদবেনা আর
প্রজ্বলিত হও দহনে দূর্বার
তুমি শক্তি, তুমি শৌর্য তুমি বিমুক্ত অপার
জাগ নারী কম্পিত বজ্র নিনাদ।

নিজ মহিমায় প্রজ্বলিত তুমি
ধর কাণ্ডারি অশ্রু বিদায়ী
নও তুমি সামগ্রী নিঠুর পণ্য
দানবের তরে হও বজ্র কণ্ঠি।

অভিন্ন চারণে হও আগুয়ান
নও তুমি নারী শুধু হও গো মহান
মানবের তরে হও মাতৃ জায়া
বিদুষী, হরষে রাখি সঞ্চিত মায়া।

অদৃশ্য কারাগার শৃঙ্খলিত বেড়ী
গুড়িয়ে দাও নির্ভয়ে জড়তা ছাড়ি
সাম্যের জয়গানে হও গো সামিল
ঘরে বাহিরে হও মহীয়সী নারী।।
কবি খাদিজা বেগম কান্তা

সুখ পাখি ।। সাজিয়া আফরিন

সুখ পাখি তুই এতই উড়িস!
ধার দিবি তোর ডানা দু’টো?
ইচ্ছে মত উড়বো আমি,
ফেরত দেবো দু’দিন পরে।

আকাশ জুড়ে উড়বো আর
বলবো আমি সাত সতেরো
গপ্পো তোদের
সুখ পাখি, দিবি নাকি
তোর ডানা দু’টো?
আয়েশ করে তোকে বসতে দেবো
উষ্ণ নরম আসন দেবো
যা খেতে চাস খেতে দেবো
মিষ্টি মধুর ভরে আমার দু’মুঠো
ধার দিবি তোর ডানা দু’টো?

হরেক মনের খবর এনে দেবো
দে না ভাই তোর ডানা দু’টো!
তোকে আমি স্বপ্ন দেবো,
স্বপ্ন রঙিন পরিসর দেবো
ভালোবাসার কবিতা দেবো
উপমা-অনুপ্রাস উৎপ্রেক্ষা দেবো
তাল, লয়, ছন্দ দেবো, গানও দেবো ।

যা গানের সাথে সুরও দেবো
এবার দে তোর ডানা দু’টো।
কবি সাজিয়া আফরিন
সম্পাদক, আকাশছোঁয়া।

Monday, April 1, 2019

আগুন শহর ।। রফিকুল নাজিম

আগুন শহর
রফিকুল নাজিম

আগুন নিয়ে খেলছি আমরা -আগুন আগুন খেলা
আগুন হাতে হাঁটছে আমরা-রাস্তা থেকে অলিগলি,
আগুন পাখি উড়ছে একাই শহর থেকে শহরতলি
মরছে মানুষ ধুকছে মানুষ- লাশের মিছিল গলাগলি!

আগুন হাতে খেলছি আমরা -আগুন আগুন খেলা
বুক পকেটে আগুন পাখি-বুকের ভিতর পুষে রাখি,
জ্বলছে আগুন জ্বলবে আগুন-পুড়বে শহর বাগান
আগুন রঙে তুলির ঢঙে আগুন লাশের ছবি আঁকি।

আগুন হাতে দিনেরাতে ঘুরছি পার্কে সেমিনারে
আগুন বিছানায় আরামসে শুয়ে ঘুমায় ভাত ঘুম
আগুনের কোলে পড়ছে ঢলে,মেনে নেয় হত্যারে
আগুনের বুকে কী মহাসুখে-শীতল মৃত্যুর চুম!

আগুন চোখে দেখছি আমরা-আগুন আগুন খেলা
আগুন পানি পিপাসায় জানি-মানুষের তেষ্টা মিটায়!
আগুন মিটিং আগুন মিছিল আগুন শ্লোগান গলায়
লালফিতার তদন্ত কমিটির ফাইলে আগুন ঘুমায়।

আগুন দেখো পুরান ঢাকা নিমতলী আর চুড়িহাট্টা
আগুন দেখো বনানী আজ-আহা আগুন খেলা!
আগুন সঙ্গমে আগুনই জন্মে-আগুন আগুন ঠাট্টা
আগুন শহরে পুড়েছে বোধ-পুড়ছে প্রাণের মেলা!
___________________________________________
তারিখঃ ২৯ মার্চ,২০১৯.
উত্তর বাজার
চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ।
কবি রফিকুল নাজিম।
                                     

Monday, July 30, 2018

সব তোমারি জন্য ।। কুমকুম খাতুন

যেদিন অচেনা গন্তব্যে নির্জন পথে একা নিশীথে,
পথ চলেছিলাম আমি,
বারবার সে অন্ধকারাচ্ছন্ন পথে বৃক্ষরাজির সাথে
মাথা ঠুকতে ঠুকতে পথ এগুচ্ছিলাম
ঠিক সে সময়-ই তুমি এসে হাত ধরে বললে
চলো কিছুটা পথ এগিয়ে দেই তোমায়।
আর তখনি ঘনানো অন্ধকার কেটে
আলোকময় হলো ধরা..
মন থেকে মুছে গেলো সব সংশয়,
শুধুই তোমাকে কাছে পেয়ে।

জোনাকপোকাদের কানে ফিসফিস করে বললাম-
তোমরা কি পারোনা আমার প্রিয় ও আমার
চলার পথ আলোকিত করতে?
জোনাকপোকারা বলতে লাগলো আরে বন্ধু কুমু!
কোথা থেকে এলে তুমি?
কতদিন তোমায় দেখিনা..
আর কিছু বলে ওঠার আগেই
 জ্বলজ্বল আলোয় জ্বালিয়ে দিলো ধরা।
সবকিছুই তো তোমারি জন্যে।

ক্ষণ পরে চাঁদ ও এসে বলতে লাগলো বন্ধু,
প্রিয়কে নিয়ে এসেছো?
রাতের আঁধারে আলোকিত উন্মুক্ত পৃথিবী
শুধুই তোমার প্রিয়'র জন্যে।
ভাবতে কি কখনও চাঁদও হয়ে যাবে এতোটা আপন?
তুমি এসে হাতে হাত ধরলে-
স্নিগ্ধ শীতল হাওয়া ছুঁয়ে গেলো দু'জনের শরীর।
সব তোমারি জন্য...
শুধুই তোমারি জন্য।
ভোরের পাখিরাও গুঞ্জন শুরু করলো,
আরো মধুর সুরে শুধু তুমি আমার প্রিয় বলে।
সূর্যটা আরো রক্তিম আভায় উদয় হলো।
ভালোবাসার রং তো সব সময় লাল হয় তাইনা?
তাই তো সূর্যটাও আমাদের এ ভালোবাসাকে
সাদরে গ্রহণ করে রাঙ্গালো তার শরীর।
সবটাই তোমারি জন্য,
শুধুই তোমারি জন্য।
খরতপ্ত দুপুর তার তপ্ততা কমিয়ে শীতল করলো পৃথিবীকে।
তুমি আমার প্রিয় বলেই স্রোতস্বিনী নদী
ঝিলমিল বেগে বয়ে চলে।
সন্ধ্যাতারা জ্বলে জ্বলে শুধু তোমার কথাই বলে-
যেন কখনও কোনো কষ্ট না দেই তোমায়।
সব তো তোমারি জন্য, শুধুই তোমারি জন্য।
কবি কুমকুম খাতুন

Sunday, July 29, 2018

বিষাক্ত খঞ্জর ।। ইউনুছ আকমাল

আজন্ম হেঁটেছি যে পথ ধরে নির্ভয়ে,
যে পথের প্রতিটি বালিকণা গায়ে মাখতাম,
কিংবা লকলকে সবুজাভ দূর্বাঘাসের
চিকচিক করা শিশির পায়ে যেতো ল্যাপ্টে,
সবই তো ছিল অতি আপন;
সে পথ আজ অজানা অচেনা,
সেখানে আজ হিংস্র হায়নাদের অভয়ারন্য,
বিষধর সাপগুলো ফনা তুলে বসে আছে
ছোবল দেবার অপেক্ষায়।

চেনা পথই আজ অচেনা,
পরিচিত মানুষগুলোও মানুষের কাতারে নেই!
সবকিছুই হয়ে গিয়েছে বিপদসংকুল ;
এখন এ পথে পা বাড়াতেও ভয় লাগে,
মানুষের সাথে কথা বলতেও বুক কাঁপে!
সংকিত থাকি সর্বদা---
অযাচিত কোন জঞ্জাল কিংবা বিপদের আশঙ্কায়।

অনেক হয়েছে ছলনা আর প্রতারনার খেলা,
অনেক হয়েছে মিথ্যা অভিনয় রঙ মঞ্চে।
এখানে চলে শুভ্র বুকে বিষাক্ত খঞ্জর
আর্তচিৎকার শুনে কেউ আসে না,
রক্তে রঞ্জিত ক্ষত বিক্ষত নিথর দেহ পড়ে থাকে;
কেউ করে না প্রতিবাদ,
প্রতিবাদী কণ্ঠ আজ কারারুদ্ধ,
পর্দার আড়াল রচিত হচ্ছে বিনাশী চিত্রনাট্য।

বিহগলে বাজছে করুন সুর,
ধুঁকে ধুঁকে কাঁদছে বঙ্গ জননী আমার!
খঞ্জরের আঘাতে রাজপথ রক্তে রঞ্জিত,
হোক কোন দুঃখ নেই,আসবো ফিরে বারবার
বঙ্গ জননীর নারিছেড়া সন্তান হারানোর কান্নার প্রতিটি ফুটায়
জন্ম নিতেই থাকবো আমি শত সহস্রবার,
এবং তা' চলতেই থাকবে বিরামহীন,অনন্তকাল।।
কবি ও সংগঠক ইউনুছ আকমাল

আমার এক জীবনের গল্প ।। মাসুদ পারভেজ

তোমার শুনতে না চাওয়া একটি রাতের গল্প,
চাঁদ তারা আকাশ;
বেসুরে জ্বলতে থাকা জোনাকির কষ্ট ।
হাজার বছরে খুঁজে নেওয়া পথ হারিয়ে যাওয়ার ঠিকানা,
আবেগের সীমানার দেয়াল পেরিয়ে অর্থহীন জীবনের সূচনা।
আমার এক জীবনের গল্প ।।

তোমার সহজে ভুলে যাওয়া একটি রাতের গল্প,
পরিচয় প্রণয় প্রেম;
বেঘোরে ডুবতে থাকা হৃদয়ের কষ্ট।
অনিচ্ছার মিছিলে তেড়ে আসা ভুলগুলোর ভুল আরাধনা,
ব্যবধানের সুতো মেপে মেপে দিনক্ষণ গুনে রাখার যাতনা ।
আমার এক জীবনের গল্প ।।

তোমার সহজে মুছে দেওয়া একটি রাতের গল্প,
ডায়েরি চিঠি চিরকুট,
ধুলো পরা ছেঁড়া পুরানো কথার কষ্ট।
পাতায় পাতায় স্মৃতির বুনন বেশ রিষ্টপুষ্ট হৃদয়ের চারিপাশ,
সোনালি গোধূলি শুরু করে দেয় আঁধারের মাঝে রাতের বাস।
আমার এক জীবনের গল্প।।

তোমার একটু ফিরে না চাওয়া একটি রাতের গল্প।
দিন রাত সারাবেলা;
অনেকদিনের না লিখা এক কবিতার কষ্ট।
অভিমানী শব্দগুচ্ছ আর কখনোই সুর হয়ে ওঠেনি কারো ঠোঁটে ,
বেলা অবেলার স্বপ্নগুলো পথ পেরিয়ে কখন যেন অন্য বাগানে ফোটে।
আমার এক জীবনের গল্প।।
কবি ও সংগঠক মাসুদ পারভেজ