Monday, April 20, 2020

কবিতা: উঠোন ॥ মিলন ইমদাদুল

উঠোন 
মিলন ইমদাদুল

কতোদিন প্রেমচাষ করিনা মনের উঠোনে —
উঠোনটি ধূলোমাখা শরীরে পরে আছে একা!
তার দিকে তাকালে বড্ড মায়া হয়!
যেন সে কতো জনমের চেনা,কতো আপন!
অথচ এই মায়া ভুলে আমরা পরে থাকি নিঃসঙ্গ! 

শহুরে মাটি ঘুরে ঘুরে ভুলে থাকি আপন চাঁদ 
আসলে শহরে ভালোবাসা নেই; শুধুই বামহাত!


Sunday, April 19, 2020

কবিতা: ত্যাগেই বিস্তৃত সুখের মায়াজাল ॥ শাহীন চৌধুরী ডলি

ত্যাগেই বিস্তৃত সুখের মায়াজাল
শাহীন চৌধুরী ডলি 

দিনবদলের নতুন প্রভাত নিয়েছি আলিঙ্গনে 
পৃথিবী থেকে মুছে দেবো অকল্যাণের থাবা 
বাতাসে মিশে থাকা গুমোট নিশ্বাস,
পেছনে ফেলে দূঃসময়ের কালো ছাপ 
সম্পর্কের দ্যুতি ছড়িয়ে ঘুচাবো অনাস্থার দীর্ঘশ্বাস।

পশ্চাদপদ সামাজিক ভাবনা আস্তাকুড়ে ফেলে
পদার্পণ করি সচল জীবনের যুগে 
উদগ্রীব কামনার মেরুদণ্ডে মরণকামড় বসিয়ে 
সম্মিলিত এগিয়ে চলি বুদ্ধিবৃত্তিক দ্বৈরথে
ইতিহাসের দীর্ঘ পটভূমি পর্যবেক্ষণে। 

মানসপটে ভাসে স্বাধীনতার স্থপতি মুজিবের মুখ 
কর্ণকুহরে বাজে ক্ষুব্ধকণ্ঠের বেদনাহত আক্ষেপ 
বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, তিনি পেয়েছেন চোরের খনি।
স্বাধীনতার আসন্ন অর্ধশত বছর পরেও কি 
অপবাদ ঘুচানোর প্রহর আসেনি? 

জনগণের সেবার প্রত্যয় যিনি স্কন্ধে নেন
কর্মে পূজনীয় তিনি পরম মানবহিতৈষী 
পুনরাবৃত্তি নয় অন্যের হক চুরি,অসভ্য সিনাজুরি 
করোনা কাল প্রমাণের উপযুক্ত মহাকাল 
ভোগে নয় ত্যাগেই বিস্তৃত সুখের মায়াজাল।

কবিতা: ফুল সজ্জায় ॥ শাহীনুল ইসলাম

ফুল সজ্জায়
শাহীনুল ইসলাম 

রাত্রি চমৎকার নিভুনিভু তারা
নগ্ন হাসিতে ভরপুর পান্ডুর চাঁদ
জানালায় এলোমেলো স্পর্শ তোমার।

এখনো রাত্রির কোলাহল থামেনি
বিহগেরা ডাকেনি রূপসীর সকাল 
উলঙ্গ প্রেমের সুগন্ধ ভাসছে আকাশে।

চঞ্চল চুমুর পরশে মুঠো ভর্তি প্রেম
সে যেন ঠোঁটের বিরক্তির আকর্ষণ 
আমি উন্মাদ প্রার্থনায় রাত্রি ফুল সজ্জায়।

ছড়া: ভালো নেই ॥ শেখ একেএম জাকারিয়া

ভালো নেই
শেখ একেএম জাকারিয়া


ভালো নেই মানুষেরা
ভালো নেই মন,
ভালো নেই ফুল-পাখি
ভালো নেই বন।

ভালো নেই মাঠঘাট
ভালো নেই হাট,
ভালো নেই  শিশুমন
ভালো নেই পাঠ।

ভালো নেই খাল-নদী
ভালো নেই ক্ষেত,
ভালো নেই লতা-পাতা
ভালো নেই বেত।

ভালো নেই গল্পরা
ভালো নেই ছড়া,
ভালো নেই গাছপালা
ভালো নেই কড়া।

ভালো নেই নীলাকাশ
ভালো নেই তারা,
ভালো নেই গাঁ-শহর
ভালো নেই পাড়া।

ভালো নেই প্রকৃতি
ভালো নেই দেশ,
ভালো নেই জীবকুল
ভালো নেই, বেশ।

ভালো নেই পৃথিবীটা
যায় ক্ষয়ে ক্ষয়ে,
ভালো নেই কোনো কিছু
করোনার ভয়ে!




Saturday, April 18, 2020

ছড়া: বৈশাখী ঝড় ॥ মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ

বৈশাখী ঝড়
মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ

বৈশাখী ঝড় আসে আকাশ কালো মেঘে,
দমকা বায়ু উতাল পাতাল বয় খুব বেগে।
হেলে দুলে গাছের শাখা ভাঙে মট মট,
ঘরের চাল উড়ে পরে শুকনো গাঙের তট।

বৈশাখী ঝড় আসে মেঘে গুড় গুড় ডাকে,
খোকা বসে কলম দিয়ে ওই সব আঁকে।
ধানের ক্ষেতেও ঝড় বয়ে যায় নষ্ট কুঁড়ি,
ফুল ফসলের ব্যাপক ক্ষতি নেইকো জুড়ি।

বৈশাখী ঝড় আসে প্রতি বছর দেশে,
ধুরু ধুরু মনটা নানা শংকায় ভাসে।
কেটে গেলে ঝড়ো হাওয়া বাংলাদেশে,
প্রকৃতিটা আমাদের ফের উঠবে হেসে।

কবিতা: যদি আবার মানুষ হও ॥ লাভলী ইসলাম

যদি আবার মানুষ হও
লাভলী ইসলাম

বাইরে যাই না নিতে এখন অক্সিজেন 
কোথাও কেউ নেই পথ ঘাট নির্জন 
করোনারা ডেকে করছে ফিঁসফিঁস  
চারিদিকে আছে ছড়িয়ে যেন বিষ।

মানুষ দেখলেই যাই দ্রুত সরে দূরে 
মানবতা মনটাকে খাচ্ছে কুঁড়ে কুঁড়ে 
বিষাক্ত করোনা বলছে কানে কানে 
অনাচার করেছিলে স্রষ্টা তা জানে।

অন্যায়ের দৌড় পাঠিয়েছেন থামাতে
আমরা তাই রাজত্ব করছি এই ধরাতে
খেলা শেষ তোমরা এখন পরাজিত 
যদি আবার মানুষ হয়ে হও অবনত।

চাইলেই তিনি দিবেন দয়া করে মাফ
মুছে যদি পাপ সবাই হৃদয় কর সাফ
হুকুমের গোলাম আমি এসেছি তাই
স্রষ্টার উপর ক্ষমতা আর কারো নাই।

কবিতা: বিলি কাটি দশ আঙ্গুলে ॥ হাসান মাসুদ

বিলি কাটি দশ আঙ্গুলে 
হাসান মাসুদ

বারান্দায় বসে মা ছোট বোনের
মাথায় বিলি কাটছেন;
বিলি কাটা দেখতে দেখতে হঠাৎ মনে হল 
আমরাও তো রোজ বিলি কাটি স্মৃতির অন্ধকারে। 

আমাদের মন ও শরীর থেকে
স্মৃতির আস্তরণ সরাতে সরাতে 
কখন যে ভুলে যাই আমরা কেবল এই পৃথিবীর-ই মানুষ,
আমাদের অন্যকোন অস্তিত্ব নেই। 

কখন যে ভুলে যাই আমাদের 
দ্বিতীয় জন্ম নেই : ছিল না কোনদিন —
তবুও বারবার ভুল প্রেমিকের 
ভুল প্রেমের মত স্মৃতির অন্ধকারে 
সবুজ আলো জ্বালাতে চাই কেন? 

গতকাল রাতে হঠাৎ মনে হল -
মায়ের বিলি কাটার মতই বিলি কেটে কেটে 
তোমাকে আজন্মকাল খুঁজছি দশ আঙ্গুলে।


কবিতা: আত্মসমর্পণ ॥ এম. তামজীদ হোসাইন

আত্মসমর্পণ
এম. তামজীদ হোসাইন
 
দুনিয়া জুড়ে চলছে ভয়াবহ এক আতঙ্ক
করোনা ভাইরাস এখন ঝাঁজাল প্রসঙ্গ 
মৃত্যুর ভয়ে কেঁপে উঠেছে সারা বিশ্ব
মানুষের মন থেকে দূর হয়েছে সমস্ত হর্ষ
শরিআহ মতে বন্ধ হয়েছে মসজিদে নামাজ 
নিরব নিস্তব্ধ ভূমিকা পালন করছে বিশ্ব সমাজ
করোনা সংক্রমণের ভয়ে ধরে না কেউ মানুষের লাশ
ভাইরাস ছড়াবে নাকি নিলে মৃত মানুষের শ্বাস।

হে মালিক, 
প্রতিদিন দেশে দেশে জড়ো হয় হাজার লাশের কফিন
বেপরোয়া মানুষ ভাইরাস ভয়ে মুর্দাকে দেয়না কাফন
হয় না শরিআহ মেনে মুসলিমের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া
সারা বিশ্বজুড়ে চলছে এ কেমন দাফন প্রক্রিয়া

পবিত্র মক্কার মসজিদ আল হারাম 
নবীর শহর মদিনার মসজিদে নববী
পবিত্র দুই নগরীর সমস্ত মসজিদে জামাত নিষিদ্ধ 
শরিআহ মোতাবেক নাকি এই ঘোষণা বিশুদ্ধ
সৌদি সরকারের নির্দেশে হয়েছে কাবা তাওয়াফ বন্ধ
অথচ তোমার নির্দেশে আবাবিল পাখিরা করেনি তাওয়াফ বন্ধ 
সারা বিশ্বের আলেমেরা এই সিদ্ধান্তকে জানালো সম্মতি
মায়ার নবী কিয়ামতের দিন সিজদায় পড়ে কাঁদবে বলে উম্মতি
মসজিদ আল হারামের ইমাম নামাজে হয়েছে কান্না বিজড়িত
কেউ কেউ বলছে করোনার পেছনে নাকি চীন জড়িত

হে সর্বজ্ঞময়,
তোমার ইশারায় আমাজন, ইয়াঙজি আর মিশরের নীলনদ বহমান
তুমিই তো এই সৃষ্টি জগতের সমস্ত কিছুর মাঝে রহিম-রহমান
হে পরম করুণাময়,
সীমালঙ্ঘনকারীরে লোহিত সাগরে-
মারিতে পারো যদি তুমি চাও
তোমার পাপী বান্দা মোরা,-
মোদের করোনা থেকে মুক্তি দাও।

Wednesday, April 15, 2020

কবিতা: অসংস্কৃত ও আদিম ॥ সাইফুর রাব্বি

অসংস্কৃত ও আদিম 
সাইফুর রাব্বি

তোমরা ছিলে বর্বর; 
ছিলে সভ্যতা ধ্বংস করতে উন্মুখ একটি গোষ্ঠী 
সজীব প্রকৃতি; বৃক্ষ তরুলতা আর 
আমার মিষ্টি বাতাস কে করেছো গ্রাস।  
উদ্যানে ফুটিয়েছো কালো গোলাপ আর কি বিষাক্ত সব বৃক্ষ! 
যা থেকে কালো বাতাস, কালো নির্যাস বের হয় অবিরত।

তোমরা ছিলে অসংস্কৃত, 
অপসংস্কৃতি আর অপ-চেতনা গ্রাস করেছিলো তোমাদের,  
তোমাদের ছিলো না সাহিত্য-শিল্পকলা
অথচ, আমার শিল্পকলাকে লুট করেছিলে।
কি সব উদ্ভট উদ্ভট সাহিত্য তোমাদের
কল্যাণমুখি না হয়ে হয়েছিলো ব্যক্তিমুখি
তোমাদের চেতনার শিরা উপশিরাগুলো নষ্ট হয়েছিলো বিষাক্ত সব শিল্পকলার বাতাসে।

তোমরা ছিলে আদিম,
মানে মস্তিস্ক ও চেতনায় আদিম; 
তোমরা ভোগবাদ মানতে; স্বার্থবাদ মানতে 
মানতে অন্ধত্বের সব তত্ব; 
শিশুদের আমসিপাড়া শেখাতে বাঙলা শেখানোর আগে।
তোমরা মানতে বিশ্বাসের জোর; তোমরা মানতে পূর্ব পুরুষদের অন্ধত্বের সব থিউরি পত্র, 
যা চলতো না শিল্পকলার সমাজে!  

তোমরা অসংস্কৃত ও আদিম; ছিলে বনে বাদাড়ে ঘুরেফেরা লোক
তোমাদের ড্রেন থেকে আসতো দূর্গন্ধ,  
আর আমাদের ড্রেন থেকে আসে পরিবর্তনের ইঙ্গিত 
তোমরা ছিলে আদিম, তোমরা ছিলে অসংস্কৃত!


কবিতা: দাও সুপথের দিশা ॥ শেখ বিপ্লব হোসেন

দাও সুপথের দিশা
শেখ বিপ্লব হোসেন

মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না আর
দমকা হওয়ার বেগে অবিরত চলছেই,
কোথাও আলো নেই, কেউ আজ ভালো নেই। 
ধূসর দেখি চারদিক। দু'চোখে ঘোর অমানিশা। 
অভুক্ত কত অসহায় মানুষ আজ পড়ে আছে
রাস্তার অলিগলিতে।

কত অসুস্থ মানুষ মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরায়,
তবুও আমাদের বিবেকদ্বার উন্মোচন হয় না।
কোভিড-১৯ যেন এক অদেখা যমদূত 
দিবানিশি তাড়া করে ফেরে,
এ আমাদেরই কর্ম ফল;
মুক্তির কাঙ্গাল আজ সব পাপী-তাপি।

হে প্রভু ! হে আরশের মালিক! হে দয়াময়!
করো তুমি মাফ, আমাদের যত অপরাধ! 
দাও আমাদের সুপথের দিশা! এ জীর্ণ পৃথিবী
আবার করো সুশীতল এ আমাদের প্রার্থনা!

Sunday, March 1, 2020

Thursday, January 16, 2020

Saturday, May 25, 2019

চট্টগ্রামে জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ১২০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

২৫মে, শনিবার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মূলধারার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন "আমাদের গল্পকথা"র চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি এবং "বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিবার (বাসাসপ)"র চট্টগ্রাম মহানগরী শাখার যৌথ উদ্যোগে "জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম বিষয়ক আলোচনা, ইফতার এবং সাহিত্য আড্ডা" সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর কলেজ অডিটোরিয়ামে বিকেল চারটায় বাসাসপ চট্টগ্রাম মহানগরী শাখার পরিচালক কবি প্রভাষক শ্রাবন্তী বড়ুয়ার সঞ্চালনায় এবং "আমাদের গল্পকথা" চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সমন্বয়ক সাহিত্য ও সমাজকর্মী আবু নোমান মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নজরুল সাহিত্যের উপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রাখেন বাসাসপ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কবি ও কথাশিল্পী মুহাম্মদ ইয়াকুব, আমাদের গল্পকথা'র সিনিয়র কেন্দ্রীয় পরিচালক কবি মাসুদ পারভেজ এবং বাসাসপ কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক (সংগঠন) আবৃত্তিকার কামাল উদ্দিন জিকু।

অনুষ্ঠানে বক্তারা নজরুলকে সাম্যবাদ ও অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখপূর্বক সর্বত্র নজরুল চর্চার দাবি জানান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনা ও আবৃত্তি করেন আমাদের গল্পকথা চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির পরিচালক কবি তানভীর শিকদার, কবি নেজাত শেখ, কবি মিজান ফারাবী, কবি আবদুল্লাহ ফারুক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত দুই সংগঠনের কবি ও লেখকদের একাংশ

Tuesday, April 2, 2019

হঠাৎ মেঘ ।। জিয়াউর রহমান

গোধূলি লগ্ন ঘনিয়ে এলো প্রকৃতির আকাশ ছুঁয়ে
গুমোট বাতাসে গুড়গুড় মেঘ দিচ্ছে প্রকৃতি ধুঁয়ে।
মাঝে মাঝে দমকা হাওয়ায় শিরশির করে দেহ
তপ্ত বায়ু মেঘ এনেছে জানতে পারেনি কেহ।

হঠাৎ করে ধুলোঝড় এলো সারা আকাশ জুড়ে
জানালা দরজা আছড়ে পড়ে ভাঙে গরীবের কুঁড়ে।
গোধূলির মেঘ সরে গিয়েই বৃষ্টির মেঘ এলো
বজ্রনিনাদে হুংকার এসে প্রকৃতি শাসিয়ে গেল।

একটানা মেঘ বারী দিয়েই শান্ত করলো ধরা
উদাসী সন্ধ্যের মোহনীয় মেম একে দিয়ে গেল খরা!
শান্ত ধরা'য় অশান্ত মন পিছন ফিরে চাই
প্রকৃতির বুকে ভিন্নতার মাঝে শান্তি খুঁজে যাই।

রুদ্ররূপে যে মেঘ আসে বারীও ঢেলে দেয় সেই
একই আকাশ ফুটো হলেও তারা'রা হারায়না খেই।
প্রকৃতির কাছে আদর আছে শাসনেও সে কম নয়
মানুষের কাছে কি আর আছে অহংকারে বুঁদ হয়?

ভাবতে বসে একা লাগে প্রকৃতি চেয়ে দেখি
জীবন ধারণে আমিত্ব নয় মহত্ত্বের কথা লেখি।
সর্বজ্ঞানী মহান যিনি বানিয়েছেন এই ধরা
ফেরার জন্য তৈরী হওয়া আমাদের সবার ত্বরা।
..........................
শেওড়াপাড়া, ঢাকা।
কবি জিয়াউর রহমান 

আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।। মাসুদ পারভেজ

আমার জ্ঞান উত্কর্ষতা এতোই বিস্তৃত আমি স্রষ্টাকে খুঁজে পাই না,
হে জ্ঞান আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
আমার প্রখর দৃষ্টি অভেদ্য অসুন্দরের পূজার পূজারি করেছে নিজেকে,
হে দৃষ্টি আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
আমার প্রযুক্তি সবুজ প্রকৃতি বিনষ্ট করে অট্টালিকার আকাশে ছাদ করেছে,
হে প্রকৃতি আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
আমার ক্ষমতা আমাকে আলাদা করে করেছে মানুষ নামের প্রাণী থেকে,
হে সময় আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
আমার শিক্ষা মানবতার উল্টো পিটে চড়া ব্যবসার মালিকানা দিয়েছে,
হে শিক্ষা আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
আমার আদর্শ ভুল চেতনার উত্তরাধিকারের মশাল দিয়েছে হাতে,
হে পথ আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
আমার বিশ্বাস আমাকে মানিয়ে নিয়েছে আমিত্বের সর্বোচ্চ শিখরে,
হে বিশ্বাস আমাকে তুচ্ছ করে দাও ।
-
হে বিবেক আমাকে তুচ্ছ হতে শেখাও প্রতিটি বিমুগ্ধ মুহূর্ত হতে,
হে তুচ্ছ বিবেককে জাগ্রত করে দাও।
কবি ও সংগঠক মাসুদ পারভেজ

নারী ।। খাদিজা বেগম কান্তা

নও তুমি শুধু কামনার ফুল
নও তুমি তৃষ্ণার্ত ভ্রমরের বোল
নও তুমি শিহরিত মানস প্রিয়া
তুমি আজ বিমূর্ত মানবের কূল।

বিজন নিশীথে কাঁদবেনা আর
প্রজ্বলিত হও দহনে দূর্বার
তুমি শক্তি, তুমি শৌর্য তুমি বিমুক্ত অপার
জাগ নারী কম্পিত বজ্র নিনাদ।

নিজ মহিমায় প্রজ্বলিত তুমি
ধর কাণ্ডারি অশ্রু বিদায়ী
নও তুমি সামগ্রী নিঠুর পণ্য
দানবের তরে হও বজ্র কণ্ঠি।

অভিন্ন চারণে হও আগুয়ান
নও তুমি নারী শুধু হও গো মহান
মানবের তরে হও মাতৃ জায়া
বিদুষী, হরষে রাখি সঞ্চিত মায়া।

অদৃশ্য কারাগার শৃঙ্খলিত বেড়ী
গুড়িয়ে দাও নির্ভয়ে জড়তা ছাড়ি
সাম্যের জয়গানে হও গো সামিল
ঘরে বাহিরে হও মহীয়সী নারী।।
কবি খাদিজা বেগম কান্তা

সুখ পাখি ।। সাজিয়া আফরিন

সুখ পাখি তুই এতই উড়িস!
ধার দিবি তোর ডানা দু’টো?
ইচ্ছে মত উড়বো আমি,
ফেরত দেবো দু’দিন পরে।

আকাশ জুড়ে উড়বো আর
বলবো আমি সাত সতেরো
গপ্পো তোদের
সুখ পাখি, দিবি নাকি
তোর ডানা দু’টো?
আয়েশ করে তোকে বসতে দেবো
উষ্ণ নরম আসন দেবো
যা খেতে চাস খেতে দেবো
মিষ্টি মধুর ভরে আমার দু’মুঠো
ধার দিবি তোর ডানা দু’টো?

হরেক মনের খবর এনে দেবো
দে না ভাই তোর ডানা দু’টো!
তোকে আমি স্বপ্ন দেবো,
স্বপ্ন রঙিন পরিসর দেবো
ভালোবাসার কবিতা দেবো
উপমা-অনুপ্রাস উৎপ্রেক্ষা দেবো
তাল, লয়, ছন্দ দেবো, গানও দেবো ।

যা গানের সাথে সুরও দেবো
এবার দে তোর ডানা দু’টো।
কবি সাজিয়া আফরিন
সম্পাদক, আকাশছোঁয়া।